নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: মাদক বিরোধী অভিযানে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিস। সমাজসেবার আড়ালে চলছিল মাদক কারবার! ৫০০ গ্রাম হেরোইন সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে কালীগঞ্জ থানার মিরা ফাঁড়ির পুলিস। ধৃতদের নাম তহিদুর রহমান, মাসাদুল মণ্ডল ও মনসাদ শেখ। মঙ্গলবার বিকেলে কালীগঞ্জের পলাশির রামনগর ঘাট এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের কাছ থেকে ৫১০গ্রাম হেরোইন উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিসের দাবি। ওই মাদক পলাশীপাড়া থানার নলদহ এলাকায় পাচারের পরিকল্পনা ছিল বলে পুলিস জানতে পেরেছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইনে মামলা রুজু হয়েছে। বুধবার তাদের কৃষ্ণনগর আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের সাতদিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার(গ্রামীণ) উত্তম ঘোষ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরেই মাদক বিরোধী অভিযান চালাচ্ছি। ওইদিন অভিযানে কালীগঞ্জ থানায় তিনজন মাদক কারবারি ধরা পড়েছে। তাদের পুলিসি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে তহিদুরের বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলার রেজিনগর থানার তেঘরি গ্রামে। মাসাদুল ও মনসাদ নদীয়া জেলার পলাশীপাড়া থানার বড় নলদহ এলাকার বাসিন্দা। তহিদুর কালীগঞ্জ এলাকায় একজন ‘সমাজসেবী’ হিসেবে পরিচিত। তার এই ঘটনায় বিস্মিত পুলিস ও বাসিন্দারা। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে তহিদুর ও মনসাদ ভাগীরথী নদী পেরিয়ে পূর্ব বর্ধমানের মটিয়ারি এলাকায় গিয়েছিল। সেখান থেকে মাদক সংগ্রহ করে তাদের নদীয়া ফেরার পরিকল্পনা ছিল। পুলিস খবর পায়, তারা রামনগর ঘাট দিয়ে নদীয়ায় প্রবেশ করবে। সেই অনুযায়ী মিরা ফাঁড়ির পুলিস ওই এলাকায় আগে থেকেই ওত পেতে থাকে। তহিদুর ও মনসাদ ফেরার সময় মাসাদুল তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়। তিনজন পলাশী মনুমেন্ট সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছলে পুলিস তাদের পাকড়াও করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তহিদুর বহুবার কালীগঞ্জে রক্তদান শিবির আয়োজন করেছে। গরিব মানুষদের সাহায্যও করত। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গেও তার যোগ ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। সে এমন কাজ করতে পারে ভাবতেই পারছেন না স্থানীয়রা। এই ঘটনায় কালীগঞ্জ সহ গোটা নদীয়া জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সমাজসেবার আড়ালে মাদক ব্যবসার বিষয়টি সামনে আসতে পুলিসও জোরদার তদন্ত শুরু করেছে। ধৃতদের সঙ্গে কারা কারা যুক্ত রয়েছে, তারা কোনও বড় চক্রের অংশ কি না, তা পুলিস খতিয়ে দেখছে।