Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্গাপুর গণধর্ষণ মামলা: সাক্ষীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ দু’পক্ষের আইনজীবীর, তোলপাড়

গ্রাম রক্ষা কমিটির নাম করে সাক্ষীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

দুর্গাপুর গণধর্ষণ মামলা: সাক্ষীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ দু’পক্ষের আইনজীবীর, তোলপাড়
  • ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: গ্রাম রক্ষা কমিটির নাম করে সাক্ষীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। দুর্গাপুর আদালতে বিচারক লোকেশ পাঠকের এজলাসে এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করলেন রাজ্য সরকার নিযুক্ত বিশেষ সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়। শুক্রবার দুর্গাপুর গণধর্ষণ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ চলছিল। অভিযুক্তদের আইনজীবী সৌমেন মিত্র দাস অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের পরিবারকে পুলিশ হুমকি দিচ্ছে, মিথ্যা গাঁজা কেসে ফাঁসানোর ভয় দেখাচ্ছে। তৎক্ষণাৎ সরকারি আইনজীবী পাল্টা অভিযোগ করেন, গ্রাম রক্ষা কমিটির নাম করে মামলার সাক্ষীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। বিচারক জানান, যদি এমন হয়ে থাকে আমার কাছে লিখিত পিটিশন করুন। এদিন মামলায় সাক্ষ্য দিতে আসেন নিউ টাউনশিপ থানার পার্টদইয়ের বাসিন্দা শান্তিরঞ্জন মণ্ডল। সাক্ষ্যদান পর্বে দু’ পক্ষের আইনজীবীদের বাকবিতণ্ডায় দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এজলাস। শেষে অভিযুক্তদের আইনজীবীর তরফে সম্পূর্ণ সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া বাতিলের আবেদন করা হয়। তাঁদের দাবি, নিয়ম বহির্ভূতভাবে এই সাক্ষ্যদান হয়েছে। ২২ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে। 

Advertisement

দুর্গাপুরে ডাক্তারি পড়ুয়ার গণধর্ষণকাণ্ডে পুলিশ গ্রেপ্তার করে ছাত্রীর সহপাঠী ডাক্তারি পড়ুয়া ওয়াসিফ আলিকে। চার্জশিটে পুলিশ দাবি করেছে, ১০ অক্টোবর সহপাঠী ওয়াসিফ ছাত্রীকে জঙ্গলে নিয়ে গিয়েছিল শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য। সেই কারণে অভিযুক্ত কনডোমও নিয়ে গিয়েছিল। তদন্তকারী অফিসার দাবি করেন, সে পুরো বিষয়টি পুলিশকে জানায়। এমনকী যে ঝোপে কনডোমটি সে ফেলে দিয়েছিল, তা উদ্ধার করে দেয়। পুরো প্রক্রিয়াটিতে পুলিশ উইটনেস হিসেবে রেখেছিল শান্তিরঞ্জন মণ্ডলকে। এদিন তারই সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয় এজলাসে। সাক্ষী জানান, ১৬ অক্টোবর আই কিউ সিটি অভিমুখে তিনি যখন মর্নিং ওয়াক করতে যাচ্ছিল, তখন রাস্তার উপর একটি পুলিশের গাড়ি দেখতে পান। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, গণধর্ষণকাণ্ডে নির্যাতিতার সহপাঠী অভিযুক্ত ওয়াসিফকে নিয়ে এসেছে পুলিশ। রাস্তার পাশে গাড়ির ভেতরেই তার স্টেটমেন্ট রেকর্ড হচ্ছে। সাক্ষী হিসেবে তিনি সেই স্টেটমেন্টে সই করেন। পরবর্তীকালে পুলিশ অভিযুক্তকে  সঙ্গে নিয়ে ঝোপে যায়। ওয়াসিফ ঝোপ থেকে কনডোমটি উদ্ধার করে পুলিশকে দেয়।
এরপর অভিযুক্তের আইনজীবীরা তাঁর সাক্ষ্য নেওয়া শুরু করেন। প্রশ্ন করা হয়, আপনার স্ত্রী কী করেন। তিনি উত্তরে জানান, সরকারি সংস্থায় অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ করেন। এই প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় জুনিয়রের সঙ্গে হাসাহাসি করাতে তার তীব্র প্রতিবাদ জানান অভিযুক্তের আইনজীবী শেখর কুণ্ডু। পাল্টা শেখর কুণ্ডুকে সরকারি আইনজীবী বলেন, আপনার এত অডাসিটি হয় কী করে, আমি কখন হাসব তা নিয়ে আপত্তি তুলবেন। শেখর কুণ্ডু বলেন, আপনাকে আদালত থেকে বের করে দেব। কোনও রকমে বিচারক লোকেশ পাঠক দু’ পক্ষকে সামাল দেন। অভিযুক্তের আইনজীবী সাক্ষীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি পুলিশের এজেন্ট, তাই পুলিশের কথা মতো মিথ্যা সাক্ষ্য দিচ্ছেন। আপনার লটারির ব্যবসা রয়েছে। সাক্ষী বলেন, এই অভিযোগ ঠিক নয়। অভিযুক্ত ওয়াসিফ আলির আইনজীবী দ্বিতীয় একটি পিটিশন করে আদালতের কাছে আর্জি জানান, এবার যেন নির্যাতিতাকে সাক্ষী হিসেবে আনা হয়। এই প্রসঙ্গ উঠতেই লোকেশ পাঠক বলেন, নতুন বছরের প্রথমদিকে নিশ্চয়ই তিনি আসবেন, কিন্তু সেই দিন কোর্টরুমে শুধুমাত্র অভিযুক্তের আইনজীবী এবং সরকারপক্ষের আইনজীবী ছাড়া আর কেউ থাকবে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ