সংবাদদাতা, রামপুরহাট: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন দেখা গেল বীরভূমের ঝাড়খণ্ড লাগোয়া নয়নী গাঙেড্ডা গ্রামে। মুরারই থানার চাতরা পঞ্চায়েতের অন্তর্গত এই গ্রামে মুসলিমরাই সংখ্যাগুরু। মাত্র কয়েক ঘর হিন্দু পরিবারের বাস। আর্থিক অনটন ও নিজস্ব জমির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপুজোর আনন্দ থেকে বঞ্চিত ছিল এই গ্রাম। চাতরা পঞ্চায়েতের প্রধান গোলাবুর রহমানের মহানুভবতা ও গ্রামের মুসলিম সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় সেই ছবিটা বদলেছে। গত তিন বছর ধরে এই গ্রামে ঘটা করে আয়োজিত হচ্ছে দুর্গাপুজো।
গ্রাম সূত্রে জানা গিয়েছে, নয়নী গাঙেড্ডা গ্রামের একটি অংশ ঝাড়খণ্ডের এবং অপর অংশ পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্ভুক্ত। গ্রামে প্রায় সাত হাজার মানুষের বাস, যার মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার হিন্দু। তাঁরা সকলেই তফসিলি সম্প্রদায়ের দিনমজুর। নিজেদের জমিজমা না থাকায় এবং আর্থিক অনটনের কারণে গ্রামে কোনো পুজো হতো না। কচিকাঁচাদের দূর থেকে ভেসে আসা ঢাকের আওয়াজে মন খারাপ করেই দিন কাটাতে হতো।
২০২৪ সালে এগিয়ে আসেন চাতরা পঞ্চায়েতের প্রধান গোলাবুর রহমান। তিনি স্বেচ্ছায় নিজের জমি ছেড়ে দেন দুর্গাপুজো করার জন্য। শুধু জমি দেওয়াই নয়, পুজোর আয়োজনে আর্থিক সহায়তা দেন গ্রামের মুসলিম মানুষজন। সেই জমিতেই বিগত তিন বছর ধরে মণ্ডপ ও মৃন্ময়ী মূর্তি গড়ে পুজো করছেন গ্রামের হিন্দু পরিবারগুলি। জমি দান প্রসঙ্গে পঞ্চায়েত প্রধান গোলাবুর রহমান বলেন, এখানে দীর্ঘদিন ধরে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে আসছে। অর্থনৈতিক কারণ ও জমির অভাবে এই পরিবারগুলি এতদিন শারদীয়ার উৎসবে শামিল হতে পারত না। বাঙালির সেরা উৎসবে তাঁরাও যাতে আনন্দ করতে পারে, সেই কারণেই জমি দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরি জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হবে। পুজো কমিটির সভাপতি তুষারকান্তি প্রামাণিক, নরোত্তম প্রামাণিক ও অরূপ মালরা জানান, প্রধান সাহেব এবং গ্রামের মুসলিম ভাইরা পাশে না দাঁড়ালে এই পুজোর আয়োজন কোনোদিন সম্ভব হত না। রাজ্য সরকারের আর্থিক অনুদানও আমাদের এই আয়োজনে বড় ভরসা হয়ে উঠেছে। এখন জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে গ্রামের সব মানুষ একসঙ্গে এই উৎসবে মেতে উঠি। আমাদের গ্রামটা আসলে একটা বড় ‘পরিবার’।



