নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রবল বৃষ্টিতে বানভাসি কলকাতা। উত্তর থেকে দক্ষিণ শহরতলি সর্বত্র একই ছবি। কিন্তু, তাতেও ঠাকুর দেখা ঠেকায় কে! এর মধ্যেই হাঁটু জল মাড়িয়ে উৎসাহীরা ঠাকুর দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন শ্রীভূমিতে! যদিও, শহরের অন্যত্র নামী পুজো মণ্ডপগুলিতে সেভাবে ঠাকুর দেখার ভিড় দেখা যায়নি। কারণ, বহু পুজো কমিটি মণ্ডপের আলো বন্ধ করে রেখেছিল। তবে জল ঠেলে দুপুরের দিকে শ্রীভূমিতে দর্শনার্থীদের আনাগোনা লক্ষ করা গিয়েছে। লেকটাউনে থার্ড লেন, বাই লেন, এমনকি প্যান্ডেলের গলিতেও জল ছিল। অতি উৎসাহীরা দূর থেকেই এই অবস্থায় শ্রীভূমির ঠাকুর দেখতে এসেছিলেন। কিন্তু বেলা কিংবা দুপুরের দিকে তাঁদের সকলকেই মণ্ডপের বাইরে থেকে ‘দুধের স্বাদ ঘোলে মিটিয়ে’ চলে যেতে হয়েছে। যদিও বিকেলের পর থেকে শ্রীভূমির প্যান্ডেল খুলে দেওয়া হয়। তারপর দর্শনার্থীরা প্রতিমা দেখার সুযোগ পান।
শ্রীভূমিতে এমন ছবি দেখা গেলেও শহরের অন্যত্র রাস্তার জমা জল ঠেঙিয়ে দর্শনার্থীদের ভিড় উপচে পড়ছে কিংবা মণ্ডপের বাইরে তাঁরা ভিড় করছেন, এমন ছবি অবশ্য দেখা যায়নি। বিক্ষিপ্তভাবে কিছু প্যান্ডেলে জমা জল পেরিয়ে ইতি উতি উৎসাহীদের দেখা গিয়েছে। তবে, কলকাতার দুর্গাপুজোর সংগঠন ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের তরফে শহরের সমস্ত পুজো কমিটিকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল, যাতে তারা মণ্ডপের বিদ্যুৎ বন্ধ রাখে। সেক্ষেত্রে তড়িদাহত হয়ে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকবে না। যদিও তার মধ্যে কেউ কেউ হাতিবাগান নবীন পল্লি, হরিদেবপুর ৪১ পল্লি, নাকতলা উদয়ন সংঘ, রাজডাঙা নবম উদয় সংঘ, হাতিবাগান সর্বজনীন, বালিগঞ্জ কালচারাল, হিন্দুস্থান পার্ক কিংবা ত্রিধারার মতো মণ্ডপে আনাগোনা করেছেন। তবে ঠাকুর দেখতে পারেননি। বালিগঞ্জ কালচারালের তরফে অঞ্জন উকিল বলেন, কোনও কোনও অতি উৎসাহী এই জল ঠেলে ঠাকুর দেখতে চলে আসছেন। তবে সেই সংখ্যা খুব কম। আমরা আমাদের মণ্ডপের লাইট বন্ধ রেখে দিয়েছি।
অন্যদিকে, গড়িয়াহাট চত্বরে পুজোর কেনাকাটা চললেও হাতিবাগান মার্কেট বন্ধ ছিল। কারণ পুরো জলমগ্ন ছিল গোটা মার্কেট। যদিও তার মধ্যেও যাঁরা দোকান খুলেছিলেন, সেই সমস্ত দোকানে ক্রেতাদের আনাগোনা লক্ষ করা গিয়েছে। নিজস্ব চিত্র