নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজো শুরুর আগেই দুর্গা দর্শনের সুযোগ। সেই আয়োজন করেছে দক্ষিণ কলকাতার দুই নামকরা পুজো কমিটি। এ কথা ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে পাটুলির কেন্দুয়া শান্তি সঙ্ঘ। পাশাপাশি এবার ৭৫তম বর্ষে দুর্গাপুজো প্রিমিয়ারের সুযোগ দিচ্ছে বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন। সেখানে টিকিট কেটে দেখা যাবে ঠাকুর। দুই পুজো কমিটি সংগৃহীত টাকা জনকল্যাণে দান করবে বলে জানিয়েছে।
শান্তি সঙ্ঘ জানিয়েছে, এবার ২১ সেপ্টেম্বর মহালয়া। তার আগে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাতৃ দর্শনের সুযোগ মিলবে। সিঙ্গল, কাপল, গ্রুপ নানা ধরনের টিকিট থাকছে। ন্যূনতম ১০০ টাকা, সর্বোচ্চ ফ্যামিলি পাস (চারজন) ৩০০ টাকা। সাংবাদিক বৈঠকে পুজোর আয়োজক বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত বলেন, গরীব মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার লক্ষ্যে ও মূলত প্রবীণ নাগরিকদের ভিড় থেকে বাঁচিয়ে মাতৃ দর্শনের সুযোগ দিতে এই পদক্ষেপ। যে টাকা উঠবে তা ইসকনকে দান করা হবে। সম্মেলনে ছিলেন থিম শিল্পী সুশান্ত শিবানী পাল ও ইসকনের সহ সভাপতি রাধারমণ দাস।
অন্যদিকে বালিগঞ্জ কালচারালের তরফে পুজো উদ্যোক্তা অঞ্জন উকিল জানিয়েছেন, ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর দুর্গা দর্শনের সুযোগ দেওয়া হবে। টিকিট বিক্রির টাকা ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ বা মুখ্যমন্ত্রীর রিলিফ ফান্ডে দান করা হবে। তাঁর কথায়, ‘৭৫ বছরে বালিগঞ্জ কালচারালে যে পুজো হতে চলেছে তা সকলকে দেখতেই হবে। চমক সৃষ্টি হতে চলেছে। পুজোর চার-পাঁচদিন প্রচণ্ড ভিড় থাকে। ভিড়ের সময় দাঁড়িয়ে ভালো করে মণ্ডপ দেখার সুযোগ নেই। তাই একটা প্রি-পুজো দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। শিল্পীর থেকে থিম সম্পর্কে শোনার সুযোগও থাকবে। ফাঁকায় ফাঁকায় এই শিল্প মানুষ উপভোগ করতে পারবেন। কেন্দুয়া শান্তি সঙ্ঘ ও বালিগঞ্জ কালচারাল, এই দুই পুজোতেই নিজের সৃষ্টিকর্ম ফুটিয়ে তুলছেন সুশান্ত শিবানী পাল। টালা পার্ক প্রত্যয়ের হাত ধরে পুজোর আগে ঠাকুর দর্শনের আয়োজন ‘মাস আর্ট’ জনপ্রিয় হয়েছে। বিগত বেশ কয়েক বছর সেই পুজোর থিম শিল্পী ছিলেন সুশান্ত। এবার টালা প্রত্যয়ের পুজোয় তিনি নেই। যে পাঁচদিন ‘মাস আর্ট’ চলবে, সেই সময়সীমাই দুর্গাপুজোর প্রিমিয়ারের জন্য বেছে নিয়েছে কেন্দুয়া শান্তি সঙ্ঘ। কোথাও কি এটা পুজো নিয়ে ইগোর লড়াই? কেন্দুয়ার শান্তি সঙ্ঘের তরফে বাপ্পাদিত্য বলেন, কোনও লড়াই নয়। গত কয়েক বছরে সমষ্টিগতভাবে পুজোর প্রিভিউ দেখানোর উদ্যোগ যে নেওয়া হয়েছে তাতে শহরের অনেক ভালো পুজো কমিটি নেই। তাছাড়া হাজার হাজার টাকা দিয়ে সকলের পক্ষে এভাবে পুজো দেখার ক্ষমতাও থাকে না। তাই আমরা অত্যন্ত কম পয়সায় দুর্গাপুজো প্রিমিয়ারের সুযোগ করে দিচ্ছি। অন্যদিকে ‘মাস আর্ট’ এর যার মূল উদ্যোক্তা টালা পার্ক প্রত্যয়ের ধ্রবজ্যোতি বসু (শুভ) বলেন, যে কেউ পুজোর প্রিভিউ করতে পারে। কিন্তু একটা বা দু’টো আলাদা পুজোর প্রিমিয়ার আর সমষ্টীগতভাবে পুজোর প্রিভিউয়ের মধ্যে অনেকটা তফাৎ। এটা শুধু মণ্ডপ খুলে দেখিয়ে দেওয়া নয়। তার মধ্যে অনেক রসদ আছে। থিম ভিডিও তৈরি করা, ইন্টারন্যাশনাল বুকলেট থেকে শুরু করে নানাবিধ আয়োজন থাকে। গোটা বিষয়টি সাজিয়ে দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরা হয়। নানা সুযোগ-সুবিধা দিতে হয়। গাইডলাইন আছে, রুট রয়েছে। একটা একটা পুজোর থিম জানানোর জন্য ন্যারেটররা থাকেন।