সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: বাঁশ খেয়েছেন? হাসিঠাট্টার আড্ডায় প্রায়ই এমন কথা শোনা যায়। কারও সমস্যায় পড়া বোঝাতে ‘বাঁশ খাওয়া’ প্রায়শই ব্যবহার হয়ে থাকে। কিন্তু সত্যি কি বাঁশ কেউ রান্না করে খায়। বর্ষার সময়ে পুরুলিয়া জেলার বিভিন্ন গ্রামে কচি বাঁশের তরকারি বেশ জনপ্রিয়। জঙ্গল এলাকার পাশে কিংবা গ্রামীণ হাটগুলিতে গেলেই কিনতে পাওয়া যায় কচি বাঁশের টুকরো। ফি বছর বর্ষার মরশুমে কচি বাঁশ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন অনেকেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ষার মরশুমে বিভিন্ন বাঁশের ঝাড়ে নতুন বাঁশ উঠতে শুরু করে। একেবারে কচি ওই বাঁশ পুরুলিয়ায় ‘করিল’ নামে পরিচিত। করিলের খোসা ছাড়িয়ে তা কুচি কুচি করে কেটে রান্না করা হয়। কেউ কেউ ঢেঁড়শ, ঝিঙে ও অন্য সব্জির সঙ্গে, কেউ অবার সজনে শাক দিয়ে রান্না করেন। অনেকেই আবার শুধু করিল আদা, রসুন, পেঁয়াজ ও অন্যান্য মশলা দিয়ে রান্না করে থাকেন। অনেকে আবার আচার তৈরি করে সারা বছর ধরে খেয়ে থাকেন। বাঘমুন্ডির জিলিংসেরেং গ্রামের বাসিন্দা চৈতন পাহাড়ীয়া বলেন, করিল হল বাঁশের কচি অংশ, ৬০ টাকা কিলো দরে হাটে বিক্রি হয়। তিনি আরও বলেন, জঙ্গলে ঘুরে প্রায় তিন দিন ধরে জোগাড় করতে হয়। তারপর তা কেটে বাড়িতে নিয়ে এসে ওপরের অংশ ছাড়াতে হয়। কেটে কুচি কুচি করতে হয়। তারপর তা হাটে গিয়ে বিক্রি করা হয়। তিনি আরও বলেন, করিল সারারাত ভিজিয়ে রেখে সকালে ওই জল ফেলে দেওয়ার পর রান্না করতে হয় কিংবা গরম জলে ভিজিয়ে ওই জল ফেলে দেওয়ার পর রান্না করা যায়। তা না হলে তেতো লাগে। তিনি আরও বলেন, আচারও তৈরি হয়। অনেকে আবার রোদে শুকিয়েও সারাবছর খেয়ে থাকেন। আশা পাহাড়ীয়া বলেন, এলাকায় তো কাজ নেই। বনের থেকে করিল সংগ্রহ করে তা বিক্রি করা হয়। বাঘমুন্ডির হাটে করিল বিক্রেতা খগেন লায়া বলেন, জঙ্গল থেকে এনেই বিক্রি করা হয়। হাটে ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা কিলোগ্রাম দরে বিক্রি হয়। শুধু আষাঢ়-শ্রাবণ মাসেই পাওয়া যায়। বাঁশের এই অংশ তরকারি বা সব্জি হিসেবে রান্না করে খেয়ে থাকেন। হালকা টক এবং একটা অদ্ভুত গন্ধ মেশানো এই করিল বর্ষার মরশুমে পুরুলিয়ার বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় জনপ্রিয় খাবার হিসেবে পরিচিত। বুড়দা হাটে করিল কিনতে আসা অখিল মাহাত, বাঘমুন্ডির ছুটুলাল মাহাত বলেন, করিলের স্বাদই আলাদা। নিজে না খেয়ে দেখলে করিলের স্বাদ বোঝানো দুষ্কর। তবে একাধিক শাক এবং সব্জির সঙ্গে করিল মেশানো হলে তরকারির স্বাদ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। -নিজস্ব চিত্র