Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অভয় ও ঈশানের হাতে গড়ে উঠছে দুর্গা, দুই কিশোরের প্রতিভার তারিফ

একজন ষষ্ঠ, অন্যজন নবম শ্রেণির পড়ুয়া। দু’জনেই একই স্কুলের ছাত্র। এই দুই ছেলের মধ্যে আর একটি বিষয়ে মিল রয়েছে

অভয় ও ঈশানের হাতে গড়ে উঠছে দুর্গা, দুই কিশোরের প্রতিভার তারিফ
  • ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: একজন ষষ্ঠ, অন্যজন নবম শ্রেণির পড়ুয়া। দু’জনেই একই স্কুলের ছাত্র। এই দুই ছেলের মধ্যে আর একটি বিষয়ে মিল রয়েছে। দু’জনেই দুর্গা প্রতিমা গড়ছে। ছোট, ছোট হাতে মাটির তাল নিয়ে দেব, দেবীর মূর্তি গড়তে যে ওদের খুব ভাল লাগে। পড়াশোনার পাশাপাশি দু’জনেই তাই ঠাকুর গড়ার নেশায় বুঁদ হয়ে যায়। কান্দি শহরের দুই ওয়ার্ডে এবার এই দুই ছাত্রের হাতে তৈরি দেবী দুর্গাই পুজিত হবে। দুই কিশোর ঈশান প্রামাণিক ও অভয় দাসের নজরকাড়া প্রতিভা দেখে উৎসাহ দিচ্ছেন স্থানীয়রা।

Advertisement

শহরের ভোলানাথপুর ঘোষপাড়ার ঈশান কান্দি রাজ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। বাবা জীবনকৃষ্ণ প্রামাণিকের কান্দি বাজারে একটি কাপড়ের দোকান রয়েছে। ঈশান অবশ্য কোনও শিল্পীর কাছেই প্রতিমা গড়ার পাঠ নেয়নি। কিন্তু ছোট থেকেই কাদা দিয়ে পুতুল তৈরি করত ছেলেটা। গত কয়েকবছর ধরে প্রতিমা তৈরির চেষ্টা করেছে। এতদিন হাত পাকিয়ে এবার ছোট্ট ছেলেটা দুর্গা প্রতিমা বানিয়ে ফেলেছে। পাশের ওয়ার্ডে জীবধরপাড়ার একটি মণ্ডপে ঈশানের হাতে তৈরি প্রতিমা এবছর পূজিত হবে। একমাস ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে ছেলেটা। ঈশান জানায়, প্রায় দেড় ফুটের দুর্গা প্রতিমা তৈরি করেছি। এটি নির্মাণে একমাস লেগেছে। এখনও কাপড়ের কাজ বাকি। পুজোর আগেই সেসব সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। 
ঈশানের বাবা জীবনকৃষ্ণবাবু জানান, ছেলের ছোট থেকেই কাদামাটি দিয়ে ঠাকুর, পুতুল গড়ার নেশা। আমরাও ওকে উৎসাহ দিয়ে গিয়েছি। এখন লেখাপড়ার পাশাপাশি ঠাকুর গড়তে পারছে। এটাই আনন্দের। অন্যদিকে, কান্দি শহরেরই কৃষ্ণবাগানের ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়া অভয় দাসও এবছর প্রায় সাড়ে তিন ফুটের একটি দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করছে। অজয়ের হাতে তৈরি প্রতিমার রষোড়ার এক মণ্ডপে পুজো হবে। অভয় জানায়, প্রায় দু’মাস ধরে দুগ্গাঠাকুর তৈরি করছি। এখন রংয়ের কাজ চলছে। এরপর সাজসজ্জা পরিয়ে দিলেই রেডি হয়ে যাবে।
অভয় অবশ্য প্রতিমা শিল্পীর পরিবারেরই ছেলে। ওর বাবা ও ঠাকুরদা 
বহুবছর প্রতিমা গড়ছেন। অভয়ের বাবা অজয়কুমার দাস বলেন, আমিও আমার বাবার কাছে ঠাকুর তৈরি শিখেছি। সেভাবেই আমার কাছ থেকেই অভয় শিখছে।
এই দুই স্কুল ছাত্রের প্রতিভাকে উৎসাহ দিচ্ছেন স্থানীয়দের অনেকে। কান্দি রাজ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ওরা স্কুলের গর্ব। ওদের হাতের শিল্পনৈপূন্য এত সুন্দর যে এর ব্যাখা করা কঠিন। ওদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি। কান্দির তৃণমূল বিধায়ক অপূর্ব সরকারের কথায়, শহরের এমন অনেক প্রতিভা রয়েছে যাদের আমরা মর্যাদা দেওয়ার চেষ্টা করি। শহরের শিল্প সংস্কৃতির প্রকৃত উদাহরণ এই দুই ছাত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ