নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: ‘জতুগৃহ’ রায়গঞ্জের মোহনবাটি বাজার। দীর্ঘ বছর ধরে রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়া, প্রশাসনিক উদ্যোগের অভাব সহ একগুচ্ছ কারণে বাজারটির অবস্থা বেহাল। সেই সঙ্গে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। বিগত সাত দিনে রাজ্যে একের পর এক অগ্নিকাণ্ড ও সেই সঙ্গে খোদ রায়গঞ্জে সাইকেল কারখানায় আগুন লাগার পর মোহনবাটি বাজার নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যে রাজ্যের দমকল প্রতিমন্ত্রী তথা রায়গঞ্জের বিধায়ক কৌশিক চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বাজারে ‘ওয়াটার রিজার্ভার’ তৈরী সহ একগুচ্ছ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, কমপক্ষে তিন বিঘা জমির উপর বিস্তৃত রায়গঞ্জের এই প্রাচীন বাজারটি। যেখানে এক হাজার ছোট বড়ো ব্যবসায়ী আছেন। ২৫০-র বেশি স্টল আছে। দেশভাগ, পরবর্তীতে অবিভক্ত দিনাজপুর ভেঙে উত্তর দিনাজপুর নতুন জেলা রূপের আত্মপ্রকাশের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত রায়গঞ্জ শহরের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিবর্তনের সঙ্গে বাজারটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। তবু আজও ঐতিহ্যবাহী এই মোহনবাটি বাজারে বটগাছের ঝুঁড়ির মতো ইলেকট্রিক তারের ছড়াছড়ি। যে কোনো সময় শর্টসার্কিটের ঝুঁকি রয়েছে।
বাজারে প্রবেশ ও বেরোনো, দু’দিকের পথ দখল হয়ে থাকে সবজি ও ফল বিক্রেতাদের পসরায়। অসংখ্য কালো প্লাস্টিকের ছাউনিতে ঢেকে থাকে গোটা বাজার চত্বর। এই অবস্থায় কোনো ভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে গোটা বাজারটি আগুনে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ী মহলের।
মোহনবাটি বাজার ব্যবসায়ী ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক অপূর্ব পাল বলেন, প্রায় সাত-আট বছর আগে মোহনবাটি বাজারে একটি দশকর্মার দোকানে আগুন লাগে। আজও সেই ভয়াবহ স্মৃতি ভোলার নয়। শর্ট সার্কিট থেকে লাগা ওই আগুনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর। তারপরও মোহনবাটি বাজারের একাংশ ব্যবসায়ী রাস্তা দখল করে পসরা সাজিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছেন। কোনো ঘটনা ঘটলে দমকলবাহিনীর একটি ইঞ্জিন ওই রাস্তা দিয়ে বাজারের ভিতর পর্যন্ত ঢুকতে পারবে না। আমরা ব্যবসায়ীদের সাবধান করলেও বাজারের একাংশ ব্যবসায়ী দায়িত্বজ্ঞানহীন ভূমিকা নেন। ফলে বাজারের ভিতর চলাচলের পথ দখল হয়ে আছে। আমরা সম্প্রতি রাজ্যের দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরীকে বাজার চত্বরে ওয়াটার রিজার্ভার, ব্যবসায়ীদের জন্য শৌচাগার, পুলিশ ফাঁড়ি বসানোর ব্যাপারে দরবার করেছি। রায়গঞ্জ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক অতনুবন্ধু লাহিড়ি বলেন, আমরা ব্যবসায়ীদের স্বার্থে মোহনবাটি বাজারের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য মন্ত্রীকে আবেদন জানিয়েছি।