Bartaman Logo
২৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্গাপুর গণধর্ষণ: মূল অভিযুক্ত ফিরদৌসই, পুলিশি তদন্তে সিলমোহর

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আগেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, দুর্গাপুরে গণধর্ষণ-কাণ্ডে ধর্ষক একজনই। টিআই প্যারেডে নির্যাতিতা ডাক্তারি পড়ুয়াও এই তত্ত্বে সিলমোহর দিয়েছেন।

দুর্গাপুর গণধর্ষণ: মূল অভিযুক্ত ফিরদৌসই, পুলিশি তদন্তে সিলমোহর
  • ২৮ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আগেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, দুর্গাপুরে গণধর্ষণ-কাণ্ডে ধর্ষক একজনই। টিআই প্যারেডে নির্যাতিতা ডাক্তারি পড়ুয়াও এই তত্ত্বে সিলমোহর দিয়েছেন। আর সেই ধর্ষক ধৃত পাঁচ দুষ্কৃতীদের মধ্যে একজন। নাম ফিরদৌস শেখ। স্থানীয় প্রভাবশালী এক নেতার ঠিকাদারি সংস্থার কর্মী। ধৃত তরুণীর সহপাঠী ওয়াসিফ আলি পূর্ব পরিচিত বলে তাকে টিআই প্যারেডে হাজির করাননি তদন্তকারীরা। তবে, সেদিন তার ভূমিকা সন্দেহের ঊর্ধ্বে ছিল না বলে পুলিশের একটি সূত্রের মত। এদিকে, রবিবার নির্যাতিতাকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ওড়িশায় তাঁর বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

Advertisement

সোমবার দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে টিআই প্যারেডের রিপোর্ট রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়। সেখানে দেখা গিয়েছে, প্যারেডে ধৃত পাঁচ অভিযুক্তকেই চিহ্নিত করেছেন নির্যাতিতা। ঘটনাস্থলে তাদের কার কেমন ভূমিকা ছিল, তাও সংশোধনাগারে উপস্থিত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে ছবির মতো বর্ণনা করেছেন তিনি। সেই মতো ম্যাজিস্ট্রেট ওই রিপোর্ট তৈরি করেছেন। সূত্রের খবর, রিপোর্টে ফিরদৌসকে চিহ্নিত করার পাশাপাশি নির্যাতিতা জানিয়েছেন, উপস্থিত পাঁচজনের মধ্যে একমাত্র ফিরদৌসই তাঁর উপর পাশবিক অত্যাচার করেছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তা হলে কি ঘটনাটিকে গণধর্ষণ বলা যাবে? আইনজ্ঞদের ব্যাখ্যা, অবশ্যই এটি গণধর্ষণের ঘটনা। একজন ধর্ষণ করলে এবং বাকিরা তাকে সহযোগিতা করলে প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই গণধর্ষণের ধারাতেই অভিযোগ বলবৎ থাকবে। সেক্ষেত্রে ওয়াসিফও পার পাবে না বলে মত আইনি বিশেষজ্ঞদের। 
দুর্গাপুরে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার তদন্তে প্রায় সব ধাপ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করেছে পুলিশ। ফলে, মামলারও দ্রুত নিষ্পত্তি চাইছেন দুর্গাপুরবাসী। এদিন দুর্গাপুরে এসিজেএম শুভ্রকান্তি ধরও মামলার শুনানিতে  বলেন, ‘আমরা চাই, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হোক। চার্জশিট জমা পড়ে গেলেই শুনানি শুরু হয়ে যাবে।’ ৩১ অক্টোবর শুক্রবার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন তিনি। যদিও নির্যাতিতার আইনজীবী পার্থ ঘোষ চেয়েছিলেন নভেম্বর মাসে শুনানি করতে। বিচারক জানিয়ে দেন, নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে বলেই চলতি মাসেই শুনানির দিন স্থির করলাম। আপনার মক্কেল যাতে দ্রুত বিচার পান, সে বিষয়ে আমরা সচেষ্ট। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ‘আমি যতটুকু জেনেছি, খুব দ্রুত এই মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে।’ বিষয়টি নিয়ে সরকারি আইনজীবী সিদ্ধার্থ বসুরও মতামত জানতে চেয়েছিলেন তিনি। সিদ্ধার্থবাবু জবাবে বলেন, ‘খুব দ্রুত মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে।’ সূত্রের খবর, ফরেন্সিক রিপোর্ট পুলিশের হাতে চলে এলেই ৩১ অক্টোবর অর্থাৎ শুক্রবারই চার্জশিট দেওয়া হতে পারে।
নির্যাতিতার আইনজীবী পার্থ ঘোষ বলেন, ‘এদিন নির্যাতিতার টিআই প্যারেডের রিপোর্ট আদালতে জমা পড়েছে। সেখানে নির্যাতিতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন ফিরদৌস শেখ তাঁকে ধর্ষণ করেছে। তা বলে সহপাঠীর ভূমিকাকে আমরা আড়াল করছি না।’ শুনানির সময় বিচারক পার্থবাবুর কাছে নির্যাতিতার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। জবাবে তিনি জানান, রবিবার নির্যাতিতা ওড়িশায় নিজের বাড়িতে গিয়েছেন। তাঁকে এসকর্ট করে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে পুলিশ। 
এদিন, ফিরদৌস সহ ধৃত অভিযুক্তদের ভার্চুয়ালি আদালতে হাজির করানো হয়। তাদের পক্ষে কোনও আইনজীবী ছিলেন। বিচারক সবার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, তাদের কোনও বক্তব্য রয়েছে কি না। সবাই একবাক্যে বলে, আমরা নির্দোষ। আমাদের জামিন দেওয়া হোক। বিচারক পত্রপাঠ তাদের আর্জি খারিজ করে দেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ