নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, বাগডোগরা: রীতা হত্যা মামলায় নাটকীয় মোড়! পুলিসের ধারণা, মাটিগাড়ার ওই মহিলাকে খুন করেছে স্বর্ণ ব্যবসায়ী তথা রাজেশ গুপ্তার দুই ছেলে। টানা তদন্ত চালিয়ে ইতিমধ্যেই পাটনা থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও দুই ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতরা বিহার থেকে পালানোর ছক কষেছিল বলে খবর। শিলিগুড়ির ডেপুটি পুলিস কমিশনার (পশ্চিম) বিশ্বচাঁদ ঠাকুর বলেন, ওই খুনের ঘটনায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বাকি তিন অভিযুক্তকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্যও মিলেছে। সেগুলিকে গুরুত্ব দিয়েই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
১০দিন আগে মাটিগাড়ার তুম্বাজোতে খুন হন রীতা গুপ্তা শা(৩৮)। ঘটনার দিনই মৃত মহিলার ঘনিষ্ঠ ‘বন্ধু’ স্বর্ণ ব্যবসায়ী তথা বহিষ্কৃত তৃণমূল কংগ্রেস নেতা রাজেশকে পুলিস গ্রেপ্তার করে। ধৃত খুনের ঘটনা কবুল করলেও পুলিস তদন্তে অন্যরকম তথ্য পেয়েছে। রাজেশের দোকানের কর্মচারী ছিলেন রীতা। তিনি স্বামী পরিত্যক্তা। তাঁর সঙ্গে রাজেশের অবৈধ সম্পর্ক ছিল, যা রাজেশের স্ত্রী ও ছেলেরা মেনে নিতে পারছিল না। এই অবস্থায় রাজেশের খোঁজে তুম্বাজোতে যান রীতা। সেদিন তাঁর সঙ্গে রাজেশের ছেলেদের ব্যাপক ঝামেলা হয়। রীতার উপর ধারাল অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে রাজেশের ছেলেরা আঘাত করে বলে অভিযোগ। ঘটনার পর অভিযুক্তরা গা ঢাকা দেয়। এমনকী, সোশ্যাল মিডিয়াতেও ‘গেমওভার’ বলে পোস্ট করে রাজেশের এক ছেলে। পুলিসের এক অফিসার জানান, ঘটনাস্থল থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ উদ্ধার করা হয়েছে। নথিভুক্ত হয়েছে গ্রামবাসীদের বয়ানও। তথ্য প্রমাণ থেকে মনে হচ্ছে, খুনে রাজেশের ছেলেরাই সরাসরি জড়িত। রাজেশ ও তার স্ত্রীও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। উল্লেখ্য, গত ১৮ মার্চ ওই খুনের ঘটনা ঘটে। রাজেশ ও তার স্ত্রী এবং দুই ছেলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন মৃত মহিলার আত্মীয়রা। পুলিস সূত্রের খবর, হত্যাকাণ্ডের পরই দুই ছেলে রাহুল ও হৃতিককে নিয়ে বিহারে আত্মীয়র বাড়িতে আশ্রয় নেয় রাজেশের স্ত্রী রেখা গুপ্তা। পুলিস পিছু নেওয়ায় অভিযুক্তরা বেশ কয়েকবার আস্তানা বদল করে। পাটনা হয়ে অন্যত্র পালানোর চেষ্টা করছিল। বুধবার পাটনা বাসস্ট্যান্ড থেকে অভিযুক্তদের পাকড়াও করেছে পুলিস। শনিবার আদালতের নির্দেশে ধৃতদের পাঁচদিনের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিস।