নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: দুর্গাপুর গণধর্ষণ কাণ্ডের শুনানিতে প্রকাশ্যে এল নতুন তথ্য। ওই ঘটনায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছে নির্যাতিতার সহপাঠী ওয়াসিফ আলি। বন্ধু আসিফের সঙ্গে রাতে জঙ্গল লাগোয়া রাস্তায় হাঁটতে গিয়েছিলেন তরুণী। পুলিশ তদন্তে জানতে পেরেছে, শুধু নির্যাতিতা নন, ওয়াসিফের একাধিক মহিলা সঙ্গী ছিল। পুলিশের কাছে ওয়াসিফ দাবি করেছেন, নির্যাতিতা শুধুই তাঁর ভালো বন্ধু, তাঁর অন্য গার্লফ্রেন্ড রয়েছে। পুলিশ ডাক্তারি পড়ুয়ার একাধিক সঙ্গী থাকার প্রমাণও পেয়েছে। হস্টেলে ওয়াসিফের ঘর তল্লাশি করে আগেই কন্ডোমের প্যাকেট পেয়েছিলেন তদন্তকারী অফিসার। তাঁর মোবাইল ঘেঁটে জানা গিয়েছে, অনলাইনে অন্যান্য সামগ্রী অর্ডার করার পাশাপাশি কন্ডোমেরও অর্ডার করা হয়েছে। এই সূত্র ধরে তদন্ত করে পুলিশ দেখতে পায়, কলকাতায় আত্মীয়র বাড়ি থেকে ওই সামগ্রী রিসিভ করা হয়েছিল। অবস্থান নিশ্চিত করতে পুলিশ সেই দিন তাঁর টাওয়ার লোকেশন চেক করে জানতে পারে, কলকাতার যে ঠিকানায় ওই সামগ্রী ডেলিভারি করা হয়েছে, সেই দিন সেখানেই ওয়াসিফ ছিল।
মঙ্গলবার দুর্গাপুর আদালতে লোকেশ পাঠকের এজলাসে এই গুরুত্বপূর্ণ মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। সাক্ষী দিতে হাজির হয়েছিলেন ওই অনলাইন সরবরাহকারী সংস্থার আধিকারিক ওম প্রকাশ সিং। পুলিশ ওয়াসিফ আলির দু’টি মোবাইল নম্বর ওই সংস্থার কাছে পাঠিয়ে জানতে চেয়েছিল, কী কী সামগ্রী অনলাইনে অর্ডার করা হয়েছে। তারই রিপোর্ট তদন্তকারী অফিসারকে পাঠিয়েছিল সংস্থা। সেখানে উল্লেখ ছিল কন্ডোমের কথা। যা ১৩ সেপ্টেম্বর কলকাতার এসপ্ল্যানেড এলাকা থেকে নেওয়া হয়েছিল। সংস্থার ওই আধিকারিক সাক্ষ্যদান পর্বে বলেন, সংস্থার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ডাটা মজুত থাকে। সেখান থেকে দেওয়া রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ওই দু’টি মোবাইল নম্বরে কী কী সামগ্রী অর্ডার করা হয়েছিল, কোন ঠিকানায় ওই সেগুলি পাঠানো হয়েছিল, সেসবও। এরপরই অভিযুক্তর আইনজীবী শেখর কুণ্ডু প্রশ্ন করেন, আপনারা কি সার্ভার দেখে নিশ্চিত করে বলতে পারবেন ওই সামগ্রীটি কে গ্রহণ করেছিল। সাক্ষী জানান, সিস্টেম থেকে তা জানা সম্ভব নয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওয়াসিফের একাধিক নারী সঙ্গীর হদিশ পাওয়া গিয়েছে। কলকাতা, ব্যারাকপুর সহ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত যাতায়াতও ছিল। আর বড় প্রমাণ হিসাবে ওই সামগ্রিক সরবরাহকারীর বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। অভিযুক্তদের আইনজীবী মহলের অভিমত, এ থেকে প্রমাণ হয় না সামগ্রীটি সেই ব্যবহার করছে।
১০ অক্টোবর দুর্গাপুরের নিউ টাউনশিপ থানা এলাকার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের পাশে এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে রাজ্য সরকার সরকারি আইনজীবী হিসেবে নিযুক্ত করেন বিভাস চট্টোপাধ্যায়কে। তিনটি শুনানিতে তিনি গরহাজির থাকায় এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযুক্তদের আইনজীবীরা। রাজ্য সরকারের সুপারিশ মতো এই মামলায় বিশেষ আইনজীবী হিসেবে রাজ্যপাল বিভাসবাবুকে নিয়োগপত্র দিয়েছেন। কোনও কারণ না দেখিয়ে গরহাজির থেকে অন্য আইনজীবীকে দিয়ে মামলার শুনানি করাচ্ছেন। এটা নিয়ম বহির্ভূত। উনি নিজে থেকে কোনও নতুন আইনজীবী নিযুক্ত করতে পারেন না।