নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: দুর্গাপুরে ডাক্তারি পড়ুয়া গণধর্ষণ কাণ্ডে পুলিশের তুরুপের তাস ছিল অভিযুক্তদের গোপন জবানবন্দি। গ্রেফতার হওয়া ছ’য় অভিযুক্তর মধ্যে দু’জন ভারপ্রাপ্ত এসিজেএমের কাছে গোপন জবানবন্দি দেন। ছ’য় অভিযুক্তের অপরাধে কী ভূমিকা ছিল, তা বিচারকের সামনে জানিয়েছিল বলে জানা যায়। এবার সেই গোপন জবানবন্দি নেওয়া প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিলেন অভিযুক্তর আইনজীবীরা। সোমবার তাঁদের প্রশ্নের উত্তরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব সরকার বলেন, গোপন জবানবন্দি দিলে তাদের কী পরিণতি হতে পারে তা অবগত করানো হয়নি। তিনি আরও বলেছেন, গোপন জবানবন্দিতে তাদের নামে কী লেখা হয়েছে তাও তাদের দেখানো হয়নি।
এদিন মামলার গোপন জবানবন্দি দেওয়া দুই অভিযুক্ত শেখ রিয়াজুদ্দিন ও সফিক শেখ আইনজীবীর মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তাদের দাবি, পুলিশ তাদের পরিবারকে হুমকি দিয়েছিল। তাদের উপর অত্যাচার করে চাপ দিয়ে বিচারকের কাছে গোপন জবানবন্দি দিতে বাধ্য করিয়েছিল। অভিযুক্তর আইনজীবী সৌমেন মিত্র সেই মর্মে বিচারকের কাছে একটি পিটিশন সোমবার জমা করেছেন। তাতে দাবি করা হয়েছে, গোপন জবানবন্দি যেন প্রত্যাহার করা হয়।
সোমবার মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দ্বিতীয় দিল ছিল। সাক্ষী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে দীর্ঘ জেরা করেন অভিযুক্তদের আইনজীবী শেখর কুণ্ডু ও সৌমেন মিত্র। মূলত অভিযুক্ত শেখ রিয়াজুদ্দিন ও সফিক শেখের গোপন জবানবন্দি নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, দুই অভিযুক্তকে আপনার কাছে গোপন জবানবন্দি দিতে পুলিশ নিয়ে আসে। আপনি কি তাদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন পুলিশ চাপ দিয়েছিল কিনা? সাক্ষীর উত্তর, না প্রশ্ন করা হয়নি। এরপর জানতে চাওয়া হয়, সফিক শেখ কম শিক্ষিত। বাংলায় সই করে। ওর বয়ান বাংলা হরফে কেন লেখা হয়নি? ওর নামে যা লেখা হয়েছিল, তা কি পড়তে দেওয়া হয়েছিল। জুডিশিয়ার ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ইংরেজি হরফে বাংলা ভাষায় লেখা হয়। পড়তে না দেওয়া হলেও তাকে পড়ে শোনানো হয় কী লেখা হয়েছে। এরপরই জানতে চাওয়া হয়, অভিযুক্তদের কি জানানো হয়েছিল যে এই কাজ করলে তাঁদের কী পরিণতি হতে পারে? বিচারক বলেন, তা জানানো হয়নি। শেখর কুণ্ডুর একাধিক প্রশ্ন অপ্রাসঙ্গিক বলে কোর্টের কাছে দাবি করেন বিশেষ সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়। তারপরই দুই আইনজীবীর মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয়। উত্তেজনা প্রশমিত করতে হস্তক্ষেপ করতে হয় বিচারককে। একেবার শেষ পর্বে দুই অভিযুক্তর গোপন জবানবন্দি প্রত্যাহারের আর্জি জমা পড়ে কোর্টে। আজ, মঙ্গলবার পরবর্তী শুনানির দিন এই আবেদনের শুনানির পাশাপাশি পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ হবে। অভিযুক্তর আইনজীবী সৌমেন মিত্র বলেন, দুই অভিযুক্ত ও তাঁদের পরিবারকে ভয় দেখিয়ে পুলিশ গোপন জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছিল। আমরা তা প্রত্যাহারের আর্জি করেছি।
প্রসঙ্গত, ১০ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুরের নিউ টাউনশিপ থানা এলাকার পরানগঞ্জের জঙ্গলে ওড়িশা থেকে ডাক্তারি পড়তে আশা এক পড়ুয়াকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পুলিশ মেয়েটির সহপাঠী সহ বিজড়া এলাকার পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে দু’জন বিচারকের কাছে গোপন জবানবন্দি দেয়। যা মামলা প্রমাণে পুলিশের বড় হাতিয়ার। কিন্তু শুনানি শুরু হতেই দুই অভিযুক্ত সুর বদল করে। প্রথমে রাজসাক্ষী হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। এদিন বয়ান প্রত্যাহারের আর্জি করল।