Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্গাপুর ধর্ষণ মামলা: সাক্ষ্য গ্রহণে গরহাজির নির্যাতিতার আইনজীবী

দুর্গাপুরে ডাক্তারি পড়ুয়ার গণধর্ষণ কাণ্ডের তদন্তে নিযুক্ত সাইবার বিশেষজ্ঞের কোনও সরকারি শংসাপত্র নেই।

দুর্গাপুর ধর্ষণ মামলা: সাক্ষ্য গ্রহণে গরহাজির নির্যাতিতার আইনজীবী
  • ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: দুর্গাপুরে ডাক্তারি পড়ুয়ার গণধর্ষণ কাণ্ডের তদন্তে নিযুক্ত সাইবার বিশেষজ্ঞের কোনও সরকারি শংসাপত্র নেই। বৃহস্পতিবার দুর্গাপুর আদালতের বিচারক লোকেশ পাঠকের এজলাসে সাক্ষী দিতে আসেন পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর মহম্মদ আফজাল রাজা। সাইবার বিশেষজ্ঞ হিসাবে উনি নির্যাতিতার মোবাইল থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ প্রযুক্তির সাহায্যে বের করেছেন। এদিন অভিযুক্তের আইনজীবী তাঁকে প্রশ্ন করেন আপনি যে সাইবার বিশেষজ্ঞ কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তার কোনও শংসাপত্র আছে। আরও প্রশ্ন ছিল আপনি কি সাইবার বিশেষজ্ঞ হিসেবেই পুলিশের চাকরিতে নিযুক্ত হয়েছেন। দুই ক্ষেত্রেই সাক্ষী বলেন ‘না’। 

Advertisement

মোবাইল থেকে ডেটা সংগ্রহের একাধিক নিয়মের কথা উল্লেখ করেন অভিযুক্তের আইনজীবী শেখর কুণ্ডু। এইসব নিয়মগুলি তাঁর যে জানা নেই তাও স্বীকার করে নেন পুলিশের ওই অফিসার। এমনকি নির্যাতিতার মোবাইল থেকে তথ্য সংগ্রহ করার পর হ্যাস ভ্যালু তিনি নেননি বলেই জানা গিয়েছে। মামলা তথ্য প্রমাণ হিসেবে উনি যে সার্টিফিকেট দিয়েছেন সেখানেও হ্যাস ভ্যালুর ঘর ফাঁকা। স্বাভাবিকভাবেই পুলিশি তদন্তের একগুচ্ছ ত্রুটি এদিন প্রকাশ পায়। হ্যাস ভ্যালু হল একটি একক যা ইলেকট্রনিক সামগ্রীর ভেতরে থাকা ডেটার পরিমাপ উল্লেখ করে। মোবাইল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসে তথ্য আদান প্রদান করলে হ্যাজ ভ্যালু পরিবর্তন হয়ে যায়। 
যদিও এই মামলায় সাইবার বিশেষজ্ঞের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের শুরুতেই নির্যাতিতার আইনজীবী গরহাজির ছিলেন। এদিন বিচারক লোকেশ পাঠক জানতে চান অভিযোগকারীর পক্ষ থেকে কোনও আইনজীবী আদালতে রয়েছেন? একজন আইনজীবীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ওখন সরকারি আইনজীবী বলেন এই মামলায় নির্যাতিতার হয়ে একজন নন, একাধিক আইনজীবী প্রথম দিকে আসতেন। শুনানি পর্বের একেবারে শেষে একজন আইনজীবী এসেছিলেন। বিচারক বলেন, একবার করে অন্তত মুখটা দেখাবেন। উল্লেখ্য এই নির্যাতিতার আইনজীবী নিয়োগের ক্ষেত্রে বিজেপি সবচেয়ে বেশি তৎপর ছিল। বিজেপির পক্ষ থেকেই নির্যাতিতার পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়। কিন্তু, শুনানি পর্বে তাঁদের দেখা না যাওয়ায় আদালত চত্বরে এনিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। 
ধর্ষণ কাণ্ডে ধৃত নির্যাতিতা ডাক্তারি পড়ুয়ার সহপাঠী ওয়াসিফ আলির বিরুদ্ধে চার্জশিটে পুলিশ ধর্ষণের ধারা রেখেছে। নির্যাতিতার সঙ্গে অভিযুক্তর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এই মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি। নির্যাতিতার বাজেয়াপ্ত করা মোবাইল থেকে সেই চ্যাটের নথি বের করতেই একজন সাইবার বিশেষজ্ঞকে পাঠানোর আর্জি জানান তদন্তকারী অফিসার। সেই অনুযায়ী মহম্মদ আবদুল রাজাকে দুর্গাপুরে পাঠানো হয়। দুর্গাপুর আদালতের ভারপ্রাপ্ত এসিজিএমের উপস্থিতিতে মোবাইল থেকে সেই নথি বের করা হয়। এই তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযুক্তের আইনজীবী। তিনি প্রশ্ন করেন কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম(ইন্ডিয়া) ম্যানুয়াল অনুযায়ী আপনি নির্যাতিতার মোবাইল আইসোলেশন করেছিলেন। এই ম্যানুয়াল অনুযায়ী মোবাইল সংরক্ষিত করা হয়েছিল। তিনি বলেন, এটা আমার জানা নেই। আইনজীবী বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ফ্যারাডে ব্যাগের মাধ্যমে মোবাইল সংরক্ষিত করে রাখা হয়। এক্ষেত্রে কী হয়েছিল? বিশেষজ্ঞ জানান, আমার জানা নেই।  একজন বর্ষীয়ান আইনজীবী হয়ে শেখরবাবু এই আধুনিক বিষয়ে জানলেন কীভাবে বিচারকের এই প্রশ্নের উত্তরে বেরিয়ে আসে আরেকটি চাঞ্চল্যকর তথ্য। রাজ্য সরকার এই মামলার গুরুত্ব বুঝে খ্যাতনামা সাইবার বিশেষজ্ঞ আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়কে নিযুক্ত করেছে। শেখরবাবু জানান, বিভাসবাবুর বই পড়েই এইসব শিখে নিয়েছি। হাসির ছলে বিভাসবাবু বলেন, চক্রব্যূহে ঢোকার রাস্তা দেখিয়েছি বেরনোর রাস্তা লিখিনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ