Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুবরাজপুরে নতুনরূপে সেজে উঠেছে শ্রীশ্রীমনসা মাতা মন্দির

শতাব্দী প্রাচীন শ্রীশ্রীমনসা মাতা মন্দির নতুনরূপে সেজে উঠেছে। প্রায় ১ কোটি ১০ হাজার টাকা খরচে সুবিশাল মন্দির গড়ে উঠেছে দুবরাজপুরের লোবা পঞ্চায়েতের ফকিরবেড়া ও খোজকমলপুর গ্রামে।

দুবরাজপুরে নতুনরূপে সেজে উঠেছে শ্রীশ্রীমনসা মাতা মন্দির
  • ৩ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: শতাব্দী প্রাচীন শ্রীশ্রীমনসা মাতা মন্দির নতুনরূপে সেজে উঠেছে। প্রায় ১ কোটি ১০ হাজার টাকা খরচে সুবিশাল মন্দির গড়ে উঠেছে দুবরাজপুরের লোবা পঞ্চায়েতের ফকিরবেড়া ও খোজকমলপুর গ্রামে। বৃহস্পতিবার ওই মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন হয়। ফিতে কেটে মন্দিরের উদ্বোধন করেন চৈতন্যপুর গীতা ভবনের শ্রীসত্যানন্দ মহারাজ। এছাড়াও, সেখানে উপস্থিত ছিলেন দুবরাজপুর শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রমের শীর্ষসেবক স্বামী সত্যশিবানন্দ মহারাজ, বিশিষ্ট সমাজসেবী পিনাকী চক্রবর্তী প্রমুখ। মন্দিরের উদ্বোধনী পর্ব শেষ হতেই শুরু হয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান। মন্দির চত্বরে অগণিত পুণ্যার্থীর ঢল নামে। ফকিরবেড়া ও খোজকমলপুর গ্রাম ষোলোআনা কমিটির সদস্যরা বলেন, শতবর্ষ পুরনো এই মন্দিরকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার জন্য বহুদিন ধরেই পরিকল্পনা চলছিল। অবশেষে তা বাস্তবায়িত হল। এই মন্দিরে বিশেষ সময়ে পুজো-অর্চনার পাশাপাশি বছরভর নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নানা সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গেও মন্দির কমিটির প্রতিটি সদস্য জড়িত রয়েছেন। শুক্রবার সকালে শুরু হয় পুজো-অর্চনা। স্থানীয় ১০৮জন মহিলা প্রথমে অজয় নদ থেকে জল নিয়ে আসেন। এরপরই মন্দিরে দেবীর প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা হয়। সেইসঙ্গে পুজো ও হোম-যজ্ঞও চলতে থাকে। সন্ধ্যায় মনসামঙ্গল পালার আসর বসে। এছাড়াও, মন্দির উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে নাম সংকীর্তনের বিশাল আয়োজন করা হয়েছে। শতাব্দী প্রাচীন মন্দির নতুনরূপে সেজে ওঠায় খুশি সাধারণ মানুষ। বলা বাহুল্য, মন্দির চত্বরে উৎসবের মেজাজ রয়েছে। দেবীর প্রাণপ্রতিষ্ঠার শেষে এদিন মন্দির চত্বরে প্রায় তিন হাজার ভক্তকে পাত পেড়ে খাওয়ানো হয়। প্রায় ১০০বছর আগে ফকিরবেড়া ও খোজকমলপুর গ্রামের সীমানায় ওই মন্দিরটি গড়ে উঠেছিল। দুই গ্রামের বাসিন্দারাই মন্দিরে পুজো-অর্চনা থেকে শুরু করে দেখভালের কাজ করতেন। শুরুতে মন্দিরটি ছিল মাটির দেওয়াল ও খড়ের ছাউনি নির্মিত। পরে অবশ্য স্থানীয়দের সহযোগিতায় মন্দির কমিটির তরফে টিনের ছাউনির বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে ২০১৯ সালে মন্দিরটিকে নতুনরূপে সাজিয়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপরই গ্রাম ষোলোআনা কমিটির টাকায় শতাব্দী প্রাচীন মন্দির নবকলেবরে সেজে ওঠে। বর্তমানে, নয়া আঙ্গিকে গড়ে ওঠা মন্দিরে পঞ্চনাগের মাঝে দেবী মনসা বিরাজ করবেন। মন্দির দেখতে ইতিমধ্যেই দূর-দূরান্ত থেকে পুণ্যার্থীদের ভিড় জমতে শুরু করেছে।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ