নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: পাথর মাফিয়া টুলু মণ্ডল কাণ্ডে সাতদিনের পুলিশি হেপাজত শেষে রবিবার অনুব্রত মণ্ডলের প্রাক্তন দেহরক্ষী সেহগাল হোসেনকে ফের আদালতে পেশ করল পুলিশ। এদিন তদন্তের স্বার্থে তাঁকে আরও জেরা করার জন্য নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় পুলিশ। সেই আর্জি মঞ্জুর করে আদালত ফের তাঁকে চারদিন পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
এদিন সিউড়ি আদালতে সেহগালের হয়ে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী শাহরুখ আলি খান। কিন্তু বিচারক সেই আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবারই সেহগালের মুর্শিদাবাদের ডোমকলের গ্রামের বাড়িতে দীর্ঘ তল্লাশি চালিয়েছেন তদন্তকারীরা। সেখান থেকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে। সেই নথির সূত্র ধরে এবং তদন্তের জাল আরও বিস্তৃত করতেই এদিন চারদিনের হেপাজতের আবেদন জানানো হয়। যদিও সেহগালের আইনজীবীর দাবি, উদ্ধার হওয়া ওইসব নথির সঙ্গে তাঁর মক্কেলের কোনো সম্পর্ক নেই।
উল্লেখ্য, গত ১৪আগস্ট রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ বীরভূম জেলা পুলিশের বিশাল বাহিনী সেহগালের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে আচমকা হানা দেয়। রাত গড়িয়ে স্বাধীনতা দিবসে দিনভর চলে সেই ম্যারাথন তল্লাশি। ফ্ল্যাট থেকে নগদ ১২ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা, প্রায় ৮০০ গ্রাম সোনা এবং বেশকিছু পাকিস্তানি ও আরবীয় মুদ্রা উদ্ধার হয়। প্রায় দেড়শোটি জমির দলিলের হদিশ মেলে। বীরভূম তো বটেই, বর্ধমান ও মুর্শিদাবাদেও তাঁর নামে-বেনামে প্রচুর জমি রয়েছে বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশ জানিয়েছে, ডোমকলের বাসিন্দা সেহগাল আদতে বাবার মৃত্যুর পর ‘ডাই ইন হারনেস’-এ রাজ্য পুলিশে কনস্টেবলের চাকরি পেয়েছিলেন। কিন্তু অনুব্রতর নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তাঁর ভোলবদল শুরু হয়। অভিযোগ, সাধারণ এক কনস্টেবল হয়েও তিনি ধীরে ধীরে গোটা জেলার বালি, পাথর, কয়লা, গোরু পাচার থেকে শুরু করে সরকারি কাজের বেআইনি কাটমানি আদায়ের প্রধান ‘ক্যাশিয়ার’হয়ে ওঠেন। কয়েক বছরের মধ্যেই নিউটাউন, বোলপুর, মুর্শিদাবাদে একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, প্রচুর জমি সহ বিপুল সম্পত্তির মালিক হন। ২০২২ সালের ৯ জুন গোরু পাচার কাণ্ডে অনুব্রতর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাতেও তিনি গ্রেপ্তার হন। তাঁর আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন বিপুল সম্পত্তির বহর দেখে তাজ্জব হয়েছিলেন আধিকারিকরা।
তদন্তকারীদের দাবি, দাপুটে তৃণমূল নেতার ছত্রছায়ায় থাকার সুবাদেই পাথর মাফিয়া টুলুর সঙ্গে সেহগালের আঁতাত গড়ে ওঠে। তিনি নিজেও পাথর ব্যবসায় নামেন। পাচামিতে লাভজনক পাথর খাদানও রয়েছে তাঁর। এক শীর্ষ পুলিশকর্তার হুঁশিয়ারি, টুলুর পে-রোলে যাঁরা যাঁরা আছেন প্রত্যেকের কাছে পৌঁছাব আমরা। এখনও পর্যন্ত যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের মাধ্যমেই আসল মাথাদের হদিশ পেতে এই তল্লাশি চলছে। এদিন আদালতে সেহগাল বলেন, ‘আইন আদালতের উপর আমার ভরসা আছে।’