নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বোর্ড গঠনের তিনদিনের মধ্যেই তমলুক টাউন কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটির চেয়ারম্যান সহ বোর্ডের প্রত্যেককে ইস্তফা দিতে নির্দেশ দিল তৃণমূল নেতৃত্ব। ঘটনার জেরে সরগরম তমলুক শহর। গত ১২জুলাই শহরের নাইট ব্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত ওই সোসাইটির চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, সেক্রেটারি নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে দলের পাঠানো প্যানেলকে চ্যালেঞ্জ করে ভোটাভুটির মাধ্যমে বোর্ড গঠন হয়। এতে ক্ষুব্ধ দলের রাজ্য নেতৃত্ব। অবিলম্বে নবগঠিত বোর্ডের চেয়ারম্যান সহ অন্যদের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার নির্দেশ এসেছে। মঙ্গলবার দলের সমবায় সেলের রাজ্য নেতা আশিস চক্রবর্তী এনিয়ে জেলা তৃণমূল সভাপতি সুজিত রায় ও চেয়ারপার্সন দীপেন্দ্রনারায়ণ রায়ের সঙ্গে কথা বলেন। আগামী ১৭জুলাই ওই সোসাইটির প্রথম সভা হওয়ার কথা। সেই সভায় অফিসিয়ালি ইস্তফাপত্র জমা দিতে হবে বলে দল নির্দেশ পাঠিয়েছে। তারআগে দলের জেলা সভাপতির কাছে বোর্ড থেকে সরে দাঁড়ানোর চিঠি দিতে হবে বলে দল নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।
২০১৯সালে জুলাই মাসে তমলুক টাউন কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটির বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়। তারপর দু’দফায় মনোনীত বোর্ড এবং সবশেষে স্পেশাল অফিসার নিয়োগ করে কাজকর্ম চলছিল। মেয়াদ ফুরনোর ছ’বছর বাদে বোর্ডের নির্বাচন হয়েছে। ভোটের শুরু থেকেই গণ্ডগোল হয়। ডেলিগেট থেকে ডিরেক্টর নির্বাচন প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রার্থী বাছাই নিয়ে তৃণমূলের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। ডেলিগেট নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি দিয়েও প্রার্থী না করায় দলের শহর সাধারণ সম্পাদক চন্দন ঘোড়াই নির্দল প্রার্থী হন এবং জয়ী হন। ডিরেক্টর নির্বাচনে আরও একদফা ঝামেলা হয়। রাজ্য থেকে তৃণমূলের পাঠানো প্যানেল অনুযায়ী সকলে মনোনয়ন জমা করেন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর নজিরবিহীনভাবে রাজ্য থেকে পাঠানো প্যানেল বদল করা হয়। তাতে তৃণমূলের শহর সভাপতি চঞ্চল খাঁড়াকে ডিরেক্টর করা হয়। ওই পদে মনোনয়ন জমা করেও তা তুলে নিতে বাধ্য হন মনোজকুমার হালদার।
১২জুলাই বোর্ড গঠনের দিন নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। দলের তরফে পাঠানো প্যানেল মানতে রাজি হননি অধিকাংশ ডিরেক্টর। দলের পক্ষ থেকে হোয়াটসঅ্যাপে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, সেক্রেটারির নাম পাঠানো হয়। প্রাক্তন সরকারি আইনজীবী আব্দুল মোহিতকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্দেশ পাঠানো হয়। কিন্তু, ১২জন ডিরেক্টরের মধ্যে আটজন ওই প্যানেলের বিরুদ্ধে চলে যান। ভোটাভুটির মাধ্যমে চেয়ারম্যান নির্বাচন হয়। দলের প্রাক্তন শহর সভাপতি বিশ্বনাথ মহাপাত্র চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ভাইস চেয়ারম্যান হন পুরসভার ভাইস চেয়ারপার্সন লীনা মাভৈ। কিন্তু, দলের নির্দেশের বাইরে গিয়ে এই ভোটাভুটি মোটেও ভালো চোখে দেখছে না তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব। তাই অবিলম্বে ইস্তফা দেওয়ার জন্য বিশ্বনাথবাবুকে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে ওই বোর্ডের অন্যান্যদেরও পদ থেকে সরে দাঁড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা তৃণমূল সভাপতি সুজিতবাবু বলেন, বোর্ডের চেয়ারম্যানকে সরে দাঁড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা তৃণমূলের চেয়ারপার্সন দীপেন্দ্রনারায়ণবাবু বলেন, বিশ্বনাথবাবুদের সরে যেতে বলা হয়েছে বলে শুনেছি। নতুন চেয়ারম্যান বলেন, আমি বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে কোনও মন্তব্য করব না।