Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সিপিএমের ষড়যন্ত্রে ২০০২ সালের তালিকায় নাম নেই বহু তৃণমূল কর্মীর, সরগরম বর্ধমান

বাম জমানায় সিপিএম প্রভাব খাটিয়ে বহু তৃণমূল মনোভাবাপন্ন পরিবারের সদস্যদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে।

সিপিএমের ষড়যন্ত্রে ২০০২ সালের তালিকায় নাম নেই বহু তৃণমূল কর্মীর, সরগরম বর্ধমান
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বাম জমানায় সিপিএম প্রভাব খাটিয়ে বহু তৃণমূল মনোভাবাপন্ন পরিবারের সদস্যদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম নেই। ওই পরিবারের সদস্যরা এখন বিপাকে পড়ে গিয়েছেন। তন্নতন্ন করে ভোটার তালিকা খুঁজেও পূর্বপুরুষদের নাম না পাওয়া যাওয়ায় তাঁদের অন্য নথি জোগাড় করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, সেই সময় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া সিপিএমের কাছে কঠিন কাজ ছিল না।

Advertisement

বর্ধমানের শালবাগানের বাসিন্দা পিকু ক্ষেত্রপাল। তাঁর পরিবার প্রথম থেকেই বাম বিরোধী হিসেবে পরিচিত। তাঁর বাবা হারু ক্ষেত্রপাল এবং মা প্রমীলা ক্ষেত্রপালের নাম ভোটার তালিকায় নেই। পিকুবাবু বলেন, সিপিএম পরিকল্পনা করেই আমাদের মতো বহু পরিবারের নাম ভোটার তালিকা থেকে সরিয়ে দিয়েছিল। কোন বুথে কারা তাদের ভোটার, সেটা সিপিএম নেতারা ভালোই জানত। সেইমতো তারা বাম বিরোধীদের আলাদা আলাদাভাবে চিহ্নিত করত।
শহরের নীলপুরের বাসিন্দা শ্যামল রায়। তাঁদের পরিবারও বাম বিরোধী হিসেবে পরিচিত ছিল। তাঁর বাবা ও মায়ের নামও ভোটার তালিকায় নেই। শ্যামলবাবু বলেন, কয়েক পুরুষ ধরে আমরা বর্ধমানে রয়েছি। অথচ বাবা-মায়ের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এটা সিপিএমের বরাবরের স্ট্র্যাটেজি ছিল। এসআইআর চালু হওয়ায় এখন স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে অন্যান্য নথি জোগাড় করতে হচ্ছে। তৃণমূলের দাবি, তখন কমিশন সিপিএমের কথায় পরিচালিত হতো। এখন বিজেপির কথায় চলছে। দুই দলের একটাই লক্ষ্য, তৃণমূল মনোভাবাপন্ন ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া। বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস বলেন, সিপিএমের সময় কী হতো, তা রাজ্যের বাসিন্দাদের জানা আছে। বহু ভোটারের নাম তারা ইচ্ছাকৃতভাবে তালিকা থেকে বাদ দিতে চেয়েছিল। একই কাজ এখন বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে করাতে চাইছে। তবে, তা এতটা সহজ হবে না। কোনও বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গেলে বৃহত্তর আন্দোলন করা হবে। সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য হারাধন মণ্ডল বলেন, কখনই বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পক্ষে আমরা নই। তবে আমরা চাই মৃত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ যাক। যাঁদের নাম একাধিক জায়গায় রয়েছে, সেগুলি তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য সওয়াল করেছি। তৃণমূল বা বিজেপি কুৎসা ছড়িয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ তা বলেন, অবৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছি। কিন্তু কোনও বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গেলে আন্দোলন হবে। তৃণমূল গুজব ছড়িয়ে ভোটারদের বিভ্রান্ত করছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ