Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্গাপুর গণধর্ষণ: হল না চার্জ গঠন, পরবর্তী শুনানি ১০ নভেম্বর

দুর্গাপুরে ডাক্তারি পড়ুয়ার গণধর্ষণের মামলায় ডিসচার্জ পিটিশন জমা করলেন অভিযুক্তের আইনজীবী। এদিকে মঙ্গলবারও মামলার চার্জ গঠন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সরকার পক্ষের আইনজীবী।

দুর্গাপুর গণধর্ষণ: হল না চার্জ গঠন, পরবর্তী শুনানি ১০ নভেম্বর
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: দুর্গাপুরে ডাক্তারি পড়ুয়ার গণধর্ষণের মামলায় ডিসচার্জ পিটিশন জমা করলেন অভিযুক্তের আইনজীবী। এদিকে মঙ্গলবারও মামলার চার্জ গঠন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সরকার পক্ষের আইনজীবী। মঙ্গলবার দুর্গাপুর আদালতের স্পেশাল কোর্ট কাম অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট অ্যান্ড সেশন জাজ লোকেশ পাঠকের এজলাসে মামলাটি ওঠে। সরকার পক্ষ মামলার চার্জ গঠনের জন্য সচেষ্ট হতেই বিরোধিতা করেন নির্যাতিতার সহপাঠী ওয়াসিফ আলির আইনজীবী অনুভব পাঠক। তিনি বিচারকের কাছে একটি পিটিশন জমা করেন। তিনি বলেন, আমি একটি পিটিশন করেছি যাতে আমাদের সময় দেওয়া হয়। আমরা আমার মক্কেলের হয়ে ডিসচার্জ পিটিশন জমা করব। যা শুনে তীব্র আক্রমণ করেন সরকার পক্ষের বিশেষ সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, আইনে এমন কোনও ধারা নেই, যেখানে ডিসচার্জ পিটিশন করব বলে সময় চেয়ে পিটিশন করা যায়। এই আবেদন ধর্তব্যেই আনা যায় না। বিচারকও জানান, আপনারা ডিসচার্জ পিটিশন করলে এদিনই করতে হবে। তার জন্য আমি শুনানির দিন রাখতে পারি। কিন্তু ডিসচার্জ পিটিশন করব বলে সময় চাওয়া যায় না। এরপরে সরকারি আইনজীবী বলেন, আমরা সরকারপক্ষ দু’ মাসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে চাইছি। কিন্তু একজন অভিযুক্ত বিভিন্ন আবেদনের অছিলায় মামলাটিকে দীর্ঘায়িত করতে চাইছেন। গণধর্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সময় নষ্টের চেষ্টা করা হচ্ছে। 

Advertisement

বিচারকের নির্দেশ মেনে অভিযুক্ত সহপাঠীর আইনজীবী এদিনই এজলাসে ডিসচার্জ পিটিশন জমা করেন। বিচারক অভিযুক্তের ডিসচার্জ পিটিশনের নিষ্পত্তি করার জন্য ১০ নভেম্বর পরবর্তী শুনানের দিন ধার্য করেন। ডিসচার্জ পিটিশন নিষ্পত্তি করার পর চার্জ গঠন করা হবে বলেও বিচারক স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেন। সোমবার এই মামলার শুনানির দিন সহপাঠীর আইনজীবীর পক্ষ থেকে দু’টি পিটিশন জমা করা হয়েছিল আদালতে। তাঁরা দাবি করেছিলেন, নিউ টাউনশিপ, দুর্গাপুর, বি জোন ফাঁড়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দিতে হবে। পরবর্তী পিটিশনে তাঁরা দাবি করেছিলেন, অপরিণত চার্জশিট জমা পড়েছে। মামলার তদন্ত স্থগিত রাখা হোক। আদালত এই দু’টি আর্জি খারিজ করে দিয়েছে। 
ডিসচার্জ পিটিশন কী?  আইনজীবীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত যদি মনে করেন, তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তকারী অফিসার অন্যায় ধারা যুক্ত করেছেন। তাহলে আইনজীবের মাধ্যমে যে পিটিশন জমা করা হয়, তাকেই ডিসচার্জ পিটিশন বলা হয়। অর্থাৎ তিনি এই ধারায় অভিযুক্ত নন, তাঁকে যেন ট্রায়াল প্রক্রিয়া থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। ডিসচার্জ পিটিশনের নিষ্পত্তি না করে চার্জগঠন করা যায় না। অভিযুক্তের আইনজীবী আইনের এই ধারাকেই ব্যবহার করেন। অভিযুক্তের আইনজীবী অনুভব পাঠক বলেন, আমার মক্কেল এই ঘটনার সঙ্গে কোনওভাবেই যুক্ত নয়, তাঁর বিরুদ্ধে ১৩টি ধারায় মামলার রুজু করা হয়েছে। আমরা তাই ডিসচার্জ পিটিশন করেছি। 
অন্যদিকে গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ছয়জনের মধ্যে দুজনকে রাজসাক্ষী করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল আদালতে। দুই অভিযুক্ত শেখ রিয়াজউদ্দিন ও সফিক শেখ আগেই বিচারকের কাছে গোপন জবানবন্দি দিয়েছিলেন। এদিন বিচারক লোকেশ পাঠক অভিযুক্তদের পৃথক পৃথক ভাবে নিজের ঘরে ডাকেন। জানতে চাওয়া হয়, তারা রাজসাক্ষী হতে রাজি কি না। এই প্রসঙ্গে বাইরে তারা কোনও মন্তব্য না করলেও জানা গিয়েছে, তারা রাজসাক্ষী হতে রাজি হয়েছে।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ