নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস ঘিরে শাসকদলের লাগাতার প্রচারের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী আসছেন দুর্গাপুরে। বিজেপির দাবি, প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার নেহেরু স্টেডিয়ামে সভা করার পাশাপাশি রোড শো করবেন গান্ধী মোড় থেকে নেহেরু স্টেডিয়াম পর্যন্ত। তারজন্য বাড়ি বাড়ি ঘুরে বাজারহাট, দোকানে আমন্ত্রণপত্র বিলি করছেন বিজেপি নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। ইতিমধ্যেই তাঁরা ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচিকে সামনে রেখে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে পথসভা, মিছিল করছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ২১ জুলাইয়ের স্মৃতি উষ্কে দিয়ে সেদিনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতারা। প্রধানমন্ত্রীর সফরের ঠিক একদিন আগে পানাগড়ে মহামিছিলের ডাক দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেখানে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি জাহির করবে তৃণমূল কংগ্রেস। দুই দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে সরগরম শিল্পাঞ্চল।
প্রশাসনিক সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ২ টো ৩৫ মিনিটে অণ্ডাল বিমান বন্দরে নামবেন প্রধানমন্ত্রী। সড়ক পথে তিনটের সময়ে এসে পৌঁছবেন নেহরু স্টেডিয়ামে। বিজেপি দাবি, এই সময়েই মধ্যেই গান্ধী মোড় থেকে নেহরু স্টেডিয়াম পর্যন্ত রাস্তার দু’ পাশে বিজেপির কর্মী সমর্থকরা তাঁকে স্বাগত জানাবেন। দুপুর ৩টে থেকে ৩টে ৩৫ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকল্পের সূচনা করে বিজেপির রাজনৈতিক সভায় উঠবেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সফরসূচিকে সফল করতে এক ডজন এমপি, এমএলএ পড়ে রয়েছেন দুর্গাপুরে। সোমবার দুর্গাপুরে বৈঠক করেন বিজেপি কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনশল। সকালে মামড়া বাজারে প্রধানমন্ত্রীর সভার আমন্ত্রণপত্র বিলি করেন এমপি জ্যোতির্ময় সিং মাহাত ও বিধায়ক লক্ষণ ঘোড়ুই। যদিও বার্নপুর স্টেশনে প্রধানমন্ত্রীর সভার প্রচার করতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েন বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক অগ্নিমিত্রা পল। স্থানীয় বিধায়ককে হাতের কাছে পেয়ে ট্রেন লেটের সমস্যা তুলে ধরেন নিত্যযাত্রীরা। করোনা কাল থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ট্রেনগুলি ফের চালু করার আর্জি জানান বাসিন্দারা। এদিন বিধায়ক নিজেই লক্ষ্য করেন, কী ভোগান্তি সহ্য করতে হয় সাধারণ মানুষকে। দুপুর ১১টার সময়ে পুরুলিয়া অভিমুখে যাওয়া মেমু প্যাসেনজারে প্রচার চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন অগ্নিমিত্রা। দুপুর বারোটা পর্যন্ত বার্নপুর স্টেশনে সেই ট্রেন আসেনি। তখনই মিহির চাঁদ সহ একাধিক যাত্রী বিধায়ককে রেলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানাতে থাকেন। অগ্নিমিত্রা পল বলেন, দেড় মাস আগেই দক্ষিণ-পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজারকে চিঠি লিখেছিলাম। সমস্যা সমাধান হয়নি তাঁর সঙ্গে দেখা করে ফের সমস্যা জানাব। আদ্রার ডিআরএম সুমিত নারুলা বলেন, ওই লাইনে ট্রেন লেটের সমস্যা রয়েছে। আমরা সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করছি। বিজেপি যেমন প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিকে সামনে রেখে প্রচারে ঝড় তুলতে চাইলে তৃণমূলও তেমনি ২১ জুলাইকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ময়দানে নিজেদের সাংগঠনিক ক্ষমতা জাহির করছে। আসানসোল, রানিগঞ্জ, দুর্গাপুর, পাণ্ডবেশ্বর সর্বত্র মিটিং ও মিছিল হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি ২১ জুলাই ধর্মতলায় যাওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। মন্ত্রী মলয় ঘটক থেকে বিধায়ক তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় ২১ জুলাইয়ের তাৎপর্য সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ করে ব্যাখ্যা করছেন। বিজেপির তৎপরতা দেখে তৃণমূলও বাড়তি উদ্যাম নিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি করছে। তারই অঙ্গ হিসাবে প্রধানমন্ত্রীর আসার আগের দিন পানাগড়ে মহামিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। তেমনি বুধবার প্রশাসনিক অনুমতি পেলে বড় কর্মসূচি শাসক দল করবে বলে জানিয়েছেন তৃণমূল জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।