নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: চৈত্রের শুরুতেই ঝোড়ো হওয়ায় ঘটল বিপত্তি। শিলিগুড়ি শহরের প্রাণকেন্দ্র হাসমিচকের কাছে বিধান রোডে সোমবার গাড়ির উপর ভেঙে পড়ে গাছ। অন্যদিকে, নকশালবাড়ির বাবুপাড়ায় রাজ্য সড়কের পাশে থাকা একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ দমকা হাওয়ায় গোড়া থেকে উপড়ে পড়ে। দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যার পরেও হাওয়ার সঙ্গে ধুলো ওড়ায় রাস্তায় চলাচল করাই কার্যত দুষ্কর হয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের। সিকিম কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, কালবৈশাখী নয় পাহাড় ও সমতলের কিছু জায়গায় বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হওয়ার ফলেই আবহাওয়ার এই পরিবর্তন।
দমকা হাওয়ায় কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের সামনে বিধান রোডে একটি গাড়ির উপর ভেঙে পড়ে কদম গাছ। দুপুর থেকে শুরু হওয়া হাওয়ায় শহরের একাধিক এলাকাতেই গাছের বড় ডাল ভেঙে পড়ে। বিধান রোডে রাস্তার মাঝে থাকা লোহার ডিভাইডারের জন্য প্রাণে বেঁচে যান গাড়ির চালক সহ পথ চলতি কয়েকজন। খবর পেয়ে হাসমিচকে ডিউটিতে থাকা ট্রাফিক পুলিস কর্মীরা পৌঁছে কোনওমতে গাড়ি চালককে বাইরে বের করে আনেন। ব্যস্ত রাস্তায় আস্ত গাছ ভেঙে পড়ায় কিছুক্ষণ ওই পথে যানজট হয়। পুলিস ও দমকল কর্মীরা পৌঁছে দ্রুত গাছ রাস্তা থেকে সরিয়ে দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করে দেয়। যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতে ৩০ মিনিট গড়িয়ে যায়। এদিনই শিলিগুড়ি বয়েজ হাইস্কুলের সামনে একটি গাছের মোটা ডাল হাওয়ার জেরে ভেঙে পড়ে। যদিও ওই ঘটনায় কেউ জখম হননি।
সিকিম কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের আধিকারিক গোপীনাথ রাধা বলেন, এটা কালবৈশাখী নয়। তবে পাহাড় ও সমতলের কিছু জায়গায় বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হওয়ার ফলে আবহাওয়ার এমন পরিবর্তন। পাশাপাশি খানিকটা হিমেল হাওয়ার পরশ মিলছে। আগামী দুই-তিন দিন পর বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। তারপর আবহাওয়ার পরিবর্তন হবে।
এদিকে, নকশালবাড়ির বাবুপাড়ায় হাওয়ার দাপটে হেলে পড়ে কৃষ্ণচূড়া গাছ। খেমচি সেতু সংলগ্ন একটি দোকানের পাশেই কৃষ্ণচূড়া গাছটি। শিকড় সহ উপড়ে পড়ে গাছটি। ওই গাছটি হেলে মাটিতে না পড়লেও অন্য একটি গাছের ডালের উপর আটকে আছে। সেই ডাল আবার শুকনো। ফলে সেটিও যেকোনও সময় ভেঙে পড়তে পারে। হাওয়ার কারণে নকশালবাড়ি থেকে শিলিগুড়ি যাওয়ার রাস্তায় বেশ কয়েকটি গাছও এদিন হেলে পড়েছে। নকশালবাড়ি নন্দপ্রসাদ বালিকা বিদ্যালয়ের পাশে তিনটি শুকনো গাছ হেলে গিয়ে স্কুলের কংক্রিটের সীমানা প্রাচীরের উপর পড়ে আছে।
বিডিও অফিস সংলগ্ন রাস্তায় বেশ কয়েকটি শুকনো গাছ রয়েছে। হাওয়ায় ওসব গাছ যেকোনও সময় পড়ে যেতে পারে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা। নকশালবাড়ির বিডিও প্রণব চট্টরাজ জানিয়েছেন, হেলে পড়া বিপজ্জনক গাছ সরিয়ে দিতে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টিমকে জানানো হয়েছে। রাস্তার পাশে যেসব শুকনো, মরা গাছ আছে সেসব গাছ চিহ্নিত করে কেটে ফেলতে পূর্তদপ্তরে চিঠি করা হয়েছে। নকশালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধান বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, সন্ধ্যায় গাছটি কাটা হয়।
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, পাহাড়ের কিছু জায়গায় ও সমতলে আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর সামান্য বৃষ্টি হতে পারে। তবে শনিবার থেকে বঙ্গোপসাগরের উপরে বিপরীত ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হওয়ায় বৃষ্টির সম্ভাবনা কথা আবহাওয়া দপ্তর শুনিয়েছে।
নিজস্ব চিত্র।