নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চিড়িয়া মোড়, দমদম রোড, সেভেন ট্যাঙ্কস, বীরপাড়াসহ দমদমের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে জমা জলের সমস্যা রয়েছে। সেই সমস্যা মেটাতে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে ভূগর্ভস্থ নিকাশি পরিকাঠামো তৈরির কাজ চলছে। এর ফলে দমদম রোডের অবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছিল। খোঁড়াখুঁড়ি হওয়ায় বিস্তর ভোগান্তি সামলে এই পথে যাতায়াত করতে হচ্ছিল এলাকাবাসী ও নিত্যযাত্রীদের। অবশেষে মিলল স্বস্তি! দুর্গাপুজোর আগে নতুন রাস্তা হয়েছে সেখানে। মসৃণ পথে যাতায়াত হয়েছে সহজ।
সেই ব্রিটিশ আমল থেকে এই অঞ্চল কলকাতা পুরসভার আওতাভুক্ত হলেও ভূগর্ভস্থ নিকাশিনালা ছিল না এখানে। খোলা নর্দমা রয়েছে। কোথাও কোথাও ঢাকা দেওয়া ছিল। অঞ্চলের অলিগলিতেও নেই ভূগর্ভস্থ নিকাশি। এবার তাই গোটা অঞ্চলের জমা জলের দুর্ভোগ দূর করতে প্রায় তিন কিলোমিটার পথে (২.৭ কিমি) নতুন করে ভূগর্ভস্থ নিকাশি পাইপলাইন পাতার কাজ হচ্ছে। বীরপাড়া নিকাশি পাম্পিং স্টেশনে যুক্ত করা হয়েছে ওই পাইপলাইন। বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ২৮ কোটি টাকা। এর পাশাপাশি এই এলাকার বিভিন্ন গলিপথেও ভূগর্ভস্থ নিকাশি (ল্যাটারাল ড্রেনেজ লাইন) তৈরিতে আরও ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।
পুরসভার নিকাশি বিভাগ জানাচ্ছে, নতুন এই পাইপলাইন বসে গেলে উপকৃত হবে ২ নম্বর ওয়ার্ডের বেশিরভাগ এলাকা এবং ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের একাংশ। চিড়িয়া মোড় থেকে দমদম রোড ধরে ছানাপট্টি হয়ে এই মূল লাইন বীরপাড়া নিকাশি পাম্পিং স্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। সেই জল যাবে বাগজোলা খালে। চিড়িয়া মোড়, সবজিবাগান, সেভেন ট্যাঙ্কস, বীরপাড়া, রাজাবাগান, টিকিয়াপাড়া, পঞ্চাশ ফুট এলাকার বাসিন্দাদের ভোগান্তি মিটবে। আর সেই কাজ করতে গিয়েই গোটা দমদম রোডে হাঁটাচলাই দায় হয়ে উঠেছিল। বৃষ্টিতে কর্দমাক্ত অবস্থা। বিভিন্ন জায়গায় বড়ো গর্ত। কাজের জন্য দেওয়া ছিল বাঁশের ব্যারিকেড। সব মিলিয়ে চরম দুর্ভোগ চলছিল। পুরকর্তারা জানাচ্ছেন, মূল রাস্তার নীচে নতুন করে প্রমাণ সাইজের নিকাশি পাইপলাইন পাতা হয়েছে।
রাজাবাগান অঞ্চলে কোনো নিকাশিনালাই নেই। তাই এই মূল রাস্তার নিকাশি লাইন পাতার পর সেখানকার বিভিন্ন গলিপথে নালা তৈরি করা হচ্ছে। তবে দমদম রোডের প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তায় বেশিরভাগ কাজ হয়ে গিয়েছে। কিছু কিছু গলির মুখে কাজ বাকি রয়েছে। সেটা পুজোর পরে করা হবে। আপাতত নাগরিক-ভোগান্তি মেটাতে রাস্তা নতুন করে সুন্দরভাবে বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। - সংস্কারের পর দমদম রোড। নিজস্ব চিত্র