Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

টাকা দিয়েও নিয়মিত মিলছে না পানীয় জল! ক্ষুব্ধ পুরুলিয়ার বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা

ট্যাঁকের কড়ি খসিয়েও নিয়মিত মিলছে না জল। এনিয়ে ক্ষুব্ধ পুরুলিয়ার বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। তবে ৬ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সমস্যাটা সবচেয়ে বেশি।

টাকা দিয়েও নিয়মিত মিলছে না পানীয় জল! ক্ষুব্ধ পুরুলিয়ার বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা
  • ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: ট্যাঁকের কড়ি খসিয়েও নিয়মিত মিলছে না জল। এনিয়ে ক্ষুব্ধ পুরুলিয়ার বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। তবে ৬ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সমস্যাটা সবচেয়ে বেশি। একদিন অন্তর অন্তর জল পাওয়া যায় বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। তাঁরা চাইছেন সমস্যার সমাধান করুক পুরসভা। 

Advertisement

শীত হোক বা গ্রীষ্ম, পুরুলিয়া শহরে জলের সমস্যা যেন নিত্যসঙ্গী। এই দীর্ঘদিনের সমস্যা মেটাতে পুরুলিয়া পুরসভা বাড়ি বাড়ি পাইপলাইনের মাধ্যমে জল সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু, বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সেই পাইপলাইনে নিয়মিত জল পৌঁছচ্ছে না নাগরিকদের ঘরে। 
বাসিন্দাদের অভিযোগ, শহরের ৯ ও ৬ নম্বর সহ বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের  অবস্থা শোচনীয়। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কুইরি পাড়ায় একটি মাত্র সরকারি ট্যাপকলের উপর ভরসা করে দিন কাটছে শতাধিক পরিবারের। ততেও জল আসে একদিন অন্তর। স্থানীয় বাসিন্দা মেনকা বাউরি ও কল্পনা বাউরিদের অভিযোগ, টাকা জমা দিয়ে বাড়িতে জলের লাইন পেলেও তাতে জল পড়ে না। নেতা-মন্ত্রীরা কেউ দেখতেও আসেন না। গরমে আমাদের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়।
একই অবস্থা ৬ নম্বর ওয়ার্ডেও। বাসিন্দাদের ক্ষোভ, মাসে ১০০ টাকা দিয়েও এক দিন ছাড়া জল পাচ্ছি। অথচ অন্যান্য ওয়ার্ডে রোজ জল পাওয়া যাচ্ছে। ভেবেছিলাম বাড়িতে পাইপলাইন এলে জলের কষ্ট মিটবে, কিন্তু সমস্যা সেই তিমিরেই রয়ে গিয়েছে।  ওই ওয়ার্ডের নেতাজি স্কুল গলির বাসিন্দা বিশ্বনাথ সেন বলেন, আমাদের জলের জন্য খুবই সমস্যা হয়। একদিন জল এলে সেটাকে বালতি-ড্রামে জমিয়ে পরের দিনের জন্য রাখতে হয়। এলাকায় কোনও পুকুর নেই, যেটুকু চাপাকল আছে তাও প্রায়ই খারাপ হয়ে যায়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুলিয়ার এই এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান কিছুটা উঁচুতে। চাপ কম থাকায় পাইপলাইনে পর্যাপ্ত জল পৌঁছতে সমস্যা হচ্ছে।
শহরের নিকাশি নালাগুলি ঠিকমতো পরিষ্কার না হওয়া, ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি, জঞ্জাল সাফাইয়ে অনীহা এবং সর্বোপরি তীব্র জলসঙ্কট-নাগরিক পরিষেবা প্রদানে এই ‘চরম অবহেলা’র অভিযোগেই সম্প্রতি ভেঙে দেওয়া হয়েছে পুরুলিয়া পুরবোর্ড। 
রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের নির্দেশে বর্তমানে পুর পরিষেবার দায়িত্বে রয়েছেন মহকুমা শাসক উৎপল ঘোষ। তবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেই তিনি আসরে নেমেছেন। তিনি সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। আমরা সমাধানের জন্য ইতিমধ্যেই এমইডি  দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করেছি। আপাতত সমস্যা মেটাতে অপারেশন মেন্টেনেন্স ওভারহেড রিজার্ভার বসানোর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য জলের নতুন উৎসের সন্ধানও করা হচ্ছে।   জলের সমস্যা যখন নিত্যসঙ্গী। নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ