নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: দুর্গাপুর গণধর্ষণ মামলায় আদালতে সাক্ষ্যদান শুরু হল নির্যাতিতার। শুক্রবার দুর্গাপুর আদালতের বিচারক লোকেশ পাঠকের এজলাসে তাঁর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় নির্যাতিতাকে আদালতে আনা হয়। বিচারকের নির্দেশে সরকারি আইনজীবী ও অভিযুক্তদের আইনজীবী ছাড়া সবাইকে কোর্ট রুম থেকে বের করে দেওয়া হয়। ফাঁকা কোর্ট রুমে অভিযুক্তদের দেখে নির্যাতিতা কিছুটা অস্বস্তিতে পড়লেও দৃঢতার সঙ্গেই সরকারি আইনজীবীর প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
গণধর্ষণ কাণ্ডে তাঁর সহপাঠী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু ওয়াসিফ আলিকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর সামনে তাঁকে নিয়ে নির্যাতিতা কী বলেন, সেদিকেই সবার নজর ছিল। এমনকী ওয়াসিফের আইনজীবীও চেয়েছিলেন নির্যাতিতাকে সাক্ষী হিসাবে আনা হোক। আইনজীবী সূত্রে দাবি, নির্যাতিতা পুলিশকে লিখিত অভিযোগে যা জানিয়েছিলেন এদিন আদালতেও সেই অবস্থানেই অনড় ছিলেন। আদালত কক্ষে অভিযুক্ত সহপাঠী উপস্থিত রয়েছেন কি না, জানতে চান সরকারি আইনজীবী। ঘাড় ঘুরিয়ে অভিযুক্ত বন্ধুকে চিহ্নিত করেন নির্যাতিতা। ঘটনার দিন তাঁর বন্ধুও যে তাঁর অমতে তাঁর সঙ্গে যৌনচার চালিয়েছেন বলে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান নির্যাতিতা। গণধর্ষণ কাণ্ডে ছয় অভিযুক্তর কী কী ভূমিকা ছিল তাও এদিন আদালতে নির্যাতিতা জানিয়েছেন বলে আইনজীবীদের দাবি। আইনজীবী মহলের একাংশের দাবি, নির্যাতিতার এই সাক্ষ্যদান মামলায় অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করতে সরকার পক্ষ ও তদন্তকারী অফিসারকে সহযোগিতা করবে। শনিবার অভিযুক্তরা জেরা করবেন নির্যাতিতাকে। সেই সময়ে নির্যাতিতা আইনজীবীর প্রশ্নবানে কতটা শক্ত থাকতে পারেন তাই দেখার।
অভিযুক্ত ওয়াসিফ আলির আইনজীবী শেখর কুণ্ডু বলেন, সরকারপক্ষই এখনও পর্যন্ত নির্যাতিতাকে জেরা করেছেন। তিনি যে অভিযোগ করেছিলেন এদিন জেরাতে সেই কথাই বলেছেন। নিজের অবস্থান বদল করেননি। আমরা শনিবার জেরা করব।
নির্যাতিতার আইনজীবী পার্থ ঘোষ বলেন, প্রকৃত যা ঘটনা ঘটেছিল নির্যাতিতা পুলিশকে সেই অভিযোগই করেছেন। এদিন এজলাসেও সেই ঘটনাই আরও একবারে তুলে ধরেছেন তিনি। অভিযুক্তরা যাতে শাস্তি পায়, তার জন্য যা ব্যবস্থা নেওয়ার আমরা নেব।