Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সংস্কার হবে দুর্গাপুর-বাঁকুড়া রাজ্য সড়ক, আড়াই কোটি টাকার ডিটেলস প্রজেক্ট রিপোর্ট নবান্নে

১৯৫৫ সালে দামোদর নদের উপর গড়ে ওঠে দুর্গাপুর ব্যারাজ। তার মাধ্যমে সেই সময় অবিভক্ত বর্ধমানের সঙ্গে জুড়ে যায় বাঁকুড়া জেলা।

সংস্কার হবে দুর্গাপুর-বাঁকুড়া রাজ্য সড়ক, আড়াই কোটি টাকার ডিটেলস প্রজেক্ট রিপোর্ট নবান্নে
  • ২ জুলাই, ২০২৫ ১৬:০৭
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ১৯৫৫ সালে দামোদর নদের উপর গড়ে ওঠে দুর্গাপুর ব্যারাজ। তার মাধ্যমে সেই সময় অবিভক্ত বর্ধমানের সঙ্গে জুড়ে যায় বাঁকুড়া জেলা। তারপর দামোদর দিয়ে বহু জল গড়িয়েছে, রাজ্যে কংগ্রেস সরকারের পর বাম সরকার ৩৪ বছর রাজ্য শাসন করেছে। কোনও সরকারই আর দুর্গাপুর ব্যারাজ ঢেলে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি। ব্যারাজ জীর্ণ থেকে জীর্ণতর হয়েছে। অবশেষে চলতি বছরে ব্যারাজ সংস্কার করে সেচদপ্তর। তখনই প্রশ্ন উঠেছিল ব্যারাজ সংস্কার হলেও রাস্তার কি হাল ফিরবে? এবার সেই রাস্তা সংস্কারে উদ্যোগী হল পূর্তদপ্তর। প্রাথমিকভাবে, আড়াই কোটি টাকার ডিটেলস প্রজেক্ট রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরি হয়েছে। যা অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে অর্থদপ্তরে। অর্থদপ্তর থেকে সবুজ সংকেত এলেই রাস্তা সংস্কারে উদ্যোগী হবে পূর্তদপ্তর।

Advertisement

পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, আমাদের সরকার মানুষের সমস্যা সমাধানে সব সময় অগ্রণী ভূমিকা নেয়। দুর্গাপুর ব্যারাজ সংস্কার হয়েছে। রাস্তা সংস্কারও হবে।
দুর্গাপুর-বাঁকুড়া রাজ্য সড়ক রা঩জ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তা। দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে বাঁকুড়ার যোগাযোগে একমাত্র মাধ্যম পাশাপাশি বড়জোড়া শিল্পাঞ্চলের কাঁচামাল আনা ও উৎপাদিত সামগ্রী রপ্তানির একমাত্র রাস্তা। ‌এই রাস্তা দিয়েই পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূমের মানুষ সহজে বাঁকুড়া হয়ে মেদিনীপুর, ওড়িশা যাতায়াত করেন। দক্ষিণভারত থেকে বহু লরি এই রাস্তা ধরেই উত্তরবঙ্গে যায়। বাস, লরি, ছোট গাড়ি, বাইক মিলিয়ে প্রতিদিন ২৫ হাজার যানবাহন চলাচল করে এই রাস্তার উপর। তারমধ্যে বহু অতি ভারী যানবাহনও রয়েছে। এই ব্যস্ত রাস্তার অবস্থা কয়েকদিন ধরে খারাপ হয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে ঝাঁ চকচকে ব্যারাজের রাস্তার পাশে বাকি সড়ক বড্ড বেশি বেমানান লাগতে শুরু করে। মাত্র দেড় মাসের মধ্যে ব্যারাজ সংস্কারের কাজ শেষ হয়েছিল। সেচদপ্তরের এই সাফল্য দেখতে নিজে এসেছিলেন রা঩জ্যের সেচমন্ত্রী মানস ভুঁ‌ইয়া। তখনই তিনি ব্যারাজের পাশে রাজ্য সড়কের বেহাল দশা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন। তারপর কয়েকদিন কেটে গিয়েছে। বৃষ্টিতে রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। বর্ষার মধ্যে রাস্তা সংস্কার হয় না। কিন্তু, কিছু এলাকায় এই রাস্তার করুণ দশার জন্য তা দ্রুত সংস্কারের দাবি উঠেছে। মানুষের সমস্যা মেটাতে এবার তৎপর হয়েছে রাজ্যের পূর্তদপ্তর। সরকারের নির্দেশে তারা রাস্তা সংস্কারের ডিপিআর প্রস্তুত করে ফেলেছে। এখন শুরু অর্থ দপ্তরের অনুমোদনের অপেক্ষা। জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরে পূর্তদপ্তরের ওয়েস্ট্রান জোনের চিফ ইঞ্জিনিয়ার অফিস থেকেই প্রজেক্টের বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ