সংবাদদাতা, কাঁথি: মঙ্গলবার সৈকতশহর দীঘার বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তরাঁর খাদ্যসুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা খতিয়ে দেখা হল। জেলা প্রশাসন ও নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলার অধীন খাদ্যসুরক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে এই অভিযান হয়েছে। মঙ্গলবার থেকেই সাতদিনব্যাপী খাদ্যসুরক্ষা সপ্তাহ শুরু হচ্ছে। সেজন্য এদিন দীঘার ২০টি হোটেল-রেস্তরাঁয় অভিযান চালানো হয়। এগরাতেও একই ধরনের অভিযান চলে।
দীঘায় এই অভিযানে জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, কাঁথির মহকুমা শাসক প্রতীক অশোক ধুমল, বিডিও শুভাশিস মজুমদার সহ স্বাস্থ্য, খাদ্য ও ক্রেতাসুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা অংশ নেন। তাঁরা হোটেল ও রেস্তরাঁয় রান্নাঘরে গিয়ে খাবারের গুণমান পরীক্ষা করেন। স্বাস্থ্যবিধি ও খাদ্যসুরক্ষার নিয়মাবলী মেনে না চলার অভিযোগে ১২টি হোটেল ও রেস্তরাঁকে আইনি নোটিস জারি করা হয়েছে। গুণমান পরীক্ষার জন্য হোটেল ও রেস্তরাঁর ১৫টি খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তদন্তকারীরা দেখতে পান, অনেক জায়গায় বিরিয়ানিকে রঙিন করার জন্য মেটালিক ইয়েলো রং মেশানো হচ্ছে। যা বিষাক্ত ও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এরকম ছ’টি রেস্তরাঁয় অভিযান চালানো হয়। ওই সমস্ত রঙের প্যাকেট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ওই রং যাতে ভবিষ্যতে ব্যবহার না করা হয়-সেবিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে।জেলা খাদ্যসুরক্ষা আধিকারিক বিশ্বজিৎ মান্না বলেন, দীঘায় খাবারের গুণমান বজায় রাখতে কঠোর নজরদারি ও অভিযান আগামী দিনেও জারি থাকবে। খাদ্যসুরক্ষা নিয়ে সবাইকে সচেতন করার কাজও চলছে।এদিন এগরা শহরে একাধিক রেস্তরাঁ, গোডাউন ও বেকারি কারখানায় অভিযান চালায় খাদ্যসুরক্ষা দপ্তর ও পুলিশ। এগরার সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ডে একটি চানাচুর কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যসামগ্রী তৈরি হচ্ছিল। কারখানায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও ছিল না। তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ চকোলেট, বিস্কুট, চানাচুর প্রভৃতি বাজেয়াপ্ত করা হয়। শহরের একাধিক নামিদামি রেস্তরাঁতেও হানা দেয় তদন্তকারী দল। একাধিক রেস্তরাঁ থেকে বাসি পচা মাংস ও পচা ডিম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। রান্না করা খাবারে নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকারক রং মেশানোর বিষয়টি হাতেনাতে ধরেন খাদ্যসুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা এবং পুলিশকর্মীরা। নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য দু’টি রেস্তরাঁকে শো-কজ করা হয়েছে। ওই দু’টি রেস্তরাঁ থেকে সংগৃহীত খাবারের গুণমান পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। ল্যাব রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।