সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: রাস্তার ধারে লাগানো গাছের ক্ষতিপূরণের দাবিতে অনড় ক্লাবের সদস্যরা। এই অবস্থায় কোতুলপুরের লাউগ্রামে পানীয় জল প্রকল্পের কাজ থমকে গিয়েছে। স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এনিয়ে একাধিকবার বৈঠক হওয়ার পরেও সমাধানসূত্র মেলেনি। প্রশাসনের তরফে সমপরিমাণ গাছ লাগিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তাতে চিড়ে ভেজেনি। এই অবস্থায় গোটা প্রকল্পটির কাজ থমকে গিয়েছে। তার ভুক্তভোগী হচ্ছে স্থানীয় ৮টি গ্রামে প্রায় তিন হাজার পরিবার।
কোতুলপুরের বিডিও দেবরাজ ঘোষ বলেন, রাস্তার ধার দিয়ে পাইপলাইন নিয়ে যাওয়ায় গাছের ক্ষতি হবে। এনিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা আপত্তি জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার স্থানীয় গ্রামপঞ্চায়েত অফিসে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকা হয়েছে। লাউগ্রাম গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান বৈশাখী ঘোষ বলেন, বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছনো মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প। আমরা চাই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়িত হোক। সেই জন্য গ্রামবাসীদের লাগানো গাছের সমপরিমাণ গাছ বনসৃজন প্রকল্পে লাগিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, তাঁরা তা কিছুতেই মানতে রাজি হচ্ছেন না। গোটা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
পানীয় জল প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট ঠিকা সংস্থার ইনচার্জ বিবেক জয়সওয়াল বলেন, আগামী দু’মাসের মধ্যে বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু, কাকিরপোল এলাকায় গাছের জন্য পাইপলাইন নিয়ে যাওয়াতে আপত্তি উঠেছে। সেই জন্য আপাতত কাজ থমকে গিয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
লাউগ্রাম নেতাজি স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি সত্যজিৎ মালিক বলেন, আমরা একবছর আগে কাকিরপোল এলাকায় পিচ রাস্তার দু’ধারে পঞ্চায়েতের সঙ্গে চুক্তি করে ইউক্যালিপটাস গাছ লাগিয়েছি। নিয়মিত পরিচর্যা এবং রক্ষণাবেক্ষণ করায় গাছগুলি বর্তমানে বেশ সতেজ হয়েছে। আমরাও চাই সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে বাসিন্দারা বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পাক। কিন্তু, গাছের ক্ষতিপূরণ কে দেবে? তাই আমরা আপত্তি জানিয়েছি। কাজ হয়ে যাওয়ার পর ঠিকা সংস্থাদের আর টিকি পাওয়া যাবে না। সেই জন্য আমরা আগাম এর একটা সমাধান চাইছি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কোতুলপুরের লাউগ্রাম এলাকায় একটি পানীয় জল প্রকল্পের কাজ চলছে। কাকিরপোল এবং তালারপাড় এলাকায় দু’টি ট্যাঙ্ক থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে লাউগ্রামে বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছে দেওয়া হবে। সেই জন্য পিচ রাস্তার ধার দিয়ে মেন পাইপলাইন নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু কাকিরপোল এলাকায় রাস্তার ধারে দু’দিকে ৭০০মিটার করে মোট ১৪০০মিটার জায়গায় ইউক্যালিপটাস গাছ রয়েছে। পাইপলাইন নিয়ে যেতে খোঁড়াখুঁড়ি করলে বহু গাছ নষ্টের আশঙ্কায় স্থানীয় ক্লাবের সদস্যরা আপত্তি জানিয়েছেন। ক্ষতিপূরণ না পেলে তাঁরা পাইপ লাইন নিয়ে যেতে দেবেন না বলে অনড় রয়েছেন। পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আশ্বাসেও চিড়ে ভেজেনি। এই অবস্থায় জট কাটিয়ে কবে পাইপলাইন পাতা হবে, সেই দিকে তাকিয়ে রয়েছে লাউগ্রাম সহ পান্না, চকচাঁদ, কইটা, পাহাড়পুর, লক্ষ্মণহাটি, আমদহি, চাঁপারুই, গাঁতিপাড়া ও মালিকপাড়া গ্রামের প্রায় তিন হাজার পরিবার। -নিজস্ব চিত্র