সংবাদদাতা, বোলপুর : একটি লাল গাড়ি। ভিতরে ট্রলি ব্যাগ। আর সেই ব্যাগে ভারতীয় টাকার সঙ্গে তিন দেশের মুদ্রা! মিলেছে একটি পাসপোর্টও। সোমবার বোলপুরের মহিদাপুরে গাড়ি আটকে এই বিপুল টাকা ও বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করে পুলিশ। পাসপোর্টটি টুলু মণ্ডলের শ্যালক সামসুল আলম ওরফে মিন্টুর বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এরপরই তদন্তের মোড় ঘুরেছে। এদিন গাড়িতে থাকা শেখ মফিজুদ্দিন ওরফে শেখ শান্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শান্ত মিন্টুর শ্যালক। টুলুর পাথরের ব্যবসার সঙ্গেও তাঁরও যোগাযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁর একাধিক ডাম্পার রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। মহিদাপুরে মিন্টুর শ্বশুরবাড়িতে সোমবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত তল্লাশি চালানো হয়। মঙ্গলবার শান্তকে বোলপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক ৯ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন। জেলা পুলিশ সুপার ভিদিত রাজ ভুন্দেশ বলেন, এই অভিযানে কিছু টাকা ও নথি উদ্ধার হয়েছে। ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, ওই গাড়িটি এদিন সিউড়ির দিক থেকে বোলপুরের দিকে আসছিল। তারপরে সেটির বর্ধমান হয়ে কলকাতা বা অন্য কোনো জেলায় যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে পুলিশের অনুমান। তার আগেই মহিদাপুরে পুলিশ গাড়িটিকে আটক করে তল্লাশি চালায়। তখনই সামনে আসে টাকার বিষয়টি। ভারতীয় টাকার পাশাপাশি গাড়িতে পাওয়া গিয়েছে তাইল্যান্ড, আমেরিকা ও পূর্ব ইউরোপের আজারবাইজানের মুদ্রা। একটি পাসপোর্টও উদ্ধার হয়। এত টাকা গাড়িতে কেন? বিদেশি মুদ্রাই বা এল কোথা থেকে? কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল গাড়িটি? এখন এসব প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের নজরে আরও একটি বিষয় রয়েছে। মিন্টু দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাছাড়া। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের খাতায় অভিযোগ রয়েছে। এবার তাঁর পাসপোর্ট মিলেছে এমন এক গাড়িতে, যেখানে বিদেশি মুদ্রাও ছিল। তাই বিদেশে পালানোর কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না, সেটা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
তবে টুলু মণ্ডলের আশীর্বাদের হাত মিন্টুর মাথায় পড়ার পর থেকেই দ্রুত গতিতে উত্থান হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। পাড়ুই এলাকায় মিন্টুর পাহাড়সম পাথর মজুত রয়েছে। আত্মীয়তার সূত্রেই এই পাথর ব্যবসায় জড়িত ছিল মিন্টু। এছাড়াও তার প্রায় ৩০টির বেশি ডাম্পার রয়েছে। এত বৈভব হঠাৎ করেই কয়েক বছরে কীভাবে বৃদ্ধি পেল মিন্টুর? টুলু মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর কি আর্থিক লেনদেন ছিল তা খুঁজতে তৎপর জেলা পুলিশ ও এসটিএফ। পুলিশের একাংশের অনুমান, টুলু মণ্ডলও বিদেশে থাকতে পারেন। তাঁর পাথরের ব্যবসার টাকা অন্য কোনো পথে সরানো হচ্ছিল কি না, তাও দেখা হচ্ছে। গাড়িতে থাকা টাকা ও মুদ্রার সঙ্গে টুলুর ব্যবসার যোগ রয়েছে কি না, চলছে তারও তদন্ত।
অন্যদিকে সোমবার পাড়ুইয়ে টুলুর শ্বশুরবাড়ি মহম্মদ নুরুল হকের বাড়িতে তল্লাশি চালায় জেলা পুলিশ ও এসটিএফ। আগেও এই বাড়িতে একবার তল্লাশি অভিযান হয়েছিল। তবে এদিন মিন্টুর খোঁজেই ওই অভিযান বলে পুলিশ সূত্রে খবর। কয়েক ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চললেও সেখান থেকে বড়ো কোনো কিছু উদ্ধার হয়নি।