Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্গাপুর গণধর্ষণ: গরহাজির নির্যাতিতার আইনজীবী, আক্ষেপ সরকারি কৌঁসুলির

দুর্গাপুর গণধর্ষণ মামলার শুনানিতে গরহাজির নির্যাতিতার আইনজীবী।

দুর্গাপুর গণধর্ষণ: গরহাজির নির্যাতিতার আইনজীবী, আক্ষেপ সরকারি কৌঁসুলির
  • ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: দুর্গাপুর গণধর্ষণ মামলার শুনানিতে গরহাজির নির্যাতিতার আইনজীবী। শুক্রবার শুনানি পর্বে বিষয়টি নিয়ে এজলাসে আক্ষেপ করতে দেখা যায় রাজ্য সরকারের নিযুক্ত বিশেষ সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়কে। মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেতে এক ঝাঁক দুঁদে আইনজীবী নিযুক্ত করেছে অভিযুক্তদের পরিবার। প্রায় প্রতি পদক্ষেপে সরকারি আইনজীবীর সঙ্গে তাঁদের তুমুল বাকবিতণ্ডা হচ্ছে। এদিন তারই মাঝে বিভাস চট্টোপাধ্যায়কে বলতে শোনা যায়, ডিফেক্টো আইনজীবীকে তো দেখাই যাচ্ছে না। গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পরই নির্যাতিতার পরিবারকে হাইজ্যাক করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল বিজেপির বিরুদ্ধে। বিজেপি লিগ্যাল সেলের পক্ষ থেকেই পার্থ ঘোষকে নির্যাতিতার আইনজীবী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই পার্থবাবু বা তাঁর কোনও জুনিয়রকে এই মামলার শুনানিতে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে না।

Advertisement

এই নিয়েই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, দুর্গাপুর গণধর্ষণ কাণ্ড থেকে বিজেপি কাঙ্ক্ষিত ফল না পেতেই কি মামলা থেকে পিঠটান দিয়েছেন তাঁরা। নির্যাতিতার প্রকৃত বিচার দেওয়া কি তাদের লক্ষ্য ছিল না। তাদের লক্ষ্য কি ছিল শুধুই রাজনৈতিক ফায়দা তোলা। আইনজীবী মহলে এনিয়ে জোর গুঞ্জন। একে হাতিয়ার করে আক্রমণে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেসও। 
রাজ্যের পঞ্চায়েত ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, পুলিশ ও রাজ্য সরকার তৎপরতার সঙ্গে নির্যাতিতাকে ন্যায় বিচার দিতে সচেষ্ট। বিজেপি এ থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করেছিল। নির্যাতিতার পরিবারকে ভুল বুঝিয়ে তাঁদের হয়ে আইনজীবী দিয়ে পাশে দাঁড়ানোর নাটক করেছিল। নির্যাতিতার সঠিক বিচার দিতে লড়ছে সরকার পক্ষই, ভ্যানিশ বিজেপির আইনজীবী সেল। 
বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ ভিত্তিহীন। গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলিতে আমাদের লিগ্যাল সেলের আইনজীবী পার্থবাবু নির্যাতিতার হয়ে সওয়াল করতে আসবেন। নির্যাতিতার ন্যায় বিচারের জন্য আমাদের লড়াই জারি রয়েছে। 
নির্যাতিতার আইনজীবী পার্থ ঘোষ বলেন, হাইকোর্টে আমার একাধিক মামলা রয়েছে জুনিয়রদের শুনানিতে অংশ নিতে বলেছিলাম, কী হয়েছে খোঁজ নিচ্ছি। এখনও পর্যন্ত মামলার গতিপ্রকৃতি সঠিক দিকেই যাচ্ছে। অন্যথা হলে আমরা পদক্ষেপ করব। 
শুক্রবার এই মামলায় সাক্ষ্য দিতে হাজির হন তৎকালীন দুর্গাপুর নিউ টাউনশিপ থানার এএসআই রামচন্দ্র পাল। নির্যাতিতার সহপাঠী ওয়াসিফ আলিকে গ্রেফতার করার সময়ে তদন্তকারী অফিসার তাকে সার্চ করে মোবাইল বাজেয়াপ্ত করেন। এই ঘটনার সাক্ষী ছিলেন এই এএসআই।  পাশাপাশি চার অভিযুক্ত ওয়াসিফ আলি, শেখ নাসিরউদ্দিন ওরফে সম্রাট, অপু বাউরি ও ফিরদৌস শেখের শরীরী নমুনা পরীক্ষা করাতে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন এই অফিসার। অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ এই সাক্ষীকেও প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেন অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী শেখর কুণ্ডু ও সৌমেন মিত্র দাস। মামলার স্বার্থে তাদের সঙ্গে দফায় দফায় বাদানুবাদে  জড়ান সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়। এক্ষেত্রে নির্যাতিতার আইনজীবীকে সঙ্গে পেলে তাঁর পক্ষে যে সুবিধা হতো, তা তাঁর কথা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়। শুধু এই দিনের ঘটনাই নয়, শুনানি পর্বে একাধিক সময়ে নির্যাতিতার আইনজীবী না থাকার সুবিধা অভিযুক্তদের আইনজীবীরা পেয়েছে বলে আইনজীবী মহলের একাংশের অভিমত। সরকারপক্ষের আইনজীবীর না আসা, দেরিতে আসা নিয়ে বিচারক ও অভিযুক্তদের আইনজীবীরা সরব হলেও নির্যাতিতার পক্ষ থেকে কোনও আইনজীবীকে প্রশ্ন তুলতে দেখা যায়নি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ