সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: পুজো আসছে। এই দুর্গাপুজোই হাসি ফুটিয়েছে বাগনানের দুর্লভপুরের পদ্মচাষিদের মুখে। চিরাচরিত ধানচাষের পরিবর্তে গত কয়েক বছর জমিতে পদ্মচাষ করছেন এখানকার অধিকাংশ কৃষক। কারণ ধানের থেকে পদ্ম বিক্রি করে লাভ বেশি। বিশেষ করে দুর্গাপুজোর সময়ে পদ্মের দাম অনেকটাই বৃদ্ধি পাওয়ায় খুশির হাওয়া এখানকার পদ্মচাষিদের পরিবারে।
সারা বছর পদ্ম ফুলের একটা চাহিদা থাকলেও দুর্গাপুজোর সময় এর চাহিদা আকাশছোঁয়া হয়। দাম ও অনেকটাই বেড়ে যায়। কারণ পদ্মের জোগানের একটা সংশয় থাকেই। সাধারণ ঝিল বা জলাশয়ে পদ্মচাষ হলেও দুর্গাপুজোর সময় পদ্মের চাহিদার কথা মাথায় রেখে বিকল্প চাষ হিসাবে গত কয়েকবছর ধরে জমিতেও পদ্মফুলের চাষ হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন পদ্মের জোগান বাড়ছে, অন্যদিকে এতে কৃষকরাও লাভবান হচ্ছেন।
হাওড়া জেলার যে ক’টি জায়গায় জমিতে পদ্মফুলের চাষ হয়, তার মধ্যে বাগনানের দুর্লভপুর অন্যতম। এই গ্রামের অধিকাংশ কৃষক জমিতে পদ্মচাষ করায় লোকমুখে গ্রামটি পদ্মফুল গ্রাম হিসাবে পরিচিত হয়ে গিয়েছে। সাধারণত চৈত্র বৈশাখ মাসে জমিতে জমিতে পদ্মের চাষ শুরু করার ৩/৪ মাসের পর থেকে ফুল পাওয়া শুরু হয়। আবার শিশির পড়া শুরু হলে ফুলফোটা বন্ধ হয়ে যায়, পাশাপাশি গাছও নষ্ট হয়ে যায়। দুর্লভপুরের কৃষকদের মতে, আগে জমিতে ধানচাষ করে যে পরিমাণ লাভ হতো, এখন সেখানে পদ্মফুল চাষ করে অনেক বেশি লাভ হচ্ছে।
এলাকার এক কৃষক তাপস ঘোষ বলেন, আগে জমিতে ধানচাষ করলেও এখন পদ্মফুল চাষ করছি। আগের থেকে অনেক বেশি লাভও হচ্ছে। এখন বাজারে ৪/৫ টাকা প্রতি পিস পদ্ম বিক্রি হচ্ছে। তবে পুজো যত এগিয়ে আসবে, তত ফুলের দামও বাড়বে। পুজোর সময় প্রতিপিস পদ্মের দাম ২০/২৫ টাকায় পৌঁছবে। ফুলচাষি পুলক ধারা জানান, দুর্গাপুজোর সময় পদ্মের চাহিদা অনেকটাই বেড়ে যায়। আগে পদ্মের চাহিদা মেটাতে ওড়িশার উপর অনেকটাই ভরসা করতে হতো। কিন্তু জমিতে পদ্মচাষ শুরু হওয়ার পর থেকে সেটা অনেকটাই কমেছে। তাছাড়া ওড়িশার তুলনায় এই রাজ্যের পদ্মফুলই বেশি পচ্ছন্দ পুজো উদ্যোক্তাদের। নিজস্ব চিত্র