কারাকাস: আপাতত আমেরিকায় রয়েছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস। মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। শনিবার মার্কিন আ্যটর্নি জেনারেল পামেলা বন্ডি বলেন, ‘নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক সন্ত্রাসবাদ, কোকেন আমদানি, অবৈধভাবে মেশিনগান সহ একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র কুক্ষিগত করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এবার আমেরিকার মাটিতে, আমেরিকার আদালতে তাঁর বিচার করা হবে।’ বন্ডি আরও জানিয়েছেন, নিউ ইয়র্কের সাউথ ডিস্ট্রিক্টের কোথাও মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে রাখা হয়েছে। ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালানোর জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি।
কেন এই পরিস্থিতি? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মাদুরোর সম্পর্কে এত তিক্ততা কেন? কীভাবে উত্থান মাদুরোর? ২০০০ সালের আগে একজন সাধারণ বাসচালক ছিলেন মাদুরো। সেখান থেকে ট্রেড ইউনিয়ন নেতা হিসেবে ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ। ২০০০ সালে ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে নির্বাচিত হন তিনি। ক্রমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন এই বামপন্থী নেতা। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন তিনি। ২০১২ সালে হুগোর অধীনে ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৩ সালে শাভেজের মৃত্যুর পর প্রেসিডেন্ট হন তিনি। সেবছরই সিলিয়া ফ্লোরেসকে বিয়ে করেন। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে ভোটে কারচুপি করার অভিযোগ ওঠে। মাদুরোর বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ার কথা ছিল বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর। অভিযোগ, তাঁকে ভোটে লড়তে দেওয়া হয়নি।
আর এই কয়েক বছরে ট্রাম্পের সঙ্গে মাদুরোর সম্পর্কও ক্রমে তিক্ত হয়ে ওঠে। ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মাদক কারবার চালানোর অভিযোগ তুলে আক্রমণ শানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদিও দুই দেশের শত্রুতার মূল কারণ ভেনেজুয়েলার অগাধ তেল ভাণ্ডার। ট্রাম্পের অভিযোগ ছিল,অবৈধভাবে তেল বিক্রি করার পর সেই টাকা জঙ্গি-কার্যকলাপে লাগাচ্ছে ভেনেজুয়েলা প্রসাশন। মাদুরোর পালটা দাবি, মাদক কারবারের অভিযোগ অজুহাত মাত্র। দেশের খনিজ তেল ও সম্পদ হাতাতেই ট্রাম্পের এমন কার্যকলাপ। ধীরে ধীরে তলানিতে ঠেকে দুই দেশের সম্পর্ক।
‘যেন টিভি শো দেখছি’, মাদুরোর গ্রেপ্তারি দেখে মন্তব্য ট্রাম্পের
কারাকাস: ‘ঠিক যেন টিভি শো চলছে...।’ প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে বন্দি করে ভেনেজুয়েলা থেকে তুলে আনার গোটা পর্বকে এই ভাষাতেই ব্যাখ্যা করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সঙ্গে জানান, এই অপারেশনে কয়েকজন জখম হলেও তাতে আমেরিকার কারও প্রাণহানি হয়নি। একটা হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেটা উড়ে যেতে পেরেছে। এই অভিযানে অংশ নেয় ১৫০টি বিমান।
শুক্রবার রাতের সফল অপারেশনের কয়েক ঘণ্টা পর ফক্স নিউজের মুখোমুখি হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। জানান, এই সন্ধ্যাটি একটু ব্যস্ততায় কেটেছে। মাদুরোর গ্রেপ্তারির গোটা পর্বটি লাইভ দেখেছেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘ভেনেজুয়েলায় তখন চারপাশে ঘন অন্ধকার। আপনারা যদি গোটা পর্বটি দেখতেন, তাহলে বুঝতেন। যে তীব্রতা আর যে পরিমাণ হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড চলছিল, মনে হচ্ছিল যেন কোনও টিভি শো দেখছি। এই অপারেশনের জন্য প্রচুর সংখ্যক হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান নামানো হয়েছিল। যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য যুদ্ধবিমানকে তৈরি রাখা হয়েছিল। সেনা আধিকারিকরা জানিয়েছেন, অন্য কোনও দেশ এমন অপারেশন চালাতে পারবে না।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমরা চারদিন আগে এই অপারেশনের প্ল্যান করেছিলাম। কিন্তু আবহাওয়া ঠিক ছিল না। এই অপারেশনের জন্য আবহাওয়া ঠিক থাকা প্রয়োজন। যে বাড়িতে অপারেশন চালানো হয়, সেটা ছিল অনেকটা দুর্গের মতো। চারপাশে পুরু স্টিল দিয়ে মোড়া। দরজাগুলিও মোটা স্টিলের। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই ছিলেন মাদুরো। বিপদ বুঝলে সলিড স্টিলের একটা চেম্বারে ঢুকে পড়ার ব্যবস্থাও ছিল । মাদুরো সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ঢুকতে পারেননি। ’ মাদুরোকে যুদ্ধজাহাজে করে বিচারের জন্য নিউ ইয়র্কে আনা হচ্ছে বলে জানান ট্রাম্প।