Bartaman Logo
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুর্শিদাবাদ জেলায় ডিপিএসসির চেয়ারম্যান নিজেই টেট অনুত্তীর্ণ

সুপ্রিম রায়ে প্রাথমিকে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের টেট উত্তীর্ণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কেবলমাত্র ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সের শিক্ষকদের এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

মুর্শিদাবাদ জেলায় ডিপিএসসির চেয়ারম্যান নিজেই টেট অনুত্তীর্ণ
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বহরমপুর: সুপ্রিম রায়ে প্রাথমিকে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের টেট উত্তীর্ণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কেবলমাত্র ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সের শিক্ষকদের এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। রাজ্য শিক্ষাদপ্তর জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যানকে টেট অনুত্তীর্ণ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের খুঁজে তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে মুর্শিদাবাদ জেলায় ‘গোল’ বেধেছে। কারণ, জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান তথা খড়গ্রামের তৃণমূল বিধায়ক আশিস মার্জিত নিজেই টেট উত্তীর্ণ নন। তাঁর বর্তমান বয়স ৫২ বছর। ফলে, সুপ্রিম নির্দেশে চাকরি টিকিয়ে রাখতে তাঁকেও টেট পাশ করতে হবে।

Advertisement

আশিসবাবু বলেন, ১৯৯৭ সালে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ থেকে কল পাই। ১০নম্বরের লিখিত পরীক্ষা দিয়ে ১৯৯৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষকতায় যোগ দিয়েছি। তখন জেবিটি(জুনিয়র বেসিক ট্রেনিং) ছিল। রাজ্য সরকারের তরফে রিভিউ পিটিশন করা হয়েছে। দেখা যাক কী হয়। তিনি আরও বলেন, আইন সবার জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য। সেক্ষেত্রে আমাকেও টেট উত্তীর্ণ হতে হবে। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর রায় নির্দেশ দেন, প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত কর্মরত সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাকে টেট উত্তীর্ণ হতে হবে। তার জন্য তিনি নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন। অনুত্তীর্ণদের টেট পাশের জন্য ২০২৭ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম নির্দেশের পর এই জেলায় বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা আতঙ্কে ভুগতে শুরু করেছেন। চাকরি টিকিয়ে রাখতে তাঁরা গভীর সংকটে পড়েছেন।
জেলায় বহু শিক্ষক রয়েছেন যাঁরা মাধ্যমিক পাশ করে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। ২০১০ সালের ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার্স এডুকেশন (এনসিটিই) অ্যাক্টে বলা হয়েছে, টেট পরীক্ষায় বসতে হলে উচ্চ মাধ্যমিকে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর থাকতে হবে। পাশাপাশি, দু’বছরের প্রাথমিক শিক্ষকতার প্রশিক্ষণ (ডিএলএড) দরকার। আর এই নিয়মের গেরোয় পড়ে বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা চরম অস্বস্তিতে ভুগছেন। তাঁদের দাবি, তাঁরা সেই সময়ে যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই শিক্ষকতার চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। আচমকা যোগ্যতার মাপকাঠির বদল এনে তাঁদের গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলা হচ্ছে।
যদিও সুপ্রিম নির্দেশের পর রাজ্য সরকার চাকরি হারানোর আতঙ্কে ভোগা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পাশে দাঁড়িয়ে রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছে। আপাতত শিক্ষক মহল রিভিউ পিটিশনের রায়ের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে। তবে, তাতে তাঁদের মন থেকে অস্বস্তি ও আশঙ্কার মেঘ কাটেনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ