Bartaman Logo
২ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্বপ্নাদেশ পেয়েই সাউথ গড়িয়ার হালদার বাড়িতে শুরু দুর্গাপুজো, এবার ১২৮ বছর, দীক্ষিতরাই রাঁধেন নিরামিষ ভোগ

এক পূর্বপুরুষের স্বপ্নাদেশ মেনেই দুর্গাপুজো শুরু হয় সাউথ গড়িয়ার হালদার বাড়িতে। কথিত আছে, ওই পূর্বপুরুষ স্বপ্নে দেখেছিলেন, এক ফুটফুটে মেয়ে তাঁকে এসে বলছে, ‘আমি আসছি তোর বাড়িতে, ঘটে বেলপাতা আর জল দিয়ে পুজো করিস।’

স্বপ্নাদেশ পেয়েই সাউথ গড়িয়ার  হালদার বাড়িতে শুরু দুর্গাপুজো, এবার ১২৮ বছর, দীক্ষিতরাই রাঁধেন নিরামিষ ভোগ
  • ২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর: এক পূর্বপুরুষের স্বপ্নাদেশ মেনেই দুর্গাপুজো শুরু হয় সাউথ গড়িয়ার হালদার বাড়িতে। কথিত আছে, ওই পূর্বপুরুষ স্বপ্নে দেখেছিলেন, এক ফুটফুটে মেয়ে তাঁকে এসে বলছে, ‘আমি আসছি তোর বাড়িতে, ঘটে বেলপাতা আর জল দিয়ে পুজো করিস।’ সেই থেকেই দুর্গাপুজোর সূচনা এই বাড়িতে। দেখতে দেখতে এই পুজো ১২৮ বছরে পা দেবে এবার। বাড়ির মহিলারা যাঁরা দীক্ষা নিয়েছেন, শুধু তাঁরাই মায়ের ভোগ রান্নার অধিকারী। তবে পুরোটাই নিরামিষ ভোগ। পুজোর ক’দিন এই বাড়িতে আমিষ ঢোকে না।

Advertisement

পূর্বপুরুষ আশুতোষ হালদার স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর বাড়ির দালানে মায়ের আরাধনা শুরু করেন। পুরানো দিনের এই বাড়ি অনেকটা জমিদার বাড়ির মতোই দেখতে। পরিবারের সদস্যা জোনাকি বোস বলেন, যখন বাবার দাদু স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন, তখন তাঁদের অবস্থা ভালো ছিল না। কিন্তু প্রথমবার মায়ের পুজো করার পর তাঁর আশীর্বাদে সংসারে সুখ, সমৃদ্ধি, প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পায়। 
বংশ পরম্পরায় এই বাড়ির প্রতিমা তৈরি করে আসছেন মৃৎশিল্পীরা। এখন চলছে  প্রতিমা তৈরির প্রস্তুতি। জন্মাষ্টমীতে কাঠামো পুজো হয়েছে। এই পুজোয় বলি হয় না। মাকে ১৩টি থালায় খিচুড়ি ও গোবিন্দভোগ চালের অন্ন ভোগ দেওয়া হয়। এছাড়া পোলাও, নানা নিরামিষ তরকারি, পায়েস, মিষ্টি, দই ইত্যাদি দেওয়া হয় ভোগে। নারকেল নাড়ু বাড়িতে তৈরি করে পঞ্চমীতে তা নিবেদন করা হয়। জোনাকিদেবী বলেন, পুজো উপলক্ষ্যে দেশ-বিদেশ থেকে আত্মীয়রা চলে আসেন বাড়িতে। অষ্টমীর দিন দুপুরে আত্মীয়-পরিজন, বন্ধু-বান্ধবদের ভোগ প্রসাদ খাওয়ানো হয়। দশমীর দিন মাকে পান্তা ভাত, কচুর শাক, চালতার চাটনি দেওয়া হয়। প্রচুর লোকজন আসেন আমাদের বাড়ির পুজো দেখতে। মাকে সাজানো হয় সোনার গয়নায়। বিসর্জনে যান পরিবারের সদস্যরাই। ফেরার 
পথে আলতায় ভিজিয়ে কাঠের কলম দিয়ে লেখা হয়, ‘দুর্গা মাতা সহায়’। এভাবেই আমাদের বাড়ির পুজো চলে আসছে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ