Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নবান্নের আপত্তি উড়িয়েই জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়াল ডিভিসি

রাজ্যের আপত্তি উপেক্ষা করেই মাইথন ও পাঞ্চেত থেকে জল ছাড়া অব্যাহত রেখেছে ডিভিসি। সেই সঙ্গে পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে।

নবান্নের আপত্তি উড়িয়েই জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়াল ডিভিসি
  • ৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: রাজ্যের আপত্তি উপেক্ষা করেই মাইথন ও পাঞ্চেত থেকে জল ছাড়া অব্যাহত রেখেছে ডিভিসি। সেই সঙ্গে পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে রাজ্যকে জানানো হয় জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়ানো হবে। পত্রপাঠ আপত্তি জানিয়েছিলেন সেচদপ্তরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার। তিনি চিঠিও দেন ডিভিসি কর্তৃপক্ষকে। তারপরও সিদ্ধান্তে অনড় থাকে তারা। মাইথন ও পাঞ্চেত থেকে জল ছাড়া হচ্ছে ১৫ জুন থেকে টানা ১৭ দিন। তার জেরে হুগলির খানাকুল ও হাওড়ায় আমতায় দামোদরের উপর থাকা বাঁধ ও নদীর পাড় সংস্কার করা যাচ্ছে না। 

Advertisement

নদীবাঁধ সংস্কার, ড্রেজিং সহ কোনও প্রকল্পেরই ২০১৫ সাল থেকে বাংলাকে টাকা দেয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। দুর্গাপুর ব্যারাজের সংস্কারের কাজ পরিদর্শনে এসে সেই দাবি করেছিলেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। বিশ্বব্যাঙ্কের আর্থিক সহযোগিতায় নিম্ন দামোদর এলাকায় নদী বাঁধ সংস্কার, নদী সংস্কারের কাজ করে সেচদপ্তর। গত বছর ডিভিসির দু’টি বাঁধ যথাক্রমে মাইথন ও পাঞ্চেত থেকে একযোগে ২ লক্ষ ৭৫ হাজার কিউসেক হারে জল ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তাতেই সেগুলির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্গাপুর ব্যারাজ সংস্কারের পাশাপাশি সেইসব  ক্ষতিগ্রস্ত অংশও সংস্কারের কাজ করছিল সেচদপ্তর।  সেই কাজ শেষ হওয়ার আগেই ১৫ জুন থেকে বাঁধ দুটি থেকে জল ছাড়া শুরু হয়। এই সতোরো দিনে একাধিক বার রাজ্যের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে জল ছাড়া নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। কিন্তু কানে তোলেনি ডিভিসি। জল ছাড়ার পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে দামোদর ভ্যালি রিজার্ভার রেগুলেশন কমিটি (ডিভিআরআরসি)। যেখানের সদস্য রয়েছে ডিভিসি, সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন ও ঝাড়খণ্ড সরকারের। সেই ডিভিআরআরসির মেম্বার সেক্রেটারি সঞ্জীবকুমার মঙ্গলবার রাত আটটা ১৫ মিনিট নাগাদ রাজ্যকে জানান, পাঞ্চেত থেকে ৪২ হাজার ৫০০ কিউসেক হারে এবং মা‌ইথন থেকে দিনে ১২০০ একর ফুট জল ছাড়া হবে। তৎক্ষণাৎ রা঩জ্যের সেচদপ্তরের মুখ্য বাস্তুকার তাঁকে চিঠি লিখে আপত্তি জানান। তিনি দাবি করেন, নিম্ন দামোদর এলাকায় সংস্কারের কাজ চলছে। জল ছাড়া বাড়ানো হলে সেই কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। পাল্টা চিঠিতে সঞ্জীব কুমার তাঁদের অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে দেন। সেই মতো জলছাড়াও শুরু হয়ে যায়। ফলে, এদিন সকাল থেকে দামোদর ব্যারাজে জলের চাপ বাড়ে। ৪২ থেকে ৪৪ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে। সেচদপ্তর সূত্রের দাবি, এবছরই প্রথম জুন মাসেও দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে সর্বোচ্চ ৮২ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়তে হয়েছে। 
সঞ্জীবকুমার বলেন, ঝাড়খণ্ডের তেনুঘাট ও কোনার থেকে বিপুল পরিমাণ জল পাঞ্চেতে জমা হচ্ছে। একই ভাবে মাইথনেও প্রতিদিন বিপুল জল জমা হচ্ছে। তাতে জলস্তর কয়েক মিটার করে বেড়ে যাচ্ছে। এছাড়া, ৫ জুলাই ফের মুষলধারে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। তাই বাঁধরক্ষার জন্য ধীরে ধীরে জল ছাড়াতে হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ