নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ট্রেনে ছিনতাইয়ের জন্য বেছে বেছে কিশোরদের ব্যবহার করছে গ্যাংয়ের মাথারা। কারণ ধরা পড়লেও তারা নাবালক হওয়ায় আইনের ফাঁক দিয়ে এক মাসের মধ্যে হোম থেকে ছাড়া পেতে পারে। তাছাড়া ভিড় ট্রেনে যাত্রীরা নাবালকদের ছিনতাই বা পকেটমার ভেবে সন্দেহও করবে না। এ সুযোগে কার্যসিদ্ধি হয়ে যাবে। গ্যাংয়ের মাথাদের এই কৌশলই এখন চিন্তায় ফেলেছে রেল পুলিশকে। এই কিশোররা যাতে হোম থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ফের অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িয়ে না পড়ে, সেকারণে তাদের পড়াশোনার উদ্যোগ নিচ্ছেন পুলিশের কর্তারা। যাতে তাদের সমাজের মূল স্রোতে ফেরানো যায়।
হাওড়া বা শিয়ালদহ স্টেশন দিয়ে দিনে কয়েক লক্ষ যাত্রী যাতায়াত করেন। মাঝেমধ্যেই ট্রেনে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ট্রেন প্ল্যাটফর্মে ঢোকা ও বেরনোর সময় চলন্ত ট্রেনে মোবাইল বা সোনার হার ছিনতাই করে লাফ দিয়ে পালায় কিশোররা। তাদের সকলেরই বয়স বারো থেকে আঠারোর মধ্যে। রেল পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী টিকিয়াপাড়া ও পার্ক সার্কাস ছিনতাইপ্রবণ এলাকা বলে পরিচিত। এই দু’টি জায়গায় ট্রেনের গতি ধীর হয়ে যায়। রাতের দিকে ও ভোরবেলা ছিনতাইয়ের ঘটনা তুলনায় বেশি। এর বাইরে হাওড়া ও শিয়ালদহ রেল পুলিশ জেলার একাধিক জায়গাকে ব্ল্যাক স্পট হিসাবে চিহ্নিত করেছে। গত একমাসে রেল পুলিশ ছিনতাইয়ের ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে দেখেছে, সিংহভাগ ক্ষেত্রেই কিশোরদের টাকার লোভ দেখিয়ে এই কাজে ব্যবহার করেছে গ্যাংয়ের মাথারা। বেশ কয়েকজন কিশোরকে আটক করেছে তারা। আইনি বাধ্যবাধ্যকতার কারণে তাদের পাঠানো হয়েছে হোমে। তারা নাবালক হওয়ায় তাদের সেভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাচ্ছে না। ফলে তাদের মাথা কে, তা জানতে পারছেন না তদন্তকারীরা। একটা সময় থমকে যাচ্ছে তদন্ত। এক মাস হোমে থাকার পর তারা জামিন পেয়ে যাচ্ছে। কয়েকদিন চুপচাপ থাকার পর ফের তারা একই অপরাধ করছে। যে কারণে চলন্ত ট্রেনে ছিনতাইয়ের ঘটনা আটকানো রীতিমতো সমস্যার হয়ে দাঁড়িয়েছে রেল পুলিশের পক্ষে।
হোমে থাকা কিশোরদের আলাদা করে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করছে রেল পুলিশ। তাদের বোঝানো হবে, অপরাধ নয়, সমাজে মাথা উঁচু করে থাকতে হলে শিক্ষা বেশি জরুরি। যাতে তাদের অপরাধ জগৎ থেকে সমাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনা যায়।