Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বহরমপুরে চলন্ত গাড়িতেই মদ্যপান, পরপর তিন সাইকেল আরোহীকে ধাক্কা, মৃত এক

আইনকে কাঁচকলা দেখিয়ে রবিবার রাতে চলন্ত গাড়িতেই চলছিল মদের আসর। মদ্যপ চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পরপর তিন সাইকেল আরোহীকে ধাক্কা মারে।

বহরমপুরে চলন্ত গাড়িতেই মদ্যপান, পরপর তিন সাইকেল আরোহীকে ধাক্কা, মৃত এক
  • ১৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বহরমপুর: আইনকে কাঁচকলা দেখিয়ে রবিবার রাতে চলন্ত গাড়িতেই চলছিল মদের আসর। মদ্যপ চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পরপর তিন সাইকেল আরোহীকে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই প্রাণ যায় এক শ্রমিকের। একই ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ইটভাটার আরও দুই শ্রমিক। রবিবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বহরমপুর-ইসলামপুর রাজ্য সড়কের উপর দৌলতাবাদ থানার বরদহ এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম প্রসেনজিৎ সিং (৩৫)। গুরুতর জখম সুমন সাহা ও রঞ্জিৎ পাহাড়ীয়া হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। তিনজনেরই বাড়ি দৌলতাবাদ থানার ছয়ঘড়ি পীরতলা এলাকায়। দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত চারচাকা গাড়িটি রাজ্য সড়কের উপর ফেলে রেখেই পালায় গাড়ির চালক ও অপর তিন আরোহী। ঘটনায় পুলিশের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের দাবি, রাজ্য সড়কের উপর গাড়ি চালকদের আটকে পুলিশের ব্রিদিং টেস্ট নেওয়া উচিত। পুলিশের উদাসীন মনোভাবে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর প্রবণতা বাড়ছে শুধু নয়, চালকরা আরও বেপরোয়া হয়ে পড়ছে। ঘাতক গাড়িটি আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দৌলতাবাদ থানার পুলিশ। ঘটনার তদন্তও শুরু করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গাড়ি থেকে মিলেছে মদের বোতল, গ্লাস সহ সুরাপানের সব সরঞ্জাম। মৃতের পরিবার ও প্রত্যক্ষ্যদর্শীদের দাবি, গাড়িতে বসেই চলছিল সুরাপানের আসর।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ও জখম দুই যুবক বরদহ এলাকার এক ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করতেন। রোজকার মতো রবিবার রাত ১১টা নাগাদ কাজ সেরে সাইকেলে তাঁরা বাড়ি ফিরছিলেন। ইটভাটা থেকে কিছু দূর আসার পর রাজ্য সড়কের উপর একটি বেপরোয়া চারচাকা গাড়ি পিছন থেকে পরপর তিন সাইকেল আরোহীকে ধাক্কা মারে। কারও শরীরের উপর দিয়ে গাড়ির চাকা চলে যায়। কেউ পাকা রাস্তার উপর ছিটকে পড়ে গুরুতর জখম হন। দুর্ঘটনায় চারচাকা গাড়িটিও দুমড়ে মুচড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ছুটে আসতে দেখে আতঙ্কে গাড়ি ফেলে মাঠে নেমে চারজন চম্পট দেয়। পিছন ধাওয়া করেও তাদের ধরা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনাটি ঘটে মৃতের বাড়ি থেকে মাত্র এক কিমি দূরে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের লোকজন ছুটে এসে তিনজনকে উদ্ধার করে সঙ্গে সঙ্গে মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানেই প্রসেনজিৎ সিংকে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাকি দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসক সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে প্রসেনজিৎবাবুর পরিবারে। মৃত ও জখমদের পরিবার ঘটনায় গাড়ির চালক সহ বাকিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। মৃতের মামা স্বপন সাহা বলেন, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো আইনত অপরাধ। এক্ষেত্রে চলন্ত গাড়ির ভিতরই চলছিল মদের আসর। পুলিশের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত চালক সহ বাকিদের গ্রেপ্তার করা হোক। ঘটনায় পুলিশের ভুমিকা নিয়েও পরিবার ও ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী বিস্তর প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্য সড়কে নাকা চেকিং কার্যত লাটে উঠেছে। রাতে গাড়ি দাঁড় করিয়ে চালক মদ্যপ কি না, তা পরীক্ষা করা  হয় না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ