Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শ্রীনগরে মার্কেটিংয়ে দেরি প্রাণে বাঁচল দুর্গাপুরের পরিবার

শ্রীনগরে মার্কেটিংয়ে দেরি প্রাণে বাঁচল দুর্গাপুরের পরিবার
  • ২৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: পরিকল্পনা ছিল মঙ্গলবার সকাল সকাল চলে যাবেন মিনি সুইজারল্যান্ড বৈসরন উপত্যকায়। সারাদিন কাটাবেন সেখানে। কিন্তু বাধ সাধল মহিলাদের শপিং প্রীতি। শ্রীনগরে সুরজিৎ বায়ানের মা ও স্ত্রীর শপিং যেন শেষই হতে চায় না। দুজনের ওপর বেজায় চটেছিলেন দুর্গাপুরের বাসিন্দা সুরজিৎ। অগত্যা সকালে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করে ঠিক হয়, দুপুরে খাওয়াদাওয়া করেই বেরবেন। কিন্তু তখনও ঘুণাক্ষরেও সুরজিৎ টের পাননি যে স্ত্রী ও মায়ের শপিং প্রীতিই তাঁদের বড় বিপদ থেকে বাঁচিয়ে দিল। ঘটনার একদিন পরেও সেই বিষয়টি ভেবেই আঁতকে উঠছেন বায়ান পরিবারের মহিলা সদস্যরা। 

Advertisement

ব্যাঙ্ক কর্মী সুরজিৎ বায়ান তাঁর বাবা রামচন্দ্র বায়ান, স্ত্রী মঞ্জু বায়ান, মা সুচিত্র বায়ান ও পাঁচ বছরের কন্যা সৌরাংশীকে নিয়ে কাশ্মীরে এসেছেন ১৬ এপ্রিল। মা ও স্ত্রীর শপিংয়ের ঠেলায় মঙ্গলবার পরিকল্পনা বদলে সকালের পরিবর্তে দুপুরে তাঁরা রওনা হন বৈসরনের উদ্দেশে। উপত্যকায় পৌঁছনোর ১০ কিলোমিটার আগে জানতে পারেন সেখানে জঙ্গি হামলা হয়েছে। তড়িঘড়ি গাড়ি ঘুরিয়ে শ্রীনগর গুলমার্গ রাস্তার উপর একটি হোটেলে আশ্রয় নিয়েছেন এই বাঙালি পরিবার। ঘটনার পরই থেকেই রেড অ্যালার্ট ভূস্বর্গে। পুলিস, আধা সেনা, সেনা বাহিনীর জওয়ানরা রাস্তায় টহল দিচ্ছেন। জাতীয় সড়কে ধস নামায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। সুরজিৎবাবু বলেন, আগে কিন্তু সেভাবে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল ছিল না। বৃহস্পতিবার ট্রেনের টিকিট ছিল। কিন্তু সেই ট্রেন ধরা অসম্ভব। এখান থেকে বের হওয়া‌ই যাচ্ছে না। 
এরপরই বায়ান পরিবার বিমানের টিকিটের খোঁজ করেন। টিকিটের দাম দেখে চোখ কপালে উঠেছে তাঁদের। তাঁদের দাবি, পাঁচজনের টিকিটের যা দাম দেখাচ্ছে তাতে আমাদের পক্ষে যাওয়ার সম্ভব নয়। তাই হোটেলেই বন্দি থাকতে হবে আমাদের। 
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দুর্গাপুরের বিধায়ক তথা পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। তিনি বলেন, গোয়েন্দাদের এতবড় গাফিলতি কী করে হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ ধরে হত্যালীলা চালাল সন্ত্রাসবাদীরা, তাদের কেন বাধা দেওয়া গেল না। এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে বিমানের ভাড়া আকাশছোঁয়া হয়েছে। এটা কি মানবিকতার লক্ষণ? সরকারের উচিত কাশ্মীরে যে সব পর্যটকরা হোটেল বন্দি হয়ে আছেন, তাঁদের সেখানে থেকে উদ্ধার করে নিজ নিজ রাজ্যে নিরাপদে ফেরত পাঠানো।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ