সংবাদদাতা, ঘাটাল: দাসপুর-২ ব্লকের শোলাটপা খাল মজে গিয়ে নালার আকার ধারণ করেছে। বর্ষার সময় জলনিকাশি হয়নি। খালটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় দাসপুর-২ ব্লকের বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা ক্ষোভে ফুঁসছেন। দাসপুরের বিধায়ক মমতা ভুঁইয়া খালটির বেহাল অবস্থার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, খালটি সংস্কারের জন্য আমরা বেশ কয়েক বছর ধরেই সেচদপ্তরের কাছে আর্জি জানিয়ে আসছি। সম্প্রতি জেলা প্রশাসন ও জেলা সেচদপ্তরের পক্ষ থেকে খালটি সংস্কারের জন্য পরিদর্শন করে গিয়েছে। খুব শীঘ্রই এনিয়ে আশার আলো দেখা যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস। দাসপুর-২ ব্লকের গৌরা ও খুকুড়দহ পঞ্চায়েত এলাকায় নিকাশি ব্যবস্থার সমস্যার জন্য প্রায়ই কৃষিজমি ডুবে যেত। তাই এলাকার মানুষের দাবি মেনে গত শতাব্দীর শেষের দিকে শুধুমাত্র মাঠের জলনিকাশির জন্য ওই খালটি কাটানোর ব্যবস্থা করা হয়। খালটি ঘাটাল-মেচগ্রাম রাস্তার জগন্নাথপুরের দিল্লির খাল থেকে মশালচক পর্যন্ত প্রায় ১১কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি কাটা হয়। খালটি কাটার পরের কয়েক বছর ধরে ওই দু’টি পঞ্চায়েত এলাকার প্রায় ২২টি মৌজায় বর্ষার সময় অতিরিক্ত জল খুব সহজেই মশালচক দিয়ে দুর্বাচটি খালে গিয়ে নেমে যেত। ফলে জমির উপর অতিরিক্ত জল জমত না। ওই ব্লকের গৌরা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শীতলচন্দ্র খাঁড়া বলেন, খালটি নিয়মিত সংস্কার না হওয়ায় মজে গিয়ে নালায় পরিণত হয়েছে। খালের উপর পানা ভর্তি। জল বহনের ক্ষমতা হারিয়ে গিয়েছে। ফলে মাঠের অতিরিক্ত জল আর ওই খাল দিয়ে পড়ে না।এতে চাষিরা সমস্যায় পড়েছেন। কিছুদিন আগে বৃষ্টি হয়েছিল। সেই জল এখনও মাঠে জমে গিয়েছে। চাষিদের ধান কাটতেও সমস্যা হচ্ছে। চাষিরা জানালেন, মাঠ থেকে জল না নেমে যাওয়ায় শীতের মরশুমে ধান কেটে নেওয়ার পর অন্যান্য ফসল লাগাতে পারেননি। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হলেও খালটি সংস্কারের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শীতলবাবু জানান, খালটি সংস্কারের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েছি। কিন্তু আশার আলো দেখতে পাইনি।সেচদপ্তরের এক ইঞ্জিনিয়ার জানান, স্থানীয় ব্লক প্রশাসন তাদের অনুমতি ছাড়াই খালের একটি বাঁধ ভেঙে রাস্তা তৈরি করেছে, যার ফলে খালটি কার্যত নালায় পরিণত হয়েছে। জলনিকাশি বন্ধ হয়েছে। তবে খালটি সংস্কারের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের জন্য ছ’কোটি টাকার একটি ডিপিআর তৈরি করে জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু খালে বাঁধ ও সেচদপ্তরের জমি বেদখল হয়ে যাওয়ায় সমস্যা কিছুটা জটিল হয়েছে।-নিজস্ব চিত্র



