নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: হাতের লেখা না আঁকিবুঁকি, বোঝা দায়। সাদা কাগজের উপর পেন দিয়ে দাগ কাটা কয়েকটা লাইন। তাতেই লুকিয়ে রয়েছে রোগীদের জিয়ন কাঠি। বুঝতে একটু অসুবিধা হলেই বিপদ নিশ্চিত। অনেক সাধনা করে তার পাঠোদ্ধার করতে হয়। একশ্রেণির চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন নিয়ে বিপাকে পড়ছেন ওষুধ দোকানের কর্মীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকজন চিকিৎসকের হাতের লেখা নিয়ে রীতিমতো ট্রোলিং চলছে। ওষুধ দোকানের কর্মীদের দাবি, প্রেসক্রিপশনে কোনও সময়ই বড় করে ওষুধের নাম লেখা থাকত না। তবে, প্রবীণ চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশন বুঝতে অসুবিধা হতো না। কিন্তু ইদানীং একশ্রেণির চিকিৎসকের হাতের লেখা উদ্ধার করতে কালঘাম ছুটে যায়। বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশ সরকার বলেন, আগেকার দিনের চিকিৎসকদের মানসিকতা অন্যরকম ছিল। তাঁরা রোগীদের কথা ভাবতেন। কী ওষুধ খেতে হবে, সেটা বুঝিয়ে বলতেন। অনেকে বিনামূল্যেও রোগী দেখতেন। এখন সেই ধরনের চিকিৎসক খুব বেশি দেখা যায় না। এটা দুর্ভাগ্যের। ধৈর্য্য ধরে প্রেসক্রিপশনে লেখার সময়টুকুও তাঁদের নেই। ওই সময়ের মধ্যে তাঁরা অন্য রোগী দেখবেন।
কয়েকদিন আগে ছেলের চিকিৎসার জন্য বর্ধমানে চিকিৎসকের কাছে এসেছিলেন রামপুরহাটের বাসিন্দা অনুপ মণ্ডল। রোগী দেখার পর তাঁর হাতে প্রেসক্রিপশন তুলে দেন চিকিৎসক। তিনি বর্ধমানে ওষুধ না কিনে রামপুরহাটের দোকানে যান। অনুপবাবু বলেন, চারটি দোকানে গিয়েছিলাম। কোনও দোকানের কর্মী-ই হাতের লেখা বুঝতে পারছিলেন না। অবশেষে প্রেসক্রিপশনে থাকা নম্বরে ফোন করি। কম্পাউন্ডার জানান, দু’টি সিরাপ লেখা রয়েছে। তারপর দোকানে বলতে সিরাপ পাওয়া যায়। খোশবাগানের এক দোকানের কর্মী বলেন, পরিচিত চিকিৎসকদের হাতের লেখা বুঝতে অসুবিধা হয় না। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের প্রেসক্রিপশন দেখে ওষুধ বিক্রি করছি। কিন্তু নতুন কোনও ডাক্তার এলে ওষুধের নাম উদ্ধার করতে অনেক সময় লেগে যায়। অনেক চিকিৎসক আবার ওষুধের নামের প্রথম দু’টি অক্ষর লেখার পরই লম্বা দাগ টেনে দেন। তখন তা বুঝতে সত্যিই সমস্যা হয়। তবে কিছু চিকিৎসকের লেখা অত্যন্ত স্পষ্ট। তাঁদের লেখা যে কেউ পড়তে পারেন।
খোশবাগানে ওষুধ কিনতে এসেছিলেন বর্ধমানের বাজেপ্রতাপপুর এলাকার বাসিন্দা সূর্য যাদব। তিনি বলেন, শারীরিক সমস্যার কারণে ৬৮বছর বয়সে অনেক ডাক্তার দেখাতে হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হল, প্রেসক্রিপশনে কী ওষুধ লেখা থাকে তা বুঝতে পারি না। নির্দিষ্ট কয়েকটি ওষুধ খেতে অভ্যস্ত। শুধু ওই ওষুধগুলি লিখলে বুঝতে পারি। চিকিৎসকদের কিছু বলতেও পারি না। একই অভিজ্ঞতা এক ম্যাজিস্ট্রেটেরও। তিনি বলেন, পাঁচ মাস আগে মাকে নিয়ে এক চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলাম। প্রেসক্রিপশনে কী ওষুধ লেখা রয়েছে, তা জানতে চাইতেই ওই চিকিৎসক উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এটা কখনই কাম্য নয়।