নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বাংলার বাড়ি প্রকল্পে মাথার উপর ছাদের সঙ্গেই মিলবে পরিস্রুত পানীয় জল, বিদ্যুৎ সংযোগ ও শৌচালয়। উপভোক্তাদের পশুপালনের ব্যবস্থাও করে দেওয়া হবে। দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাচ্ছেন জেলার ১৩ হাজার ৪০৯জন। শৌচালয়ের জন্য ১২ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।
আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা ঝাড়গ্রাম দেড় দশক আগেও রাজ্যে পিছিয়ে পড়া এলাকা বলেই চিহ্নিত ছিল। উপভোক্তাদের অধিকাংশ চাষবাস ও দিনমজুরের কাজে যুক্ত। মাথাগোঁজার জায়গা বলতে খড় ও অ্যাসবেসটসের ছাউনি দেওয়া মাটির ঘর। বাংলার বাড়ি প্রকল্পে জেলায় ২০ হাজার ১৮৩জন উপভোক্তা প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছেন। এছাড়াও, মুখ্যমন্ত্রীর গ্রিভান্স সেলে ফোন করে আরও ৬৫০জন বাড়ি পেয়েছেন। ঝড়-বৃষ্টিতে বাড়ি ভেঙে যাওয়ায় ৬৯জনকে বাড়ি তৈরির টাকা দেওয়া হয়েছে। বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ২০২২ সালে জেলায় ৫০ হাজার বাড়ির সমীক্ষা করা হয়েছিল। তারমধ্যে ২২ হাজার ৮৪৬জনের নাম নথিভুক্ত হয়। অনুমোদন মিললেও কেন্দ্রীয় সরকার প্রকল্পের টাকা বন্ধ করে দেয়। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর রাজ্য সরকার আবাস প্রকল্পের টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করে। জেলা প্রশাসনের নতুন সমীক্ষায় ২৬০০জনের নাম বাদ যায়। প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়ার পর বাড়ি তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশাসন নজরদারি চালায়। যাদের লিন্টেল পর্যন্ত ঘর হয়েছে, তাদের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়ার জন্য নাম নথিভুক্ত হয়েছে। ঝাড়গ্রাম ব্লকের ১৯১১জন দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাচ্ছেন। বিনপুর-১ ও ২ব্লকের যথাক্রমে ১৮২৩জন এবং ২৫৪২জন টাকা পাচ্ছেন। গোপীবল্লভপুর-১ ও ২ব্লকে রয়েছেন ১৮৩৭জন এবং ৩৬৪জন। জামবনী ব্লকের ১২৬৪জন, নয়াগ্ৰাম ব্লকের ৩০৬৮জন এবং সাঁকরাইল ব্লকের ৬০০জন দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাচ্ছেন। নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ করলে বাকিদেরও দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে। বাড়ির কাজ শেষ হলে বিদ্যুৎ ও পরিস্রুত পানীয় জলের সংযোগ দেওয়া হবে। শৌচালয় গড়ার জন্য ১২ হাজার টাকা দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে উপভোক্তাদের পশুপালনের ব্যবস্থাও করে দেওয়া হবে।
জেলার বাংলার বাড়ি প্রকল্পের নোডাল অফিসার শুভদীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, সমীক্ষা চালিয়ে দেখা হয়েছে এখনও পর্যন্ত ১৩ হাজারের উপর উপভোক্তা লিন্টেল পর্যন্ত ঘর করেছেন। এঁদের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হবে। নির্দিষ্ট মাপসূচক কাজ শেষ করলে বাকিদেরও ধাপে ধাপে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হবে। এছাড়াও, প্রকল্পের সম্মিলিত কাজের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও পানীয় জল সংযোগ দেওয়া হবে। শৌচালয় তৈরি করে দেওয়া হবে। আর্থিক উন্নয়নের লক্ষ্যে উপভোক্তারা যাতে পশুপালন করতে পারেন, তার ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। নয়াগ্ৰামের বিডিও সুদীপ্ত রায় বলেন, ব্লক প্রশাসন ও পঞ্চায়েতের কর্মীরা লাগাতার উপভোক্তাদের বাড়ি গিয়েছেন। কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য বলেছেন। বাকিদেরও দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য বলা হচ্ছে।