নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ডিভিসির জল ছাড়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যকে বিদ্রুপ করতে দেখা গিয়েছে বিজেপি নেতাদের। খোদ বিরোধী দলনেতাও মুখ্যমন্ত্রীর জলের ‘লক্ষ কিউবিক মিটার’ একক নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। এহেন পরিস্থিতিতে বিজেপির কটূক্তিকে হাস্যকর প্রমাণিত করে মুখ্যমন্ত্রীর দাবিকেই মেনে নিল কেন্দ্র। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের উদ্দেশে একটি প্রশ্ন রেখেছিলেন। তিনি জানতে চেয়েছিলেন, ডিভিসি চলতি মরশুমে কি ২৭ হাজার লক্ষ কিউবিক মিটার জল ছেড়েছে? উত্তরে মন্ত্রক জানিয়েছে, ‘হ্যাঁ, ১৮ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ডিভিসি মোট ২৭ হাজার ৯৮৭ লক্ষ কিউবিক মিটার জল ছেড়েছে।’
জুন, জুলাইয়ের রীতি বজায় রেখে আগস্ট মাসেও বিপুল জল ছাড়া হচ্ছে। বুধবার মাইথন ও পাঞ্চেত থেকে যথাক্রমে ৩২ হাজার এবং ২৮ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে। অর্থাৎ, এদিন মোট ৬০ হাজার কিউসেক হারে জল ডিভিসির বাঁধ থেকে আসছে নিম্ন দামোদর এলাকায়। যার জেরে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়া কার্যত নিশ্চিত।
কিন্তু, বাংলার প্রতি কেন এই নিষ্ঠুরতা? ব্যাখা দিয়েছেন দামোদর ভ্যালি রিজার্ভার রেগুলেটরি কমিটির মেম্বার সেক্রেটারি সঞ্জীব কুমার। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে জুন ও জুলাই মাসে যে পরিমাণ জল মাইথন ও পাঞ্চেতে জমা হয়েছিল, এবার সেই তুলনায় ১৬ গুণ বেশি এসেছে। তিনি পরিসংখ্যান দিয়ে দেখিয়েছেন, গত বছর জুলাই মাসে দু’টি বাঁধে জল এসেছিল ২ লক্ষ ২৫ হাজার ৩৪৫ একর ফুট। এবার এসেছে ২৭ লক্ষ ৪১ হাজার ৫৯৪ একর ফুট। তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালের পরিসংখ্যান থেকে তুলনা করলে দেখা যাবে, বাঁধে এবার তার থেকে ৪৩ গুণ বেশি জল এসেছে। তিনি স্পষ্টতই স্বীকার করে নিয়েছেন, যে পরিমাণ জল বাঁধে এসেছে, তা ছাড়া হয়েছে। তাঁর ব্যাখ্যা, টানা জল ছাড়া হচ্ছে। তাই একসঙ্গে ৭০ হাজার কিউসেকের বেশি জল ছাড়তে হয়নি। না হলে বাংলার অবস্থা আরও খারাপ হতো।
এই বিপুল জল সামাল দেওয়ার ক্ষমতা যে আর মাইথন ও পাঞ্চেতের নেই, তা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারের এই শীর্ষ আমলা। জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর এই বিস্ফোরক অভিযোগ ও রাজ্যসভায় ঋতব্রতের তোলা প্রশ্নের উত্তর পেতে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রক রিপোর্ট তলব করেছিল। মঙ্গলবারই ডিভিসির পক্ষ থেকে সেই রিপোর্ট দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ডিভিসি পরিকল্পনার সময় মোট সাতটি বাঁধ তৈরির কথা ছিল। কিন্তু, মাত্র চারটি বাঁধ তৈরি হয়েছে। তিনটি বাঁধ তৈরিই হয়নি। এতদিন যে পরিমাণ বৃষ্টি হতো, তাতে এই বাঁধেই কাজ চলে যেত। এখন পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। ডিভিসির দাবি সত্যি হলে, এক বছরে ১৬ গুণ জল বৃদ্ধি রীতিমতো উদ্বেগের। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিভিসি বকেয়া তিনটি বাঁধ তৈরি করতে কি উদ্যোগী হবে? এর কোনও সদুত্তর মেলেনি। সঞ্জীববাবু বলেন, যখন বাঁধগুলি ছিল না, তখন তো বাংলার মানুষ আট লক্ষ কিউসেক হারে অনিয়ন্ত্রিত জল সহ্য করেছে। নিজস্ব চিত্র