Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্গাপুর গণধর্ষণ কাণ্ড: ঘটনার আগে অভিযুক্ত সহপাঠী ‘নিখোঁজ’ পাঁচদিন, জিডি করেননি হস্টেলের ওয়ার্ডেন

দুর্গাপুরে ডাক্তারি পড়ুয়ার গণধর্ষণ কাণ্ডের পরতে পরতে রহস্য। বুধবার দুর্গাপুর আদালতে সাক্ষী দিতে এসেছিলেন বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ছাত্র হস্টেলের ওয়ার্ডেন।

দুর্গাপুর গণধর্ষণ কাণ্ড: ঘটনার আগে অভিযুক্ত সহপাঠী ‘নিখোঁজ’ পাঁচদিন, জিডি করেননি হস্টেলের ওয়ার্ডেন
  • ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: দুর্গাপুরে ডাক্তারি পড়ুয়ার গণধর্ষণ কাণ্ডের পরতে পরতে রহস্য। বুধবার দুর্গাপুর আদালতে সাক্ষী দিতে এসেছিলেন বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ছাত্র হস্টেলের ওয়ার্ডেন। সাক্ষ্যদান পর্বে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে, গণধর্ষণ কাণ্ডের শিকার নির্যাতিতার সহপাঠি ওয়াশিফ আলি পাঁচদিন হস্টেলে না এলেও কোনওরকম পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। পুলিশের কাছে গিয়ে একটা জেনারেল ডায়েরি (জিডি)ও  করেননি তৎকালীন হস্টেল ওয়ার্ডেন থাকা সন্দীপ দেবনাথ। ধর্ষণকাণ্ডে প্রথম থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, বেসরকারি মেডিকেল কলেজের নিরাপত্তা নিয়ে। কী ভাবে রাতের অন্ধকারে হস্টেলের পড়ুয়ারা জঙ্গল লাগোয়া রাস্তায় হাঁটতে যাওয়ার সুযোগ পান? এদিন আদালতে নিরাপত্তা সম্পর্কিত নানা অবহেলার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। 

Advertisement

এদিন সাক্ষ‌্যগ্রহণে তদন্তের আরও একটি ত্রুটি সামনে এসেছে। অভিযুক্ত সহপাঠী ওয়াশিফ আলির হস্টেলের রুমে গিয়ে তার একটি ব্যাগ থেকে এগারোটি অব্যবহৃত কন্ডোম পাওয়া যায়। পুলিশ ব্যাগ সহ কন্ডোম বাজেয়াপ্ত করে। সেই বিষয়ের উপর সাক্ষী দিতে হাজির ছিলেন সেই সময়ের হস্টেল ওয়ার্ডেন সন্দীপ দেবনাথ। জেরার সময়ে উঠে আসে পুলিশ সিজার লিস্টে লিখছে লালা, নীল ব্যাগ থেকে তা উদ্ধার হয়। আবার সাক্ষী জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, ব্যাগের রঙ লালা, কালো। তদন্তের এই ত্রুটি দেখিয়ে অভিযুক্তর আইনজীবী শেখর কুণ্ডু দাবি করেন পুলিশ যে ব্যাগটি বাজেয়াপ্ত করেছে, তা ওয়াশিফের ব্যবহার করা নয়। পুলিশ ঘটনা সাজাতে গিয়ে রঙের হেরফের করে দিয়েছে। 
এদিন দুপুরে দুর্গাপুর আদালতের বিচারক লোকেশ পাঠকের এজলাসে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ১০ অক্টোবর নির্যাতনের কাণ্ডটি ঘটে বলে অভিযোগ। ১৬ অক্টোবর পুলিশ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া নির্যাতিতার সহপাঠী ওয়াশিফকে নিয়ে হস্টেলে যায়। হস্টেল ওয়ার্ডেন সন্দীপ দেবনাথের উপস্থিতিতে ডাক্তারি পড়ুয়ার বিভিন্ন সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেন তদন্তকারী পুলিশ অফিসার গৌতম বিশ্বাস। সেই ঘটনারই সাক্ষী দিতে তিনি এসেছিলেন আদালতে। সন্দীপকে অভিযুক্তর আইনজীবী প্রশ্ন করেন, আপনার হস্টেলের আবাসিক ওয়াশিফকে কবে থেকে হস্টেলে দেখতে  পাওয়া যচ্ছিল না। উত্তরে সাক্ষী বলেন, ১১ অক্টোবর থেকে সে হস্টেলে ছিল না। ১৬ অক্টোবর পুলিশ তাকে নিয়ে আসে। আইনজীবী প্রশ্ন করেন, এই পাঁচদিন আপনার আবাসিক কোথায় ছিল, তার নির্দিষ্ট তথ্য আপনার কাছে রয়েছে? সাক্ষী বলেন, না। এরপরই আইনজীবী জানতে চান, হস্টেল ওয়ার্ডেন হিসেবে আবাসিকের এতদিন নিখোঁজ থাকা নিয়ে আপনি কোনও পদক্ষেপ করেছিলেন? কোনও জিডি করেছিলেন? জবাবে তিনি বলেন, না। ওয়াশিফের রুমে সিজার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল সকাল আটটা ৪২ মিনিটে। কিন্তু সাক্ষী হিসেবে ওয়ার্ডেন সই করেছিলেন আটটা ৩২ মিনিটে এনিয়েও অভিযুক্তর আইনজীবী প্রশ্ন তুলেছেন। 
এদিন সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব চলাকালীন মাঝে মধ্যেই তেতে ওঠে এজলাস। কখনও বিচারকের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয় কাউকে কাউকে। আবার অভিযুক্তর আইনজীবী সাক্ষীকে ভয় দেখাচ্ছেন বলেও বিচারককে সতর্ক করতে দেখা যায়। কিছু  ক্ষেত্রে অভিযুক্তর আ‌ইনজীবীদের সঙ্গে বিচারকেরও তীব্র মতো পার্থক্য দেখা যায়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ