নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ধান চাষের মরশুমে দক্ষিণবঙ্গজুড়েই সারের সংকট তৈরি হয়েছে। সামনেই আলু চাষের মরশুম। সেই সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে চাষিদের অনেকেই মনে করছেন। ধান চাষে খুব বেশি ১০.২৬.২৬ সারের প্রয়োজন হয় না। আলু চাষের জন্য এই সার সব থেকে বেশি দরকার। এই সময়ে অনেকেই আলু চাষের জন্য সার কিনে রাখেন। কিন্তু এখনই ১০.২৬.২৬ সার সব জায়গায় পর্যাপ্ত পরিমাণ পাওয়া যাচ্ছে না। ধান চাষে ব্যবহার হওয়া ইউরিয়াও পেতে চাষিদের বেগ পেতে হচ্ছে।
কৃষিদপ্তর সমস্যার মূলে না পৌঁছানোর জন্যই সারের সংকট তৈরি হয়েছে। ডিলারদের অনেকেই বেশি পরিমাণে সার কিনছেন না। তাঁদের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রিত সংস্থাগুলি অনুখাদ্য ছাড়া তাদের সার দিচ্ছে না। আবার এরাজ্যে কৃষিদপ্তর ঘোষণা করেছে, অনুখাদ্য নিতে চাষিরা বাধ্য নয়। অতিরিক্ত দাম দিয়ে কৃষকরাও অনুখাদ্য কিনতে রাজি হচ্ছেন না। কেন্দ্রীয় সরকার সারের সঙ্গে অনুখাদ্য কেনার শর্ত শিথিল করলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসত। আবার অনেকেই বলছেন, এক শ্রেণির ডিলাররা কৃত্রিমভাবে সারের সংকট তৈরি করতে চাইছে। সেই কারণে তারা সার কিনছে না। খণ্ডঘোষের বাসিন্দা সুকুমার বিট বলেন, যত দিন যাচ্ছে অবস্থা তত খারাপ হচ্ছে। সারের দাম আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তারপর আবার বাড়তি দাম দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে। অনেক দোকানে সার পাওয়াও যাচ্ছে না।
আর এক চাষি সামাদ মোল্লা বলেন, সারের সংকট বাড়ছে। ডিলারদের সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু সমবায়গুলি কেন পর্যাপ্ত পরিমাণে সার কিনছে না, তা বুঝতে পারছি না। অনেকে এমআরপির থেকে বেশি দামে সার বিক্রি করছে। এটা হওয়া উচিত নয়।
গলসির বিধায়ক রাজু পাত্র বলেন, কৃত্রিমভাবে কেউ কেউ এই পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে। সরকার চাষিদের কথা ভেবে সারে ভর্তুকি বাড়িয়েছে। অনুখাদ্য নিতে চাষিরা বাধ্য নয়। ডিলাররা সব জেনেই এই ব্যবসায় নেমেছিল। এখন অজুহাত দিয়ে লাভ নেই। এক ডিলার বলেন, সরকার সমস্যা বুঝতে চাইছে না। কেউ সারের অতিরিক্ত দাম নিলে আধিকারিকরা ব্যবস্থা নিক। কিন্তু ডিলারদের কেন এই পথে হাঁটতে হচ্ছে, সেটাও দেখা দরকার। কোম্পানিগুলি অনুখাদ্য বিক্রি বন্ধ করলে চাষিরাও উপকৃত হবেন।
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু শস্যগোলা পূর্ব বর্ধমান নয়, দক্ষিণবঙ্গের প্রতিটি জেলাতেই সারের সংকট দেখা দিয়েছে। কৃষিদপ্তরের আধিকারিক এবং জনপ্রতিনিধিরা দোকানে দোকানে ঘুরছেন। ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। কিন্তু মূল সমস্যার সমাধান না হলে এই পরিস্থিতি চলতেই থাকবে। চাষিরা বলছেন, সারের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সামনের মরশুমে আলু চাষের এলাকা কমে যাবে।