Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘ভাইরাল’ হওয়ার ঝোঁক থেকেই ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়ার নাটক! বেলদাকাণ্ডের পর্দাফাঁস

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার এক যুবককে বাংলাদেশি সন্দেহে ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়া নিয়ে রবিবার দিনভর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদায়।

‘ভাইরাল’ হওয়ার ঝোঁক থেকেই ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়ার নাটক! বেলদাকাণ্ডের পর্দাফাঁস
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বেলদা: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার এক যুবককে বাংলাদেশি সন্দেহে ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়া নিয়ে রবিবার দিনভর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদায়। কিন্তু সর্বৈব মিথ্যে অভিযোগ ও নাটকের জেরে শেষমেশ পুলিশের কাছে ভুল স্বীকার করতে বাধ্য হল ওই যুবক। নাম মানারুল শেখ (২৫)। তাঁর অভিযোগ ছিল, ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে তাঁকে চলন্ত ট্রেন থেকে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রেল পুলিশের জেরায় জানা গিয়েছে, কেউ তাঁকে ঠেলে ফেলেনি, বরং ‘ভাইরাল’ হওয়ার নেশাতেই সে নিজে ট্রেন থেকে নেমে এই গল্প ফেঁদেছিল!

Advertisement

পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার সকালে বেলদা থানায় গিয়ে মানারুল জানায়, বেঙ্গালুরু থেকে ফেরার পথে বাখরাবাদ স্টেশনের কাছে সহযাত্রীরা তাঁর আধার ও প্যান কার্ড দেখার পর তাঁকে ট্রেন থেকে ফেলে দেয়। পুলিশ তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে দেখা যায়, শরীরে তেমন কোনো চোট নেই। এতেই পুলিশের সন্দেহ বাড়ে। পরে খড়্গপুর জিআরপি থানায় নিয়ে গিয়ে জেরা করতেই ভেঙে পড়ে মানারুল। শেষমেশ স্বীকার করে, বিখ্যাত হওয়ার নেশাতেই  এই মিথ্যে নাটকের ছক কষেছিল সে।
খবর পেয়ে রবিবার রাতেই খড়্গপুর জিআরপি থানায় পৌঁছায় মানারুলের পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা ওই যুবকের মানসিক অস্থিরতার কথা তুলে ধরে পুলিশের কাছে। মানারুলের ভাই জিয়াউল শেখ বলেন, ভাই মাস চারেক আগে কাজের জন্য বেঙ্গালুরু গিয়েছিল। ও বরাবরই একটু চঞ্চল প্রকৃতির। ইদানীং মানসিক ভারসাম্য কিছুটা হারিয়েছিল বলেই মনে হয়। অন্যদিকে, মানারুলের বাবা আজাদ আলি আক্ষেপ করে বলেন, ওর মাথাটা মনে হয় খারাপ হয়ে গিয়েছে। তাই হয়তো ঝোঁকের বশে এমন ভুল কাজ করে ফেলেছে।
পুলিশ অবশ্য ওই যুবকের ভুল স্বীকার ও মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছে। খড়্গপুর জিআরপি-র আইসি অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ভাইরাল হওয়ার নেশাতেই হয়তো ওই যুবক এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে জেরায় ও নিজের ভুল স্বীকার করেছে। তাই কোনো আইনি পদক্ষেপ বা শাস্তি না দিয়ে ওকে  ওর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
আইনি ঝামেলা এড়িয়ে শেষমেশ পরিবারের সঙ্গেই বাড়ির পথে রওনা দেয় মানারুল। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ