Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

যন্ত্র খারাপ, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত সময়ে চালু হল না দুধিয়ার সেতু

নদীর স্রোত অব্যাহত। সেই সঙ্গে বিগড়ে যাচ্ছে যন্ত্র। তাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষিত সময়সীমার মধ্যে দুধিয়ার বালাসন নদীতে তৈরি হল না হিউমপাইপ সেতু।

যন্ত্র খারাপ, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত সময়ে চালু হল না দুধিয়ার সেতু
  • ২৩ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: নদীর স্রোত অব্যাহত। সেই সঙ্গে বিগড়ে যাচ্ছে যন্ত্র। তাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষিত সময়সীমার মধ্যে দুধিয়ার বালাসন নদীতে তৈরি হল না হিউমপাইপ সেতু। সেখানে মাত্র ১০ মিটার অংশে পাইপ পাতা বাকি। বুধবার একথা জানান পূর্তদপ্তরের (সড়ক) ইঞ্জিনিয়াররা। একই সঙ্গে তাঁরা জানান, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কাজ শেষ করতে সময় লাগবে আরও পাঁচ-ছ’দিন। 

Advertisement

শিলিগুড়ি থেকে পাহাড়ে ওঠার কয়েকটি রাস্তা রয়েছে। সেগুলির মধ্যে অন্যতম দুধিয়া হয়ে মিরিকগামী রাস্তা। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে পাহাড়ে প্রবণ বর্ষণের জেরে ফুলেফেঁপে ওঠে বালাসন। নদীর তীব্র স্রোতের ধাক্কায় দুধিয়ায় সেতু ভেঙে যায়। যারফেল শিলিগুড়ি থেকে দুধিয়া হয়ে মিরিকগামী রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। এমন প্রেক্ষাপটে গত ৭ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট সেতুর ডাইভারসন ১৫ দিনের মধ্যে  তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তার দেওয়া সময়সীমা এদিন শেষ হয়। কিন্তু ওই ডাইভারসন বা হিউমপাইপ সেতু তৈরির কাজ শেষ হয়নি। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য কিছু জায়গায় নদীতে বাঁধ দিয়ে জল আটকাতে হচ্ছে। এজন্য নদীর গতিপথও কিছুটা পরবির্তন করতে হচ্ছে। তীব্র স্রোতের মধ্যে এভাবে নদীর অধিকাংশ জায়গায় হিউমপাইপ পেতেছে পূর্তদপ্তর। একইভাবে এদিন সকাল থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মীরা আরএকটি অংশে হিউমপাইপ পাতার কাজে হাত দেন। দুপুরে আচমকা বিগড়ে যায় যন্ত্র। যারজেরে দীর্ঘক্ষণ পাইপ পাতার কাজ থমকে ছিল। বিকেলে সেই কাজে হাত দেওয়া হলেও তা শেষ হয়নি। 
ভেঙে যাওয়া সংশ্লিষ্ট সেতুর একপাশে কার্শিয়াংয়ের দুধিয়া, আরএকপাশে মিরিকের দুধিয়া। নদীর ডাউন স্ট্রিমে ভেঙে যাওয়া সেতু থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে তৈরি হচ্ছে ডাইভারসন। পূর্তদপ্তর সূত্রের খবর, প্রাথমিকভাবে নদীর বুকে প্রায় ৬০ মিটার অংশে হিউমপাইপ পাতার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। স্রোত আটকে কাজ করার জন্য নদীর গতি ১০ মিটার চওড়া করতে হয়েছে। প্রায় ১০০টি হিউমপাইপ পেতে ৬০ মিটার অংশের কাজ শেষ হয়েছে। এখন আর ২০ থেকে ২৫টি পাইপ পেতে ১০ মিটার অংশের কাজ করা হবে। এরপর করা হবে অ্যাপ্রোচ রোড। অ্যাপ্রোচ রোড সহ সেতুটি প্রায় ৪০০ মিটার লম্বা। সেটি  চওড়া প্রায় আট মিটার। 
পূর্তদপ্তরের (সড়ক) দার্জিলিং জেলার এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার আনন্দময় মণ্ডল বলেন, ডাইভারসন তৈরির কাজ প্রায় শেষ। সবকিছু ঠিকঠাক চললে  আগামী সোমবার হিউমপাইপের এই সেতু পরীক্ষামূলকাভাবে চালু করা হবে। তবে গ্রামবাসীদের সুবিধার্থে হেঁটে যাতায়াতের জন্য একটি সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। 
এদিকে, পর্যটনের মরশুমে রাস্তাটি এখনও স্বাভাবিক না হওয়ায় পর্যটকদের একাংশ ক্ষুব্ধ। তাঁরা বলেন, দুধিয়া হয়ে মিরিক রোড ও রহিণী রোড দু’টি বন্ধ। এই অবস্থায় ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক ও পাঙ্খাবাড়ি রোড দিয়ে পাহাড়গামী যানবাহন চলাচল করছে। এতে সংশ্লিষ্ট দু’টি রাস্তায় ব্যাপক যানজট হচ্ছে। এরজেরে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ