নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: পুলিসের চোখে ধুলো দিতে মাদক পাচারে এবার নয়া কৌশল। ছোটদের ঢাল করেই সক্রিয় এই পাচার চক্র। কখনও স্কুলব্যাগে, আবার কখনও বাচ্চাকে কোলে নিয়েই চলছে পাচার। সোমবার সন্ধ্যায় এমনই এক পাচারকারী ধরা পড়ে মালদহ জেলা পুলিসের জালে। ইংলিশবাজার শহরের রথবাড়ি সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। ধৃতের নাম মহম্মদ সাহিদুর মোমিন। সে কালিয়াচকের বাসিন্দা। ধৃতের সঙ্গেই ছিল এক নাবালক। তার স্কুল ব্যাগ থেকে প্লাস্টিকে মোড়ানো একশো গ্রাম ব্রাউন সুগার উদ্ধার হয়েছে।
কালিয়াচক মাদক পাচার চক্রের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। জেলা পুলিস এবং এসটিএফের লাগাতার অভিযানে প্রায় প্রতিদিনই ধরা পড়ছে লক্ষ লক্ষ টাকার হেরোইন, ব্রাউন সুগার। প্রতিদিনই পুলিসের চোখে ধুলো দিতে নতুন নতুন পন্থা অবলম্বন করছে পাচারকারীরা। মালদহের পুলিস সুপার প্রদীপকুমার যাদব জানান, এই ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। একইসঙ্গে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির কাছে পেশ করা হয়েছে এক নাবালককে। সেখানে তার কাউন্সেলিং করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মাদক পাচারের জন্য পুলিসের জালে ধৃত মহম্মদ শাহিদুর এক নাবালককে ব্যবহার করে। সেই নাবালকের কাছে একটি আকাশি এবং কালো রঙের স্কুলব্যাগ ছিল। সেই ব্যাগের মধ্যে রেখেই মাদক পাচারের ফন্দি এঁটেছিল বলে জেরায় স্বীকার করে ধৃত শাহিদুর।
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, জেরায় ধৃত দাবি করেছে, টাকার বিনিময়ে ওই নাবালক তার স্কুলব্যাগে মাদক পাচার করছিল। এই মাদক কোথা থেকে আনা হয়েছে, কোথায় পাচার করা হচ্ছিল, ধৃতের সঙ্গে নাবালকের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, সবটাই খতিয়ে দেখছে পুলিস। ধৃতের বিরুদ্ধে ২১(বি)/২৯ এনডিপিএস এবং ১৪৬ বিএনএস ও ৩/১৪ শিশুশ্রম আইন এবং ৭৮ জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্টে মামলা রুজু করেছে পুলিস। এই মামলার কেস নম্বর হল ১৩৮৮/২০২৫।
তদন্তের স্বার্থে মঙ্গলবার ধৃতকে আদালতে পেশ করে পুলিসি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনায় যুক্ত নাবালকের কাউন্সেলিং এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তাকে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির কাছে পেশ করা হয়েছে।