Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্গাপুরে মহিলা টোটো চালককে ‘কটুক্তি’, সুরাহার আশ্বাস কর্মাধ‌্যক্ষের

প্রতিবন্ধী স্বামী ও দুই মেয়ে, এক ছেলেকে নিয়ে অনটনের সংসার তুলসী রুইদাসের। ছা-পোষা পরিবারের জোয়াল টানতে টোটোর হাতলে ভরসার হাত রেখেছেন এই গৃহিনী।

দুর্গাপুরে মহিলা টোটো চালককে ‘কটুক্তি’, সুরাহার আশ্বাস কর্মাধ‌্যক্ষের
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৫ ১৭:১১
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: প্রতিবন্ধী স্বামী ও দুই মেয়ে, এক ছেলেকে নিয়ে অনটনের সংসার তুলসী রুইদাসের। ছা-পোষা পরিবারের জোয়াল টানতে টোটোর হাতলে ভরসার হাত রেখেছেন এই গৃহিনী। দিনেরাতে তাঁর পরিশ্রমে গড়ায় টোটোর চাকা। সেই মতো গড়াচ্ছে তুলসীদেবীর সংসারের চাকাও। কিন্তু অভিযোগ, গ্রামে একাই মহিলা টোটোচালক হওয়ায় অনেক সময়ই স্ট্যান্ডের পুরুষ টোটোচালকদের কটুক্তির শিকার হতে হচ্ছে তাঁকে। তবে নিজের অদম্য জেদের জন্য হার মানতে নারাজ দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের এই মহিলা টোটো চালক। তাঁর সমস্যার কথা তুলসীদেবী স্থানীয় প্রশাসনকেও জানিয়েছেন।    কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ কুলদীপ সরকার বলেন, টোটো চালকদের কোনও সংগঠন নেই। তাতেই সমস্যা হচ্ছে। তবে তুলসীদেবীর যাতে টোটো চালাতে কোনও সমস্যা না হয় তার জন্য ব্যবস্থা করা হবে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর বিয়াল্লিশের তুলসী রুইদাস কাঁকসা থানার আমলাজোড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাপের বাড়িও ওই এলাকাতেই। তাঁর স্বামী জগনাথ রুইদাসের জন্ম থেকেই ডান হাত অকেজো। তিনি দিনমজুরি অথবা চাষবাসের কাজে অক্ষম। এই দম্পতি তাঁদের বছর তেইশের একটি মেয়ের কোনও রকমে বিয়ে দিয়েছেন। আরও একটি মেয়ে মাধ্যমিক পাস করে স্কুলে পাঠরতা। বছর চোদ্দোর একটি ছেলেও রয়েছে তুলসীদেবীর। কিছু বছর আগেও অভাবের সংসার টানতে হিমসিম খাচ্ছিলেন ওই বধূ। কিন্তু অদম্য ইচ্ছেশক্তি ও জেদের জোরে পরিবারের স্বার্থে টোটো চালানোর সিদ্ধান্ত নেন।
তুলসীদেবী বলেন, আমাদের জমি জায়গা নেই। স্বামী প্রতিবন্ধী। সংসার চালাতে তিনি ইলেক্ট্রিশিয়ানের কাজ করতেন কোনওরকমে। কিন্তু একহাতে কাজ করতে অনেক সমস্যা হয়। আমি লোকের চাষের জমিতে দিনমজুরের কাজ করে সংসার টানছিলাম। গ্রামে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য আমি। গোষ্ঠী থেকে গতবছর ৫০ হাজার টাকা ঋণ পেয়েছিলাম। ওই টাকা দিয়ে একটি পুরনো টোটো কিনেছি। টোটো চালানো নিজেই শিখে এখন যাত্রী বহন করছি। প্রতিদিন গড়ে তিনশো টাকা আয় হয়। 
কিন্তু তুলসীদেবীর অভিযোগ, গ্রামের অনেক লোকজন মেয়ে হয়ে টোটো চালাচ্ছে,বাড়ির বাইরে বেরিয়ে পড়েছে ইত্যাদি নানা কুকথা বলে। রাজবাঁধের স্ট্যাণ্ডে টোটো নিয়ে দাঁড়ালে সেখানকার চালকরা যাত্রী তুলতে দেন না। .মেয়ে হয়ে টোটো চালাতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। এলাকার পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষকে সমস্যার কথা জানিয়েছি।
তুলসীদেবীর শাশুড়ি সন্ধ্যা রুইদাস বলেন, বউমা পরিশ্রম করে টোটো চালিয়ে রোজগার করছে। আমাদের কোনও সমস্যা নেই। দুর্গাপুর শহরে কত মহিলা টোটো চালান। তাঁদের তো কোনও সমস্যা হয় না। এখানে সমস্যা তৈরি করছে কিছু টোটো চালক। এই বিষয়টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেখলে সংসারটা বেঁচে যাবে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ