Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুবরাজপুরের বিজেপি বিধায়ক অনুপ সাহা ‘নিখোঁজ’! থানায় নালিশ কাজল শেখের

তৃণমূলের দুর্ভেদ্য গড়। মজবুত ঘাঁটি। অথচ, একুশের নির্বাচনে ঘাসফুলের সেই জমিতেই বেনজিরভাবে ফুটেছিল পদ্ম!

দুবরাজপুরের বিজেপি বিধায়ক অনুপ সাহা ‘নিখোঁজ’! থানায় নালিশ কাজল শেখের
  • ১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৭:১২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: তৃণমূলের দুর্ভেদ্য গড়। মজবুত ঘাঁটি। অথচ, একুশের নির্বাচনে ঘাসফুলের সেই জমিতেই বেনজিরভাবে ফুটেছিল পদ্ম! বীরভূম জেলার একমাত্র দুবরাজপুর বিধানসভা আসনে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী অনুপ সাহা। আবার একটা বিধানসভা ভোট আসতে চলল। সেই অনুপবাবুকে নাকি খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না। এমনই অভিযোগ তুলে স্থানীয়দের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি চিঠি নিয়ে থানায় শনিবার ‘মিসিং ডায়েরি’ করলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ। অভিযোগ জমা পড়ার ঘন্টাখানেকের মধ্যেই থানায় ছুটলেন বিধায়ক। জানান দিলেন নিজের অস্তিত্ব। ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলায় রাজনৈতিক তরজা এখন চরমে। 

Advertisement

সাম্প্রতিক সময়ে দুবরাজপুরে যে কোনও রাজনৈতিক সভা থেকে শুরু করে ফিতে কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন—জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডলকেই বেশি দেখা যেত। এসআইআর নিয়ে একাধিক রাজনৈতিক সভা-সমাবেশও করেছেন তিনি। তবে, ক’দিন আগে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে দুবরাজপুরের প্রাক্তন বিধায়ক নরেশ বাউরিকে এসআইআরের কাজকর্ম দেখতে নির্দেশ দেন দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল নরেশ এখন কাজলের অনুগামী। পাশাপাশি, দলের এসসি এবং ওবিসি সেলের জেলা সভাপতি। এদিন সেই নরেশকে সঙ্গে নিয়েই দুবরাজপুরে গিয়েছিলেন কাজল। বেশ কয়েকটা অঞ্চল ঘুরে সভা করেন তিনি। তারপর সন্ধ্যায় স্থানীয়দের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে দুবরাজপুর থানায় গিয়ে একটি বিধায়কের নামে একটি ‘নিখোঁজ’-এর অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। কাজলের দাবি, ‘গত ৪ নভেম্বর থেকে এসআইআরের কাজ শুরু হয়েছে। আমাদের দলের নেতাকর্মীরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে কাজকর্ম দেখাশোনা করছেন। অথচ, এসআইআর শুরু হওয়ার দিন থেকেই স্থানীয় বিধায়ককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গ্রামের মানুষের আবেদনের ভিত্তিতে তাঁদের স্বাক্ষর নিয়ে থানায় ডায়েরি করেছি। পুলিশের কাছে তাঁর আবেদন, গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে বিধায়ককে খুঁজে বের করুন।’ ঘটনার পরেই শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়। বিধায়কের কানেও পৌঁছয় অভিনব কায়দায় কাজলের আক্রমণের কথা। শুনে বেজায় চটে যান তিনি। তড়িঘড়ি হাজির হন দুবরাজপুর থানায়। দায়ের করেন পাল্টা অভিযোগও। কাজলকে একহাত নিয়ে বিধায়ক বলেন, ‘একজন দায়িত্ববান ব্যক্তি কিভাবে বিধায়ককে নিয়ে এত বড় মিথ্যা অভিযোগ করতে পারেন? পরিকল্পিতভাবে আমাকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা হয়েছে। ইস্যু না পেয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এলাকার মানুষ জানেন, তাঁদের বিধায়ক সুখে দুঃখে পাশে থাকেন। সেই কারণেই আমাকে ভোট দিয়ে তাঁরা জিতিয়েছেন।’ বিধায়কের পাল্টা অভিযোগ, ‘থানায় জমা দেওয়া অভিযোগপত্র দেখে মনে হচ্ছে, একজন ব্যক্তিই একাধিকজনের হয়ে সই করেছেন। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য পুলিশের কাছে আবেদন করেছি। দুবরাজপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নম্বর ২৮৪।  অথচ, অভিযোগপত্রে লেখা রয়েছে ২৮৬! এতেই বোঝা যাচ্ছে ওই দায়িত্ববান ব্যক্তি কতটা অজ্ঞ!’তবে, কাজলের কর্মকাণ্ডে তৃণমূলের একাংশও ক্ষুব্ধ। তাঁদের বক্তব্য, বিধায়কের বিরুদ্ধে লড়াই হোক রাজনৈতিক ভাবে। এভাবে লোক হাসানোর জন্য মিথ্যা অভিযোগ না করলেই হতো। এদিকে, শুক্রবার কাজলের কর্মসূচিতে ডাক না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন হেতমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শেখ সবুর আলি, পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ তথা ব্লক সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি মহম্মদ জসিমউদ্দিন সহ অনেকেই। তাঁদের বক্তব্য, ‘আমাদের এসআইআর ক্যাম্প থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে সভা হল। মাইকের আওয়াজ কানে এল। অথচ, আমাদেরকেই ডাকা হল না। এই হেতমপুরেই কয়েকদিন আগেই বিএলএদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন অনুব্রত। সেখানে অবশ্য অঞ্চলের দুই গোষ্ঠীর নেতারাই উপস্থিত ছিলেন। 
• থানায় নিখোঁজ ডায়রি তৃণমূল জেলা পরিষদের সভাধিপতি। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ