Bartaman Logo
২ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুঁথির নিয়ম মেনেই দুর্গাপুজো তেহট্টের গঙ্গোপাধ্যায় বাড়িতে

স্বপ্নে দেখা দেবীর মুখ। সেই আদলেই তৈরি হয়েছিল প্রতিমা। পুজোর নিয়ম লেখা হয়েছিল তালপাতার পুঁথিতে। তারপর পেরিয়েছে ২৭৩ বছর।

পুঁথির নিয়ম মেনেই দুর্গাপুজো তেহট্টের গঙ্গোপাধ্যায় বাড়িতে
  • ২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তেহট্ট: স্বপ্নে দেখা দেবীর মুখ। সেই আদলেই তৈরি হয়েছিল প্রতিমা। পুজোর নিয়ম লেখা হয়েছিল তালপাতার পুঁথিতে। তারপর পেরিয়েছে ২৭৩ বছর। হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর থেকে মেহেরপুর হয়ে পুজো এখন তেহট্টে। কিন্তু এত বছরেও বদলায়নি পুজোর রীতি। এখনও সেই তালপাতার পুঁথি খুলেই শুরু হয় দেবীর আরাধনা। নবমীতে মাকে নিবেদন করা হয় ৫৬ পদ। সপ্তমীর অর্ধরাত্রিতে হয় বিশেষ পুজো। সপ্তসতী শ্লোক পাঠ করে হোম শুরুর রীতিও রয়েছে এই বাড়িতে।

Advertisement

গঙ্গোপাধ্যায় পরিবারের আদি নিবাস ছিল হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে। পরিবারের সদস্যদের কথায়, প্রায় ছয় প্রজন্ম আগে অবিনাশ গঙ্গোপাধ্যায় স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। স্বপ্নে তিনি দেবীকে যে রূপে দেখেছিলেন, সেই আদলেই প্রতিমা তৈরি করে শুরু করেছিলেন দুর্গাপুজো। সেই সময় থেকেই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে যায় একের পর এক বিশেষ রীতি। প্রতিমা তৈরির মৃৎশিল্পী এবং ঢাকিও হয়ে ওঠেন পরিবারের পুজোর অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একই পরিবারের শিল্পীরাই সেই দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
পরবর্তীতে পরিবারের একাংশ মেহেরপুরে এসে বাস শুরু করে। পরিবারের বর্তমান প্রজন্মের পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, তাঁর ঠাকুমা এক রাতে স্বপ্ন দেখেছিলেন, দেশের বাড়ির পুজো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেই স্বপ্নের পরই তেহট্টে পুজো শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। পরের দিনই হাওড়া থেকে পরিবারের এক সদস্য তালপাতার পুঁথি-সহ দেবীর পুজোর যাবতীয় সামগ্রী নিয়ে মেহেরপুরে পৌঁছান। সেই থেকে পুঁথিতে লেখা নিয়ম মেনেই চলছে মায়ের পুজো।
পুজোর প্রস্তুতি অবশ্য শুরু হয় অনেক আগে থেকেই। আষাঢ় মাসের রথের দিন বাঁশ কাটা হয়। জন্মাষ্টমীর দিন চণ্ডীপাঠ ও পুজোর মাধ্যমে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেন বংশপরম্পরার মৃৎশিল্পী। ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় হয় ‘আমন্ত্রণ-অধিবাস’। পরিবারের বহু পুরানো অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সেদিন দেবীকে সাজানো হয়।
অষ্টমীর সকালেও রয়েছে বিশেষ রীতি। ১০৮ ঘড়া জল দিয়ে দেবীকে স্নান করানো হয়। সন্ধিপুজোর সময় বন্দুকের তোপধ্বনির রীতি রয়েছে এই বাড়িতে। আর নবমীর দিন দেবীকে নিবেদন করা হয় ৫৬ রকমের পদ। পুজো শেষে সেই ভোগ শুধু পরিবারের সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এলাকার মানুষ থেকে দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা—সবার মধ্যেই বিলি হয় সেই প্রসাদ।
এই বাড়ির পুজোর আর একটি উল্লেখযোগ্য দিক সপ্তমীর অর্ধরাত্রির পুজো। তেহট্ট এলাকায় এই পরিবারের পুজোতেই সপ্তসতী শ্লোক পাঠ করে হোম শুরুর রীতি রয়েছে বলে পরিবারের দাবি।
বর্তমানে পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায় ও তাঁর ছেলে সুস্নাত গঙ্গোপাধ্যায় পুজোর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। পবিত্রবাবুর কথায়, আমাদের কাছে এই পুজো শুধু উৎসব নয়, পূর্বপুরুষের রেখে যাওয়া ঐতিহ্য। তালপাতার পুঁথিতে যে নিয়ম লেখা রয়েছে, আজও আমরা সেই নিয়মেই পুজো করি। সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু পুজোর রীতিতে বদল আসেনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ