Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খুলল দুধিয়ার হিউমপাইপ সেতু, ফের মিরিকে ঢল নামবে পর্যটকের

পর্যটকদের জন্য সুখবর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা অনুসারে সোমবার দুধিয়ায় বালাসন নদীর উপর চালু হল হিউমপাইপ সেতু। ফের চালু শিলিগুড়ি-দুধিয়া-মিরিক সড়ক।

খুলল দুধিয়ার হিউমপাইপ সেতু, ফের মিরিকে ঢল নামবে পর্যটকের
  • ২৮ অক্টোবর, ২০২৫ ১৬:১০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: পর্যটকদের জন্য সুখবর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা অনুসারে সোমবার দুধিয়ায় বালাসন নদীর উপর চালু হল হিউমপাইপ সেতু। ফের চালু শিলিগুড়ি-দুধিয়া-মিরিক সড়ক। অবশ্য দশ টনের বেশি পণ্য নিয়ে যানবাহন সেতুটি দিয়ে চলাচল করতে পারবে না। বিকল্প সেতু চালু হওয়ায় স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটন ব্যবসায়ীরা উচ্ছ্বসিত। তবে, এখনই খুলছে না ধস বিধ্বস্ত পাহাড়গামী রোহিনী রোড। রাস্তাটি পুনরুদ্ধার করতে আরও দু’মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছে জিটিএ কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

শিলিগুড়ির সঙ্গে ‘কমলা সিটি’ মিরিকের সড়ক যোগাযোগের অন্যতম রাস্তা দুধিয়া রোড। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে দুধিয়ায় ভেঙে যায় বালাসন সেতু। সেই সেতুর বিকল্প হিসাবে সেখানে হিউমপাইপ সেতু তৈরি করে পূর্তদপ্তর (সড়ক)। রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় সংশ্লিষ্ট সেতু তৈরির কাজ শেষ হওয়ার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি সেতুটি চালু করার কথা ঘোষণা করেছিলেন। সেই মতো এদিন সকাল থেকে সেতুটি দিয়ে শিলিগুড়ি ও মিরিকের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ শুরু হয়েছে।
পূর্তদপ্তরের (সড়ক) শিলিগুড়ির এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার আনন্দময় মণ্ডল বলেন, এখানে অনেক প্রতিবন্ধকতা ছিল। তা হলেও ১৬ দিনের মধ্যে ১৩২টি হিউমপাইপ, বোল্ডার, তারজালি দিয়ে সেতুটি তৈরি করা হয়েছে। সেতুটি দিয়ে ১০ টনের বেশি ওজনের যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। যান নিয়ন্ত্রণে সেতুর দু’পাশে মোতায়েন করা হবে ট্রাফিক পুলিশ। পাশাপাশি, পূর্তদপ্তর দৈনিক সেতুটি তদারকি করবে।
বিধ্বংসী বিপর্যয়ের ২৩ দিনের মধ্যে বিকল্প সেতুটি চালু হওয়ায় উচ্ছ্বসিত স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়রা বলেন, রাস্তাটি বন্ধ থাকায় সুখিয়াপোখরি থেকে ঘুম, কার্শিয়াং হয়ে পর্যটকরা নামছিলেন শিলিগুড়িতে। এজন্য তাঁরা হয়রান হচ্ছিলেন। দুধিয়া সেতু খুলে যাওয়ায় সুখিয়া, পশুপতি, সীমানা প্রভৃতি দর্শনীয় স্থান থেকে সরাসরি মিরিক হয়ে শিলিগুড়িতে নামতে পারবেন পর্যটকরা।
একইসঙ্গে ফের পর্যটকের ভিড়ে সরগরম হবে মিরিক। শিলিগুড়ির ট্যুর অপারেটর সম্রাট সান্যাল বলেন, এতে পর্যটকদের যেমন সুবিধা হবে, তেমনি দার্জিলিংগামী ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক ও পাঙ্খাবাড়ি রোডের উপর চাপ কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ হবে। কার্শিয়াংয়ের সেন্টমেরিস-৩ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সন্তোষ তামাং বলেন, বিকল্প সেতুটি চালু হওয়ায় মিরিকবাসীর উপকার হয়েছে। তাঁদেরকে আর ঘুরপথে শিলিগুড়ি যেতে হবে না। পাশাপাশি, মিরিক-কার্শিয়াংয়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্থানীয় হাট ও বাজারের ব্যবসায়ীদেরও সুবিধা হবে। দুধিয়ায় বন্ধ থাকা হাট আবার চালু হবে।
প্রসঙ্গত, গত ৪ অক্টোবর প্রবল বর্ষণ, নদীর জলস্ফীতি, ধসের জেরে পাহাড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। দুধিয়া সেতুর পাশাপাশি রোহিনী রোডের বিশাল অংশ ধসে যায়। সেই রাস্তা এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি। যারফলে, শিলিগুড়ি থেকে খাপরাইল, শিমুলবাড়ি, রোহিনী হয়ে কার্শিয়াংয়ের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। জিটিএ’র মুখপাত্র শক্তিপ্রসাদ শর্মা বলেন, ওই রাস্তা নতুনভাবে তৈরি করতে হচ্ছে। কাজেই রাস্তাটি চালু করতে আরও বেশ কিছুদিন সময় লাগবে।  নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ