Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

ফেল কড়ি মাখ তেল নীতির কারণে ভীষণই শুনশান পুরীর গোল্ডেন বিচ

ভোরেই পুরীতে স্বর্গদার বিচ পর্যটক-তীর্থযাত্রীর ভিড়ে জমজমাট। বেড়ার ওপারে বিচেরই প্রায় ৯০০ মিটার দীর্ঘ এলাকা শুনশান। বেড়ার ফাঁক গলে ওপারে যাওয়ার কোনও সুযোগ নেই।

ফেল কড়ি মাখ তেল নীতির কারণে  ভীষণই শুনশান পুরীর গোল্ডেন বিচ
  • ৮ আগস্ট, ২০২৫ ১৬:০৮
Prefer us on Google

কৌশিক ঘোষ, কলকাতা: ভোরেই পুরীতে স্বর্গদার বিচ পর্যটক-তীর্থযাত্রীর ভিড়ে জমজমাট। বেড়ার ওপারে বিচেরই প্রায় ৯০০ মিটার দীর্ঘ এলাকা শুনশান। বেড়ার ফাঁক গলে ওপারে যাওয়ার কোনও সুযোগ ঩নেই। সতর্ক নজর রেখেছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। পুরী বিচের ওই অংশটার নাম ‘গোল্ডেন বিচ’। দেশের যে আটটি সমুদ্র সৈকত আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য ‘ব্লু ফ্ল্যাগ’ তকমা কয়েকবছর আগেই পেয়েছে, তার মধ্যে আছে এই বিচটি। স্বর্গদার বিচের শেষ প্রান্ত থেকে প্রায় এক কিমি পেরিয়ে গেট দিয়ে ঢুকতে হয় গোল্ডেন বিচে। কিন্তু তার জন্য গুনতে হয় টাকা। বিচে শুধু তিনঘণ্টা থাকার জন্য মাথাপিছু ২০ টাকার টিকিট কাটতে হয়। স্নানের জন্য দিতে হয় আরও ৫০ টাকা। বিচে বিশেষ চেয়ারে বসতে গেলেও ঘণ্টাপিছু ২০ থেকে ২০০ টাকা খরচ। বিচে ফুটবল বা ভলিবল খেলতে গেলে কাটতে হবে ৫০ টাকার টিকিট। শৌচাগার ও স্নানের পর পোশাক পরিবর্তনের ঘর ব্যবহার করতেও খরচ আছে।

Advertisement

স্বাভাবিকভাবেই পুরীতে যেসব পর্যটক ও তীর্থযাত্রী আসেন, তাঁদের বেশিরভাগই গোল্ডেন বিচে ঢুকতে আগ্রহ দেখান না। স্বর্গদার বিচে ভোর থেকে রাত পর্যন্ত  হরেকরকম খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে ঘুরে বেড়ান হকাররা। এই বিচে আছে উটে চড়ে বেড়ানোর ব্যবস্থা। কিন্তু গোল্ডেন বিচ ঝাঁ চকচকে পরিষ্কার রাখার জন্য এসবের প্রবেশ নৈবচ। খাওয়ার ইচ্ছা হলে যেতে হবে রেস্তরাঁয়। 
যাঁরা কিছু খরচ করে নিরিবিলিতে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান তাঁদের জন্য অবশ্য আদর্শ হল গোল্ডেন বিচ। পরিষ্কার সমুদ্রে নিরাপদে স্নান করার জন্য কোন জায়গাটা ঠিকঠাক তা চিহ্নিত করে রাখা আছে। পাশপাশি পর্যটকরা সমুদ্রে স্নান করতে গিয়ে বিপদে পড়লে তাঁদের উদ্ধার করার জন্য নজর রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। বিচ ধরে হাঁটার জন্য রয়েছে সুন্দর করে বাঁধানো রাস্তা। বিচে কোথাও নোংরা পড়ে নেই। প্লাস্টিকের ব্যবহার এখানে নিষিদ্ধ। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বালি-ভাস্কর সুদর্শন পট্টনায়েকের সৃষ্টিকর্ম দেখারও সুযোগ মিলতে পারে এখানে। সবুজ ধরে রাখতে বিচে লাগানো হয়েছে নানা ধরনের গাছ ।
সেখানে বাইরে থেকে আসা পর্যটক-তীর্থযাত্রীদের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের ভিড়ে ঠাসা স্বর্গদার বিচ রয়েছে একইরকম। বিচের মধ্যে দুই প্রান্তেই গিজগিজ করছে অস্থায়ী স্টল। মানুষের ভিড়ে স্বাভাবিকভাবেই পরিচ্ছন্নতা অনেকটাই কম এখানে। পেভার ব্লক বসানো বিচের পাশে যে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে সেটাও মসৃণ নয়। তবে স্বর্গদার বিচের ধারে কিছু অংশে বসানো হয়েছে ঝাউগাছ। সেগুলো এখনও তেমন উঁচু হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা হকার অনিন্দ্য পতির কথা, এটা নবীনবাবুর সময়ে (প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের) হয়েছে। স্বর্গদার বিচের হকার স্টলগুলির পাশে শ্রীচৈতন্যের নতুন একটি মূর্তি কয়েকবছর আগে বসানো হলেও সেখানেও অযত্নের ছাপ স্পষ্ট।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ